বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়াতে ক্যাবের দাবি উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাই হাট: জমে উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবদারুতলা

সিএনএনসহ তিন সংবাদমাধ্যমকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধের হুমকি ট্রাম্পের

Reporter Name / ৬০ Time View
Update : শনিবার, ১৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প সংবাদমাধ্যম সিএনএন, এমএস নাউ এবং পলিটিকোকে হোয়াইট হাউস থেকে নিষিদ্ধ করার কঠোর ঘোষণা দিয়েছেন। শুক্রবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তিনি অভিযোগ করেন, এই প্রতিষ্ঠানগুলো নিয়মিত ‘ভুয়া খবর’ প্রকাশ করে আসছে। তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেছেন, সামনে আরও অনেক সংবাদমাধ্যম তার প্রশাসনের এই নিষেধাজ্ঞার তালিকায় যুক্ত হতে পারে। ক্ষমতার দ্বিতীয় মেয়াদে গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের এই ক্রমবর্ধমান কঠোর মনোভাবের বিষয়টি মার্কিন রাজনীতিতে বড় আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ট্রাম্পের এমন আকস্মিক ঘোষণার পর ওভাল অফিসে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তার চোখে এসব গণমাধ্যম শুধুই ভুয়া সংবাদের উৎস। তিনি সিএনএন ও এমএস নাউ-এর দর্শকসংখ্যা নিয়েও প্রশ্ন তোলেন এবং দেশটিতে সৎ সাংবাদিকতার প্রয়োজনীয়তার কথা উল্লেখ করেন। যদিও এই নিষেধাজ্ঞা কীভাবে কার্যকর করা হবে, সে বিষয়ে শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত বিস্তারিত কোনো নির্দেশনা দেননি প্রেসিডেন্ট।

বাস্তবিক অর্থে সিএনএন, এমএস নাউ ও পলিটিকোর কর্মীরা শুক্রবার দিনভর হোয়াইট হাউস প্রাঙ্গণেই উপস্থিত ছিলেন এবং তাদের সেখান থেকে সরিয়ে দেওয়ার কোনো তাৎক্ষণিক পদক্ষেপ নিতে দেখা যায়নি। এদিকে, ট্রাম্পের এই ঘোষণার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে সিএনএন। তারা এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সংবিধানের অধীনে কোনো সরকারি বাধা ছাড়াই সংবাদ পরিবেশনের অধিকার তাদের রয়েছে এবং তারা হোয়াইট হাউসের নিজস্ব সাংবাদিক দলের নির্ভুল সংবাদ পরিবেশনের পক্ষে অবিচল। পলিটিকোর পক্ষ থেকেও স্পষ্ট জানিয়ে দেওয়া হয়েছে যে, তারা ভবিষ্যতের হোয়াইট হাউসগুলোর কার্যক্রমও একইভাবে পেশাদারিত্বের সাথে কাভার করে যাবে এবং প্রথম সংশোধনী অনুযায়ী তাদের অধিকার রক্ষায় আইনি লড়াই চালিয়ে যাবে। এমএস নাউ অবশ্য এ বিষয়ে তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য করেনি।

গণমাধ্যমের ওপর ট্রাম্পের এই কর্তৃত্ববাদী অবস্থানের ঘটনা এবারই প্রথম নয়। এর আগেও তিনি বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছিলেন, যার বেশ কয়েকটি মামলা বর্তমানে আদালতে বিচারাধীন। গত বছর মেক্সিকো উপসাগরের নামকরণ পরিবর্তন সংক্রান্ত বিরোধের জেরে এপি’র সাংবাদিকদের ওপর বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছিল। এপি সেই ঘটনার প্রেক্ষিতে মামলা দায়ের করেছে। এছাড়া নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াল স্ট্রিট জার্নাল ও বিবিসি-সহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধেও আইনগত ব্যবস্থা নিয়েছেন ট্রাম্প। এ ধরনের আচরণে যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধানের প্রথম সংশোধনীর অধীনে থাকা সংবাদপত্রের স্বাধীনতার বিষয়টি ব্যাপকভাবে প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। বিশেষ করে, হোয়াইট হাউসে নিয়মিত দায়িত্ব পালনকারী পাঁচটি টেলিভিশন নেটওয়ার্কের স্বাধীন সংবাদ সংগ্রহ ব্যবস্থা ট্রাম্পের এই হুমকির ফলে ভেঙে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করছেন বিশ্লেষকরা।

এ বিষয়ে ন্যাশনাল প্রেস ক্লাবের প্রেসিডেন্ট মার্ক শোয়েফ বলেন, প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্ত পছন্দ না হওয়ায় সংবাদমাধ্যমের কণ্ঠরোধ করার বিষয়টি ক্ষমতার অপব্যবহারের একটি সুস্পষ্ট প্রচেষ্টা। তিনি একে আইনি পরিভাষায় ‘ভিউপয়েন্ট ডিসক্রিমিনেশন’ বা মতাদর্শের ভিত্তিতে বৈষম্য হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। পেন আমেরিকার সাংবাদিকতা ও অপতথ্যবিষয়ক পরিচালক টিম রিচার্ডসন ট্রাম্পের উদ্দেশ্যে বলেন, প্রথম সংশোধনী কীভাবে কাজ করে তা প্রেসিডেন্টকে কারও বোঝানো জরুরি। ফ্রিডম অব দ্য প্রেস ফাউন্ডেশনের অ্যাডভোকেসি প্রধান সেথ স্টার্ন মনে করেন, সরকারের সমালোচনা করার কারণে জনগণের ঘর বা ‘পিপলস হাউস’ থেকে সংবাদমাধ্যমকে নিষিদ্ধ করার চেয়ে বড় সাংবিধানিক লঙ্ঘন কল্পনা করা কঠিন। ট্রাম্পের এই আচরণ আগামী দিনগুলোতে মার্কিন প্রশাসন ও গণমাধ্যমের মধ্যকার দূরত্ব ও আইনি সংঘাতকে আরও বাড়িয়ে তুলবে বলে প্রতীয়মান হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কয়েক মিনিট পর ওভাল অফিসে এক অনুষ্ঠানে ট্রাম্পকে তার বক্তব্যের ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: জবাবে তিনি বলেন, ‘কারণ তারা ভুয়া খবর। (তাদের) ভুয়া খবর পড়তে ও দেখতে দেখতে আপনি খুবই ক্লান্ত হয়ে যাবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আপনি যখন সিএনএনের দিকে তাকান, (তখন দেখবেন) এটি শুধুই ভুয়া। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তারা হয়তো নিজেদের আরও ভালো করতে পারে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আমাদের প্রথম সংশোধনী অধিকার সীমিত করার যেকোনো প্রচেষ্টার বিরুদ্ধে আমরা জোরালোভাবে আইনি লড়াই করব।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা