বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

নতুন হাইকমিশনার নিয়োগে ভারতের অনুমোদনে বিলম্ব: সম্পর্কে নতুন জটিলতা

Reporter Name / ৫৯ Time View
Update : বুধবার, ১৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

বাংলাদেশের পরবর্তী হাইকমিশনার হিসেবে নয়াদিল্লিতে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামকে পাঠানোর প্রস্তাব দিয়েছে ঢাকা। তবে প্রস্তাব পাঠানোর এক মাসেরও বেশি সময় পার হলেও ভারত সরকার এখন পর্যন্ত এই নিয়োগে আনুষ্ঠানিকভাবে সম্মতি বা ‘অ্যাগ্রিমো’ দেয়নি। কূটনৈতিক নিয়ম অনুযায়ী, যেকোনো দেশের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনার নিয়োগের ক্ষেত্রে স্বাগতিক রাষ্ট্রের আগাম অনুমোদন প্রয়োজন হয়। আসাদ আলম সিয়াম বর্তমানে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের পররাষ্ট্র সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। এর আগে তিনি ওয়াশিংটনে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবেও দায়িত্ব সামলেছেন।

ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো রাষ্ট্র যদি কোনো কূটনীতিকের নিয়োগে সম্মতি না দেয়, তবে তার কারণ ব্যাখ্যা করা স্বাগতিক দেশের জন্য বাধ্যতামূলক নয়। অনেক ক্ষেত্রে দেশগুলো কূটনৈতিক সম্পর্কের অস্বস্তি এড়াতে কোনো মন্তব্য না করে নীরবতা পালন করে। বর্তমানে ভারত ও বাংলাদেশের সম্পর্কে চলমান বিভিন্ন টানাপড়েনের প্রেক্ষাপটে এই নীরবতা নতুন প্রশ্নের জন্ম দিয়েছে। বর্তমান হাইকমিশনার এম. রিয়াজ হামিদুল্লাহর মেয়াদ শেষ পর্যায়ে রয়েছে এবং অক্টোবরের মাঝামাঝি সময়ে তার জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে নতুন কর্মস্থলে যোগ দেওয়ার কথা। এমতাবস্থায় নয়াদিল্লিতে দ্রুত নতুন প্রতিনিধি নিয়োগ দেওয়া জরুরি হয়ে পড়েছে।

২০২৪ সালের আগস্টে বাংলাদেশে সরকার পরিবর্তনের পর থেকে দুই দেশের সম্পর্কের সমীকরণে বড় ধরনের পরিবর্তন এসেছে। সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ভারতে অবস্থান এবং তাকে কেন্দ্র করে তৈরি হওয়া রাজনৈতিক উত্তেজনা পরিস্থিতিকে জটিল করে তুলেছে। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের দায়িত্ব গ্রহণের পর সম্পর্ক উন্নয়নের একটি সম্ভাবনা তৈরি হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা কিছুটা স্থিমিত হয়েছে। আগস্ট মাসে তারেক রহমানের নয়াদিল্লি সফর বাতিল হওয়া এবং বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে দিল্লির ব্রিকস সম্মেলনে তার ও বাংলাদেশ সরকারের প্রতিনিধিদের অনুপস্থিতি দুই দেশের মধ্যে বিদ্যমান দূরত্বকেই নির্দেশ করে।

কূটনৈতিক পর্যায়ে টানাপড়েন থাকলেও মাঠপর্যায়ে দুই দেশের প্রাতিষ্ঠানিক যোগাযোগ পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হয়নি। গত সপ্তাহে দুই দেশের কর্মকর্তারা ঢাকায় রেল যোগাযোগ এবং সীমান্তপারের ট্রেন চলাচল নিয়ে বৈঠক করেছেন। গত সাত মাসে একাধিক কারিগরি ওয়ার্কিং গ্রুপ পুনরায় সক্রিয় হয়েছে, যা ইঙ্গিত দেয় যে দৈনন্দিন সহযোগিতার ক্ষেত্রে দুই পক্ষই এখনো আগ্রহী। এছাড়া চলতি বছরের মাঝামাঝি সময়ে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দায়িত্ব নিয়েছেন সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী দীনেশ ত্রিবেদী, যাকে মন্ত্রিসভার সমমর্যাদা দেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে ভারত বাংলাদেশের সাথে সম্পর্ককে গুরুত্ব দেওয়ার বার্তা দিয়েছিল।

শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতির পর ঢাকা চীন ও পাকিস্তানের দিকে বেশি ঝুঁকে পড়েছে বলে নয়াদিল্লির নীতিনির্ধারকদের মধ্যে এক ধরনের অসন্তোষ রয়েছে। ভারত সরকারের পক্ষ থেকে গত এক মাসে তারেক রহমানকে রাষ্ট্রীয় সফর ও ব্রিকস সম্মেলনে যোগ দেওয়ার জন্য দুটি আলাদা আমন্ত্রণ জানানো হলেও কোনোটিই আলোর মুখ দেখেনি। সব মিলিয়ে পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়ামের নিয়োগ অনুমোদনে বিলম্ব দুই দেশের সম্পর্কের অস্বস্তিকে আরও ঘনীভূত করেছে। বিদ্যমান এই পরিস্থিতিতে কূটনৈতিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ এবং নতুন হাইকমিশনার ইস্যুটির দ্রুত সুরাহা হবে কি না, তা নিয়ে এখন বড় ধরনের অনিশ্চয়তা দেখা দিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফলে এরই মধ্যে টানাপড়েনের সম্পর্কে এই ইস্যু আরেকটি জটিলতা সৃষ্টি করেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এতে বলা হয়, এক মাসেরও বেশি সময় পেরিয়ে গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত সেই অনুমোদন পাওয়া যায়নি। চাকরির আরও তথ্য: কূটনৈতিক সম্পর্কবিষয়ক ভিয়েনা কনভেনশন অনুযায়ী, কোনো দেশ নিজের পছন্দের রাষ্ট্রদূত বা হাইকমিশনারকে অন্য দেশে সরাসরি নিয়োগ দিতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এমনকি কোনো দেশ চাইলে এ বিষয়ে নীরবও থাকতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বেশির ভাগ দেশই পুরো প্রক্রিয়াটি নীরবে সম্পন্ন করে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা