বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

শি জিনপিংকে মার্কিন অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন ট্রাম্প: রাষ্ট্রদূত

Reporter Name / ৫৭ Time View
Update : সোমবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংকে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র কেনার প্রস্তাব দিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। চীনের কাছে মার্কিন সামরিক সরঞ্জাম রপ্তানিতে দীর্ঘদিনের বিধিনিষেধ থাকা সত্ত্বেও ট্রাম্প এ প্রস্তাব দেন। চীনে নিযুক্ত মার্কিন রাষ্ট্রদূত ডেভিড পারডিউ ফক্স নিউজ সানডে-তে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে এ তথ্য জানান। পারডিউ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায়ই বলেন যে যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বজুড়ে অস্ত্র বিক্রি করে। সেই ধারাবাহিকতায় তিনি শি জিনপিংকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেছিলেন যে, তিনি কিছু অস্ত্র কিনতে আগ্রহী কি না। তবে ট্রাম্প কখন এ প্রস্তাব দিয়েছিলেন, কী ধরনের অস্ত্র নিয়ে আলোচনা হয়েছিল কিংবা শি কী জবাব দিয়েছিলেন, সে বিষয়ে রাষ্ট্রদূত কোনো তথ্য দেননি। পারডিউ বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প সব সময়ই বলেন, আমরা সারা বিশ্বের অন্যান্য দেশের কাছে অস্ত্র বিক্রি করি। মে মাসে বেইজিংয়ে তাদের প্রথম বৈঠক হয়। এরপর গত সপ্তাহে তিন দিনের রাষ্ট্রীয় সফরে ওয়াশিংটনে যান শি।

আইনি বাধা ও তাইওয়ান ইস্যু

বাস্তবে চীনের কাছে মার্কিন অস্ত্র বিক্রি বড় ধরনের আইনি বাধার সম্মুখীন। ১৯৯০ সালে মার্কিন কংগ্রেস চীনের মূল ভূখণ্ডে ইউএস মিউনিশনস লিস্টে থাকা প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম রপ্তানিতে বিধিনিষেধ আরোপ করে। যদিও সীমিত ক্ষেত্রে ছাড়ের সুযোগ রয়েছে, তবে এই বিধিনিষেধ দশকের পর দশক বহাল রয়েছে। এদিকে এক চীন নীতি মানলেও তাইওয়ানের প্রধান অস্ত্র সরবরাহকারী হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ভূমিকা অব্যাহত। ১৯৭৯ সালের তাইওয়ান রিলেশনস অ্যাক্ট অনুযায়ী, তাইওয়ানকে আত্মরক্ষার সক্ষমতা বজায় রাখতে প্রয়োজনীয় প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম ও সেবা সরবরাহ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ যুক্তরাষ্ট্র। বেইজিং বারবার ওয়াশিংটনের এই সামরিক সহায়তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। চীনের দাবি, এসব অস্ত্র বিক্রি তাদের সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং তাইওয়ান প্রণালিতে সম্পর্ককে অস্থিতিশীল করে তোলে। শি’র ওয়াশিংটন সফরের আগে চীনের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রকে চরম সতর্কতা অবলম্বনের আহ্বান জানিয়েছিল। তবে বাস্তবে ওয়াশিংটন বেইজিংকে এমন কী অস্ত্র সরবরাহ করতে পারে, যা চীন নিজেই তৈরি করে না- সেটিও স্পষ্ট নয়।

অস্ত্র প্যাকেজ ও দর-কষাকষি

  • গত ডিসেম্বরে ট্রাম্প প্রশাসন তাইওয়ানের জন্য ১১ বিলিয়ন ডলারের একটি অস্ত্র প্যাকেজ অনুমোদন করে, যা এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্যাকেজ।
  • প্রায় ১৪ বিলিয়ন ডলারের আরেকটি অস্ত্র প্যাকেজ কয়েক মাস ধরে আটকে রয়েছে। ট্রাম্প একে দর-কষাকষির হাতিয়ার হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
  • দুই নেতার বৈঠকের পর হোয়াইট হাউসের নথিতে আটকে থাকা ওই প্যাকেজ নিয়ে কোনো সিদ্ধান্তের কথা জানানো হয়নি।

রাষ্ট্রদূত পারডিউ দাবি করেন, পূর্ববর্তী প্রেসিডেন্টদের তুলনায় ট্রাম্প ইতিমধ্যে তাইওয়ানের জন্য উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি অস্ত্র অনুমোদন করেছেন। তার মতে, শি’কে ট্রাম্পের করা প্রশ্নটি আনুষ্ঠানিক অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাব নয়, বরং প্রেসিডেন্টের চুক্তি ও দর-কষাকষিনির্ভর রাজনৈতিক পদ্ধতির একটি উদাহরণ মাত্র। তাইওয়ান ইস্যুতে ট্রাম্পের রেকর্ডের পক্ষে যুক্তি দিতে গিয়ে পারডিউ এ মন্তব্য করেন।

চীনের উৎপাদন সক্ষমতা ও প্রযুক্তিগত চ্যালেঞ্জ

চীন বর্তমানে প্রচলিত অস্ত্রের প্রায় সব ক্ষেত্রেই নিজস্ব উৎপাদন সক্ষমতায় স্বয়ংসম্পূর্ণ। জাহাজ নির্মাণের ক্ষেত্রে চীনের শিল্প উৎপাদন সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় প্রায় ২৩০ গুণ বেশি বলে ধারণা করা হয়। কংগ্রেসের শুনানিতে দেয়া তথ্য অনুযায়ী, ছোট আকারের ড্রোন উৎপাদনে চীনের সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের তুলনায় ১০০ গুণেরও বেশি। যুক্তরাষ্ট্রের হাতে মূলত কিছু অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও কারিগরি জ্ঞান রয়েছে, তবে এগুলো অত্যন্ত সংবেদনশীল হওয়ায় প্রধান কৌশলগত প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের সঙ্গে তা ভাগ করে নেয়ার সম্ভাবনা খুবই কম। ফলে ট্রাম্পের অস্ত্র কেনার প্রস্তাবটি বাস্তবে কার্যকর হওয়া নিয়ে বিশ্লেষকদের মধ্যে সংশয় রয়েই গেছে। বিভিন্ন বহুল উদ্ধৃত তালিকায় চীনের অস্ত্র উৎপাদন বা বিক্রির সক্ষমতা যুক্তরাষ্ট্রের পেছনে রয়েছে বলে দেখানো হলেও এসব তালিকা মূলত ডলারের হিসাবে অস্ত্র বিক্রির আয়ের ওপর ভিত্তি করে তৈরি, প্রকৃত অস্ত্র উৎপাদনের পরিমাণের ওপর নয়।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা