ভারতের রায়চুর জেলার সিন্ধনুর উপজেলার আরএইচ ক্যাম্প-৫ এলাকায় একটি কৃষিজমি থেকে স্নেহা (২৫) নামের এক তরুণীর নিথর দেহ উদ্ধার করেছে পুলিশ। তিনি পার্শ্ববর্তী আরএইচ ক্যাম্প-৪ এলাকার বাসিন্দা ছিলেন। স্থানীয়রা মাঠের মধ্যে তাকে পড়ে থাকতে দেখে আইন-শৃঙ্খলা বাহিনীকে খবর দেন। পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে ভুক্তভোগীর পাশে তার দেড় বছর বয়সী সন্তানকে কান্নারত অবস্থায় দেখতে পায়। শিশুটি তার মায়ের রক্তাক্ত দেহ আঁকড়ে ধরেছিল, যা উপস্থিত সবার হৃদয় ছুঁয়ে যায়। ঘটনাস্থলে নারীর শরীরে তখনও মৃদু শ্বাস ছিল। দ্রুত তাকে উদ্ধার করে সিন্ধনুর তালুক হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। পুলিশের ধারণা, ভারী কোনো পাথর দিয়ে মাথায় ও শরীরে আঘাত করে তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়েছে।
এ ঘটনায় হত্যাকাণ্ডের রহস্য উদ্ঘাটনে সিন্ধনুর গ্রামীণ থানা-পুলিশ নিবিড় তদন্ত শুরু করেছে। ইতোমধ্যে নিহত নারীর স্বামী অমিত এবং তার কথিত প্রেমিক শুভমকে আটক করা হয়েছে। প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা যায়, প্রায় চার বছর আগে স্নেহার সঙ্গে অমিতের বিয়ে হয়। তবে গত চার মাস ধরে শুভমের সঙ্গে স্নেহার পরকীয়া সম্পর্কের অভিযোগ রয়েছে। এই হত্যাকাণ্ডের প্রকৃত কারণ এবং এর পেছনে কারা জড়িত, তা নিশ্চিত হতে পুলিশ আটককৃতদের ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদ করছে। সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের জন্য তরুণীর মরদেহ ওই হাসপাতালের মর্গে পাঠানো হয়েছে। আইনি প্রক্রিয়া সম্পন্ন হওয়ার পর তার মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হবে বলে জানিয়েছে পুলিশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মাকে জাগিয়ে তোলার এই ব্যর্থ চেষ্টা আর অবোধ কান্নাই যেন জানান দিচ্ছিল ঠিক কতটা বর্বরোচিত ঘটনার শিকার হয়েছেন ওই নারী। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আর তার রক্তাক্ত দেহের ওপর আঁকড়ে ধরে একটানা কেঁদে চলেছে দেড় বছর বয়সী এক অবুঝ শিশু। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ভারতের কর্ণাটকের রায়চুর জেলায় এমনই এক হৃদয়বিদারক ও নৃশংস হত্যাকাণ্ডের ঘটনা প্রকাশ্যে এসেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হত্যার পর দুর্বৃত্তরা তার দেড় বছরের কন্যাসন্তানটিকে রক্তাক্ত মরদেহের ওপর বসিয়ে রেখে চলে যায়।