শান্তিতে নোবেল পুরস্কার পাওয়ার প্রত্যাশায় গত বছর বিশ্বজুড়ে জোর প্রচারণা চালিয়েছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। জাতিসংঘের মঞ্চে দাঁড়িয়ে তিনি দাবি করেছিলেন, সাতটি যুদ্ধ থামানোর কৃতিত্ব তার। কিন্তু শেষ পর্যন্ত সেই কাঙ্ক্ষিত পুরস্কারটি তার হাতে ওঠেনি। তবে ২০২৬ সালের পরিবর্তিত বিশ্ব বাস্তবতায় ট্রাম্পের নোবেল জয়ের সম্ভাবনা নিয়ে নতুন করে আলোচনা শুরু হয়েছে। এবার তিনি নিজেই প্রথমবারের মতো মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়ে পড়েছেন, যা তার ভাবমূর্তিকে ভিন্ন মাত্রা দিয়েছে। সাংবাদিক তৌফিক ইমরোজ খালিদী মারা গেছেন। বিমানবন্দরে বিশৃঙ্খলা: জামায়াতের আখতারুজ্জামান গ্রেপ্তার। বাংলাদেশ দলের সহকারী কোচ হলেন দক্ষিণ আফ্রিকার মাকেতা। ২০২৬ সালে এসে বাস্তবতা এখন ভিন্ন। ‘অশান্তির’ পথে হেঁটে প্রথম মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে ইরানের বিরুদ্ধে সরাসরি যুদ্ধে জড়িয়েছেন ট্রাম্প। এমনকি পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরীফ, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুসহ বেশি কয়েকজন নেতা ট্রাম্পের প্রতি প্রকাশ্যে সমর্থন জানান। এর কয়েক সপ্তাহ পর ‘গণতান্ত্রিক ভেনেজুয়েলা প্রতিষ্ঠার’ প্রচেষ্টায় ট্রাম্পের সমর্থন আদায়ের লক্ষ্যে মাচাদো তার নোবেল পদকটি ট্রাম্পকে উপহার দেন। নোবেল পুরস্কার নিয়ে এই ৫ তথ্য জানেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত বছরের ঘটনাবলি এবারের নোবেল কমিটির সিদ্ধান্তে ব্যাপক প্রভাব ফেলবে। বিশেষ করে, পুরস্কার জেতার পর মাচাদোর পদক ট্রাম্পকে দিয়ে দেওয়া এবং ট্রাম্পের পক্ষ থেকে নরওয়ের নোবেল কমিটিকে দায়ী করার ঘটনাটি অস্বস্তিতে ফেলেছিল অনেককে। অসলোভিত্তিক পিস রিসার্চ ইনস্টিটিউটের ভারপ্রাপ্ত পরিচালক হাকন গেরলোভের মতে, কমিটি এবার বিশেষ সতর্কতা অবলম্বন করবে। তারা এমন ব্যক্তি বা সংস্থাকে বেছে নেবে যারা ট্রাম্পের চাপের মুখে নতি স্বীকার করবে না। যদিও বিজয়ী নির্বাচনের দায়িত্বে থাকা সংস্থাটির সিদ্ধান্তে ট্রাম্পের প্রভাব থাকবে বলে মনে করছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
কমিটির সম্ভাব্য লক্ষ্যের মধ্যে রয়েছে আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত (আইসিসি) অথবা আন্তর্জাতিক বিচার আদালত (আইসিজে)। ওয়াশিংটন আইসিসির বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞার প্রস্তুতি নেওয়ায়, এর প্রতিবাদ হিসেবে সংস্থাটিকে নোবেল দেওয়া হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। এদিকে, ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে জাতিসংঘের বিশেষ দূত ফ্রান্সেসকা আলবানিজ এবং পোপ লিও-ও শক্তিশালী প্রার্থী হিসেবে আলোচনায় রয়েছেন। অভিবাসীদের প্রতি সম্মান এবং শান্তিপূর্ণ উপায়ে সংঘাত নিরসনের পক্ষে অবস্থানের জন্য পোপকে শক্তিশালী প্রতিযোগী ধরা হচ্ছে, যদিও ট্রাম্প তাকে ‘দুর্বল’ বলে সমালোচনা করেছিলেন।
ইতিহাসবিদ ওইভিন্দ স্টেনেরসেনের মতে, ট্রাম্পের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার জন্য নোবেল কমিটির ওপর একধরনের অলিখিত চাপ রয়েছে। উদার গণতন্ত্র ও আন্তর্জাতিক আইনের পক্ষে দৃঢ় বার্তা দিতেই সম্ভবত এবার কোনো সংঘাতহীন প্রার্থীকে বেছে নেওয়া হবে। এছাড়া গৃহযুদ্ধে সহায়তাকারী সুদানের ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স রুমস’ বা ‘সেভ দ্য চিলড্রেন’-এর মতো মানবিক সংস্থাগুলোও বিবেচনায় থাকতে পারে। আগামী ৯ অক্টোবর শান্তিতে নোবেল বিজয়ীর নাম ঘোষণার মাধ্যমে সব রহস্যের অবসান ঘটবে।