পৃথিবীর কক্ষপথে প্রথমবারের মতো অস্ত্র মোতায়েনের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে মার্কিন প্রশাসন। গত ১৫ সেপ্টেম্বর, মঙ্গলবার বিবিসির প্রতিবেদনে এই তথ্য উঠে আসে। মার্কিন বিমানবাহিনীর সচিব ট্রয় মেঙ্ক সোমবার আয়োজিত এক বিমান, মহাকাশ ও সাইবার বিষয়ক সম্মেলনে জানান, বৈরী শক্তির আক্রমণ মোকাবিলা এবং নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা জোরদার করার লক্ষ্যেই কক্ষপথে এই সামরিক সক্ষমতা তৈরি করা হয়েছে। তবে ঠিক কী ধরনের অস্ত্র মোতায়েন করা হয়েছে কিংবা কবে নাগাদ তা স্থাপন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কোনো তথ্য প্রকাশ করেননি তিনি।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্পেস ফোর্সের একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, পরিস্থিতির প্রয়োজনে শত্রুপক্ষের সামরিক সক্ষমতাকে ব্যাহত, অকার্যকর কিংবা ধ্বংস করে দিতে কাইনেটিক ও নন-কাইনেটিক পদ্ধতি ব্যবহারের প্রস্তুতি রয়েছে তাদের। মূলত ২০১৯ সালে প্রতিষ্ঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্সের মূল দায়িত্ব হলো আমেরিকার স্যাটেলাইট এবং মহাকাশীয় সম্পদ রক্ষা করা। মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলোর দাবি, রাশিয়া ও চীন তাদের সামরিক আধুনিকায়নের অংশ হিসেবে মহাকাশকে যুদ্ধক্ষেত্র হিসেবে ব্যবহারের পরিকল্পনা করছে। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, ২০২৪ সালে রাশিয়া অন্য স্যাটেলাইটে হামলার উপযোগী কৃত্রিম উপগ্রহ মহাকাশে পাঠিয়েছে। এছাড়া ২০২২ সালে ইউক্রেন যুদ্ধের পর থেকে প্রায় এক ডজন ইউরোপীয় স্যাটেলাইটের তথ্যে রাশিয়ান উপগ্রহের আড়িপাতার প্রমাণ মিলেছে বলেও দাবি মার্কিন কর্তৃপক্ষের।
উল্লেখ্য যে, ১৯৬৭ সালের একটি আন্তর্জাতিক চুক্তির মাধ্যমে মহাকাশে গণবিধ্বংসী অস্ত্র মোতায়েন নিষিদ্ধ করা হয়েছে। তবে সেই নিষেধাজ্ঞার বাইরে যোগাযোগ ও নজরদারি স্যাটেলাইট অকার্যকর করার মতো প্রযুক্তিগত সক্ষমতা অর্জনে যুক্তরাষ্ট্র, রাশিয়া ও চীন—উভয় দেশই বিভিন্ন ধরনের সামরিক পরীক্ষা চালিয়ে যাচ্ছে। মহাকাশে ক্রমবর্ধমান উন্নয়ন ও বিকাশমান হুমকির মুখে যুক্তরাষ্ট্র এখন নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করার ওপর জোর দিচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যুক্তরাষ্ট্র বিকাশমান হুমকির মোকাবেলা করতে প্রস্তুত উল্লেখ করলেও এই অস্ত্রের ধরন বা কবে এটি স্থাপন করা হয়েছে তা নিয়ে স্পষ্ট কিছু বলেননি তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০১৯ সালে গঠিত মার্কিন স্পেস ফোর্স মূলত আমেরিকান স্যাটেলাইট ও মহাকাশীয় সম্পদ রক্ষায় কাজ করছে।