সুইডেনের জাতীয় নির্বাচনে সামান্য সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জনের পর নতুন সরকার গঠনের আনুষ্ঠানিক উদ্যোগ নিয়েছেন সোশ্যাল ডেমোক্রেটিক পার্টির নেত্রী ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন। গত শুক্রবার পার্লামেন্টের স্পিকার আন্দ্রেয়াস নোরলেন তাকে সরকার গঠনের সম্ভাবনা যাচাই ও শরিক দলগুলোর সাথে আলোচনার দায়িত্ব অর্পণ করেছেন। আগামী ২৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ার জন্য সময় নির্ধারিত রয়েছে। যদি অ্যান্ডারসন সরকার গঠনে ব্যর্থ হন, তবে সুযোগ পাবেন বিদায়ী প্রধানমন্ত্রী উলফ ক্রিস্টারসন। গত বৃহস্পতিবার মধ্য ডানপন্থি জোটের নেতা ক্রিস্টারসন পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন, যার নেতৃত্বে থাকা জোটটি নির্বাচনে ১৭৩টি আসন পেয়েছে।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত নির্বাচনে ৩৪৯ আসনের সুইডিশ পার্লামেন্টে বামপন্থি জোট ১৭৬টি আসন অর্জন করেছে। সংখ্যাগরিষ্ঠতার জন্য ১৭৫টি আসনের প্রয়োজন হলেও তাদের হাতে রয়েছে মাত্র তিনটি বাড়তি আসন। এই অতি সামান্য ব্যবধান সরকার গঠনের পথে বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে। সোশ্যাল ডেমোক্র্যাটরা সরকার গঠনের জন্য গ্রিনস, সেন্টার পার্টি ও লেফট পার্টির ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু এই শরিক দলগুলোর চাওয়া-পাওয়া ও রাজনৈতিক অবস্থান ভিন্ন হওয়ায় সমঝোতা করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বিশেষ করে সমাজতান্ত্রিক লেফট পার্টি শর্ত দিয়েছে, তাদের সমর্থন পেতে হলে মন্ত্রিসভায় দলের সদস্যদের অন্তর্ভুক্ত করতে হবে। অন্যদিকে, উদারপন্থি সেন্টার পার্টি এ ধরনের কোনো সরকারকে সমর্থন দেবে না বলে জানিয়ে দিয়েছে, যা নতুন সমীকরণে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করেছে।
দায়িত্ব পাওয়ার পর ইনস্টাগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে ম্যাগডালেনা অ্যান্ডারসন জানান, তিনি গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে সরকার গঠনের চেষ্টা করবেন। এসময় দলীয় স্বার্থের ঊর্ধ্বে উঠে দেশ ও জনগণের কল্যাণে রাজনৈতিক দলগুলোকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানান তিনি। সুইডেনের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে জোটবদ্ধ বা সংখ্যালঘু সরকারের ইতিহাস দীর্ঘ। দেশটিতে সাধারণত চারটি করে দল নিয়ে গঠিত দুটি প্রধান জোট বিদ্যমান থাকে, যার ফলে নির্বাচনের পর জটিল সমঝোতার প্রয়োজন হয়। এর আগে ২০২২ সালের নির্বাচনেও সরকার গঠন প্রক্রিয়ায় এক মাসের বেশি সময় অতিবাহিত হয়েছিল। বর্তমান পরিস্থিতিতে রাজনৈতিক দলগুলোর কৌশলী অবস্থানের ওপরই নির্ভর করছে সুইডেনের পরবর্তী সরকার গঠন।” প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজনীয় ১৭৫ আসনের চেয়ে মাত্র তিনটি আসন বেশি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এ সময় সব রাজনৈতিক শক্তিকে দলীয় কৌশল পাশে রেখে সুইডেন ও দেশটির জনগণকে অগ্রাধিকার দেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।