রাজনৈতিক দলগুলো গণঅভ্যুত্থানের পর সুবিধাজনক স্থানে পৌঁছে জুলাইয়ের চেতনাকে অবহেলা করছে বলে মন্তব্য করেছেন ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি বলেন, জুলাইকে বাঁচিয়ে রাখা হলে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি করা সম্ভব নয় বলেই একশ্রেণির দল এটিকে নিজেদের জন্য হুমকি মনে করছে। ১৪০০ শহীদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে যারা প্রভাব বিস্তার করছে, তারাই এ চেতনাকে অবহেলার তালিকায় ঠেলে দিয়েছে। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে (কুবি) অবস্থান কর্মসূচি পালনকালে তিনি এসব কথা বলেন। শহীদ ওসমান হাদি হত্যার বিচারসহ তিন দফা দাবিতে ইনকিলাব মঞ্চ দেশব্যাপী ৩১ দিনব্যাপী ‘মার্চ ফর ইনসাফ’ কর্মসূচি পালন করছে, যার অংশ হিসেবে কুবিতে এই অবস্থান নেয়া হয়।
বক্তব্যে গণঅভ্যুত্থান-পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের ভূমিকার সমালোচনা করেন ইনকিলাব মঞ্চের এই নেতা। তিনি বলেন, সাধারণ মানুষ যখন রাজপথে জীবন বাজি রেখে লড়াই করছিল, তখন একশ্রেণির রাজনৈতিক নেতা সচিবালয় ও বিভিন্ন দূতাবাসে বসে পরবর্তী সরকারে কে কোন মন্ত্রণালয় পাবে, তা নিয়ে দর-কষাকষিতে ব্যস্ত ছিলেন। এ ছাড়া তিনি বিভিন্ন রাজনৈতিক দলকে জুলাই গণহত্যার বিচার ও ‘জুলাই সনদ’ বাস্তবায়নে দৃশ্যমান ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান। সর্বাত্মক প্রতিকূলতার মধ্যেও ইনকিলাব মঞ্চের নেতাকর্মীরা সেই লড়াই শেষ পর্যন্ত চালিয়ে যাবে।’।
জুলাই ফাউন্ডেশনের কার্যক্রম ও রাষ্ট্রীয় বরাদ্দের অগ্রাধিকার নিয়ে প্রশ্ন তোলেন আব্দুল্লাহ আল জাবের। তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা থেকে কুমিল্লা পর্যন্ত রেললাইন তৈরিতে ৮৪ হাজার কোটি টাকা বরাদ্দের সুযোগ থাকলেও সরকারের কাছে শহীদদের স্মৃতি ও জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখার অর্থ থাকে না। কারণ হিসেবে তিনি জানান, মেগা প্রকল্প হলে আমলাদের জন্য বেগমপাড়ায় বাড়ি কেনা কিংবা স্বজনদের বিদেশে লেখাপড়া করানোর পথ সুগম হয়। অন্যদিকে জুলাই বেঁচে থাকলে চাঁদাবাজি ও টেন্ডারবাজি বন্ধ হয়ে যাবে।
শহীদ ওসমান হাদির কথা স্মরণ করে জাবের বলেন, ৩২ বছর বয়সে প্রাণ দেওয়া ওসমান হাদি বলে গেছেন, জুলাইয়ের রক্ত কোনো দল বা ব্যক্তির ক্ষমতায় যাওয়ার সিঁড়ি নয়; এটি নতুন বাংলাদেশ গড়ার অঙ্গীকার। যে লড়াইয়ের মশাল তিনি জ্বালিয়ে গেছেন, প্রতিকূল পরিস্থিতি সত্ত্বেও ইনকিলাব মঞ্চ তা জ্বালিয়ে রাখবে। একই সঙ্গে শাকিল ইসলাম হত্যার বিচারের দাবি জানিয়ে তিনি ঘোষণা দেন, এ বিচার নিশ্চিতে প্রয়োজন হলে গণ-অর্থায়নের মাধ্যমে ইনকিলাব মঞ্চ ৪০ লাখ টাকা সহায়তা প্রদান করবে।