ক্ষমতাচ্যুত হয়ে ভারতে অবস্থানরত ফাঁসির দণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশে প্রবেশ করা মাত্রই তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে বলে স্পষ্ট জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। তিনি বলেছেন, শেখ হাসিনা কীভাবে দেশে ফিরবেন বা তাঁর কাছে পাসপোর্ট আছে কি না—সেটি সরকারের সমস্যা নয়, বরং সেটি তাঁর নিজের বিষয়। তবে দেশের সীমানায় ঢোকার সঙ্গে সঙ্গেই আইন অনুযায়ী তাঁর বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
বৃহস্পতিবার (৩০ জুলাই) সচিবালয়ে আইনগত সহায়তা প্রদান বিষয়ক এক সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষর অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
শেখ হাসিনার দেশে ফেরার বিষয়ে আইনমন্ত্রী বলেন, “তিনি যদি বাংলাদেশের আইনের প্রতি শ্রদ্ধা দেখিয়ে দেশে এসে আত্মসমর্পণ করতে চান, তবে সারেন্ডার করার আগেই হয়তো তাঁকে গ্রেপ্তার করা হবে। তবে তাঁর সেই অধিকার তো আছে। তিনি আসলে আসবেন, আইন তার নিজস্ব গতিতে চলবে। আইনের ব্যত্যয় ঘটিয়ে কিছু করা হবে না; আইন আমাদের যে কর্তৃত্ব দিয়েছে, আমরা সেই ক্ষমতা প্রয়োগ করব। উনি কীভাবে আসবেন, সেটা ওনার সমস্যা, আমার নয়। দেশের চৌহদ্দির মধ্যে ঢুকলেই আইন অনুযায়ী পদক্ষেপ নেওয়া হবে। পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও তাঁর প্রত্যর্পণের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে। ল্প
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়া সম্পর্কিত এক প্রশ্নের জবাবে আইনমন্ত্রী জানান, ট্রাইব্যুনালের বিচার নিয়ে হিউম্যান রাইটস ওয়াচের প্রকাশিত প্রতিবেদন সরকার আমলে নিয়েছে এবং তা খতিয়ে দেখবে। এছাড়া বাগেরহাটের মিরাজ শেখকে গুমের অভিযোগের বিষয়ে যথাযথ তদন্ত করে তাঁর পরিবারকে আইনি সহায়তা দেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।
আসন্ন রাষ্ট্রপতি নির্বাচন প্রসঙ্গে আইনমন্ত্রী বলেন, সাংবিধানিক নিয়ম অনুযায়ী সেপ্টেম্বরের নিয়মিত অধিবেশনেই রাষ্ট্রপতি নির্বাচন হওয়ার কথা রয়েছে। তবে সরকার যদি বিশেষ কোনো প্রয়োজন মনে করে, তবে আগস্ট মাসেও বিশেষ অধিবেশন ডাকতে পারে। তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনা হয়নি বলে জানান তিনি।