ভারতের ভোটার তালিকায় বিশেষ নিবিড় সংশোধন বা এসআইআর প্রক্রিয়ায় বড় ধরনের অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই প্রক্রিয়ায় গণহারে ভোটারদের নাম তালিকা থেকে বাদ দেয়া হচ্ছে—এমন অভিযোগ তুলে ভারতের প্রধান নির্বাচন কমিশনার জ্ঞানেশ কুমারের পদত্যাগের দাবিতে ফুঁসে উঠেছে বিভিন্ন সংগঠন। শুক্রবার, ২ অক্টোবর দিল্লির যন্তর মন্তরে জড়ো হয়ে তারা এই প্রতিবাদ কর্মসূচিতে অংশ নেন। বিক্ষোভকারী দলগুলোর মধ্যে কয়েকটি রাজনৈতিক দলের পাশাপাশি এআইএসএ, এসএফআই ও এনএসইউআইয়ের মতো ছাত্র সংগঠনগুলোও উল্লেখযোগ্য ভূমিকা রাখছে।
বিক্ষোভের তীব্রতা সামাল দিতে স্থানীয় প্রশাসন কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। পুলিশের দেয়া তথ্যমতে, এই বিক্ষোভের জন্য আয়োজকদের পক্ষ থেকে কোনো অনুমতি নেয়া হয়নি। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে শুক্রবার সকাল ৯টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত মোট ১২ ঘণ্টার জন্য যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের দেড় কিলোমিটার এলাকাজুড়ে ইন্টারনেট পরিষেবা বন্ধ রাখার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। সংশ্লিষ্ট সূত্রের বরাতে জানা গেছে, এয়ারটেল, রিল্যায়েন্স জিও ও ভোডাফোন আইডিয়ার মতো টেলিকম পরিষেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানগুলোকে এই নির্দেশনা কার্যকর করতে বলা হয়। এর আগে মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস নিয়ে তৎকালীন কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) আন্দোলনের সময়ও একই ধরনের কঠোর পদক্ষেপ নেয়া হয়েছিল।
পিটিআইয়ের তথ্য অনুযায়ী, কঠোর নিরাপত্তা বলয় ও ইন্টারনেট সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার পরও বিক্ষোভ অব্যাহত ছিল। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত পুলিশ যন্তর মন্তর ও এর আশপাশের এলাকা থেকে সাতশ’রও বেশি আন্দোলনকারীকে আটক করেছে। প্রশাসনিক তরফ থেকে বিক্ষোভকারীদের সরিয়ে দিয়ে পরিস্থিতি স্বাভাবিক করার চেষ্টা চলছে। তবে নির্বাচন কমিশনারের পদত্যাগের দাবিতে সরব সংগঠনগুলোর পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া বা পরবর্তী কর্মসূচির বিষয়ে এখনো স্পষ্ট কিছু জানানো হয়নি। রাজধানী দিল্লির নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করা হয়েছে এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের সতর্ক অবস্থানে থাকতে দেখা গেছে। এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত যন্তর মন্তর ও আশপাশের এলাকা থেকে প্রায় ৭০০ বিক্ষোভকারীকে আটক করা হয়েছে।