বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়াতে ক্যাবের দাবি উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাই হাট: জমে উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবদারুতলা

মানবাধিকার সংস্কারে প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ

Reporter Name / ৬৬ Time View
Update : বুধবার, ২৩ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

মানবাধিকার সংস্কারের বিষয়ে ক্ষমতাসীন বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) যে প্রতিশ্রুতি দিয়েছিল, তা থেকে তারা সরে এসেছে বলে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা হিউম্যান রাইটস ওয়াচ (এইচআরডব্লিউ) জানিয়েছে। সংস্থাটির পর্যবেক্ষণ অনুযায়ী, চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাসে জাতীয় সংসদে পাস হওয়া তিনটি নতুন আইন মানবাধিকার সুরক্ষার পরিধি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে দিয়েছে। এর ফলে অন্তর্বর্তী সরকারের সময়কালে (আগস্ট ২০২৪ থেকে ফেব্রুয়ারি ২০২৬) গৃহীত বিভিন্ন সুরক্ষা ব্যবস্থা ও রক্ষাকবচগুলো বাতিল হয়ে গেছে, যা গুম ও বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ডের মতো ভয়াবহ ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটার ঝুঁকি তৈরি করেছে।

তারেক রহমানের নেতৃত্বাধীন বর্তমান সরকার নির্বাচিত হওয়ার পর জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের স্বাধীনতা ও তদন্তের ক্ষমতা সীমিত করে আইন পাস করেছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার অধ্যাদেশের মাধ্যমে কমিশনকে গুম প্রতিরোধ এবং দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের শক্তিশালী ক্ষমতা দিয়েছিল, বর্তমান সরকারের নতুন আইনে তা অনেকটাই খর্ব করা হয়েছে। এখন কমিশন কোনো নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে সরাসরি তদন্ত করার পরিবর্তে শুধুমাত্র প্রতিবেদন তলব করার সুযোগ পাবে। এমনকি বাহিনীর পক্ষ থেকে সন্তোষজনক সাড়া না পেলে নিজস্ব অনুসন্ধান শুরুর বিষয়টিও রাখা হয়েছে বেশ অস্পষ্টভাবে। এছাড়া কমিশন সদস্যদের নিয়োগ প্রক্রিয়াতেও সরকারি প্রভাব পুনরায় ফিরিয়ে আনা হয়েছে, যা প্যারিস নীতিমালার মানদণ্ডের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নয়।

গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার আইনের ক্ষেত্রেও অন্তর্বর্তী সরকারের সংস্কারের বিপরীত চিত্র দেখা যাচ্ছে। আগের অধ্যাদেশে কমিশনকে গোপন বন্দিশালা পরিদর্শনের যে ক্ষমতা দেয়া হয়েছিল, তা নতুন আইনে রহিত করা হয়েছে। এছাড়া আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের রোম সংবিধির আদলে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দায়বদ্ধতা নিশ্চিতের যে বিধান রাখা হয়েছিল, তা বদলে সরাসরি নির্দেশের প্রমাণ উপস্থাপনের বাধ্যবাধকতা যুক্ত করা হয়েছে। এটি অপরাধীদের আড়াল করার একটি কৌশল হিসেবে কাজ করবে বলে সংস্থাটি আশঙ্কা করছে।

নিরাপত্তা খাতের সংস্কারের ক্ষেত্রেও বড় ধরনের ঘাটতি স্পষ্ট হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর পাস হওয়া স্পেশাল রেসপন্স ব্যাটালিয়ন আইনের মাধ্যমে বিতর্কিত র‌্যাবকে বিলুপ্ত করার দাবি করা হলেও বাস্তবে কেবল নাম পরিবর্তন করা হয়েছে। এসআরবি (SRB) নামে নতুন এই বাহিনীতে পুরনো বাহিনীর সব জনবল, সম্পদ এবং নথি স্থানান্তর করা হয়েছে। এমনকি লোগো অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে। এ বিষয়ে এশিয়া অঞ্চলের পরিচালক এলেইন পিয়ারসন সতর্ক করে বলেন, বাহিনীর সাবেক সাতজন শীর্ষ কর্মকর্তা যুক্তরাষ্ট্রের নিষেধাজ্ঞার মুখে রয়েছেন এবং অনেকেই ট্রাইব্যুনালে বিচারের মুখোমুখি। নতুন বাহিনীতে জবাবদিহিতা বা নজরদারির কোনো কার্যকর বিধান না থাকা উদ্বেগজনক।

২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত আওয়ামী লীগ শাসনামলে সংঘটিত ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলোর স্মৃতি স্মরণ করিয়ে দিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচ বলেছে, বর্তমান সরকারও শত শত রাজনৈতিক প্রতিপক্ষকে নির্বিচারে আটকে রেখেছে। কমিশনকে শক্তিশালী করতে গত বছরের উদ্যোগগুলোর সুবিধা নষ্ট করে সরকার এখন বরং নিরাপত্তা বাহিনীকে সুরক্ষা দিচ্ছে। এলেইন পিয়ারসন আরও উল্লেখ করেন যে, যে মানুষগুলো জীবন বাজি রেখে পরিবর্তনের জন্য লড়াই করেছিল, তাদের আশাহত করা অনুচিত।

এই পরিস্থিতিতে বাংলাদেশের আন্তর্জাতিক অংশীদারদের, বিশেষ করে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও বৃটেনের উচিত সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ করা। হিউম্যান রাইটস ওয়াচ দাবি করেছে, নতুন আইনের অধীনে তৈরি নীতিমালায় যেন মানবাধিকার যাচাই, স্বাধীন নজরদারি এবং গ্রেপ্তারকৃতদের সুরক্ষার বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। অন্যথায় বাংলাদেশের মানবাধিকার পরিস্থিতির অবনতি রোধ করা কঠিন হয়ে পড়বে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংস্থাটির মতে, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত দায়িত্ব পালন করা অন্তর্বর্তী সরকারের তৈরি করা বিভিন্ন রক্ষাকবচ এসব আইনের মাধ্যমে তুলে নেয়া হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উপরন্তু নিয়মিত পুলিশের ক্ষেত্রে যেটুকু সুরক্ষামূলক বিধান প্রযোজ্য, এই বাহিনীর ক্ষেত্রে তাও রাখা হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সংস্থাটি আরও উল্লেখ করে, ২০০৯ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলো ব্যাপক মানবাধিকার লঙ্ঘন করেছে, যার মধ্যে বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, জোরপূর্বক গুম, সমালোচকদের নির্বিচারে গ্রেপ্তার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তৎকালীন আইনে সরকার বা সরকার-ঘনিষ্ঠদের প্রাধান্য থাকা একটি কমিটির মাধ্যমে কমিশনারদের বাছাই করা হতো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: প্রথমবারের মতো নির্যাতনবিরোধী আন্তর্জাতিক সনদের প্রটোকল অনুযায়ী গোপন বন্দিশালা বা আটককেন্দ্রগুলো পরিদর্শন ও পর্যবেক্ষণের লক্ষ্যে একটি জাতীয় প্রতিরোধ ব্যবস্থা গঠন করা হয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিএনপি প্রশাসন অধ্যাদেশটিকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাতিল হতে দেয়। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: গত ৬ সেপ্টেম্বর বিরোধী আইনপ্রণেতাদের ওয়াকআউটের মধ্য দিয়ে সংসদে পাস হওয়া নতুন আইনে নিরাপত্তা বাহিনীর বিরুদ্ধে মানবাধিকার লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি তদন্তের ক্ষমতা মানবাধিকার কমিশনকে দেয়া হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে অস্পষ্ট একটি ধারায় বলা হয়েছে, সংশ্লিষ্ট বাহিনী সাড়া না দিলে বা প্রতিবেদন সন্তোষজনক না হলে কমিশন নিজস্ব অনুসন্ধান শুরু করতে পারবে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা