গাজায় চলমান সামরিক অভিযানের পাশাপাশি মধ্যপ্রাচ্যের দেশ কাতারেও সরাসরি হামলা ও বোমা বর্ষণের কথা প্রকাশ্যে স্বীকার করেছেন ইসরাইলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। সম্প্রতি এক টেলিভিশন সাক্ষাৎকারে তিনি দম্ভভরে দাবি করেন যে, যুদ্ধের সময় ইসরাইলি বাহিনী কাতারের মাটিতে আক্রমণ চালিয়েছে। তবে এই স্বীকারোক্তির পর পরিস্থিতি জটিল আকার ধারণ করলে, তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উপস্থিতিতে হোয়াইট হাউস থেকে ফোন করে কাতারের প্রধানমন্ত্রীর কাছে ক্ষমা চাইতে বাধ্য হয়েছিলেন তিনি।
ইসরাইলের অভ্যন্তরীণ রাজনীতিতে নেতানিয়াহুর বিরুদ্ধে অভিযোগ রয়েছে যে, তার প্রত্যক্ষ মদদে কাতার থেকে যে অর্থ গাজায় পাঠানো হয়েছিল, সেই তহবিল ব্যবহার করেই ২০২৩ সালে হামাস বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিয়েছিল। এই অভিযোগের জবাবে নেতানিয়াহু দাবি করেন, ইসরাইলি গোয়েন্দা সংস্থার পরামর্শেই গাজায় ত্রাণের অর্থ পাঠানো হয়েছিল এবং সেই অর্থের পরিমাণ মোট সহায়তার মাত্র দুই শতাংশ।
এদিকে, কাতার শুরু থেকেই এই অভিযোগ দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান করেছে। দেশটির পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, তাদের পাঠানো সব ধরনের মানবিক সহায়তা অত্যন্ত স্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় শুধুমাত্র গাজার সাধারণ মানুষের কল্যাণে ব্যয় করা হয়েছে। উল্লেখ্য, আগামী ২৭ অক্টোবর ইসরাইলে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া নির্বাচনকে সামনে রেখে নেতানিয়াহুর এই ধরনের মন্তব্য ও স্বীকারোক্তি রাজনৈতিক অঙ্গনে নতুন আলোচনার জন্ম দিয়েছে। আল-জাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই ঘটনাপ্রবাহ ইসরাইল ও কাতারের মধ্যকার কূটনৈতিক সম্পর্কের টানাপোড়েনকে আরও স্পষ্ট করে তুলেছে।