চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় আইনের তোয়াক্কা না করে দিনরাত অবাধে চলছে অবৈধ ড্রেজার দিয়ে মাটি কাটার মহোৎসব। উপজেলার বিভিন্ন ইউনিয়নের একাধিক এলাকায় সরকারি খাল ও কৃষিজমি থেকে মাটি কেটে নেওয়া হলেও সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের দৃশ্যমান কোনো পদক্ষেপ না থাকায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন স্থানীয় এলাকাবাসী।
কোথায় কোথায় চলছে অবৈধ মাটি কাটা?
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কচুয়া উপজেলার ১নং সাচার ইউনিয়নের উত্তরাঞ্চলের শুয়ারুল এলাকার একটি সরকারি বৃহৎ গাং (খাল) থেকে দীর্ঘদিন ধরে অবৈধভাবে মাটি উত্তোলন করে আসছে স্থানীয় এক প্রভাবশালী চক্র।
এছাড়া সাচার হাতিরবন জয়নগর, রাগদৈল বজুরিখোলা, ২নং পাথৈর ইউনিয়নের বারৈয়ারা তারনী আটোমোর এবং বিতারা ইউনিয়নের জলা বিতারা দুর্গাপুর, শিলাস্তান, টেলিসহ বিভিন্ন এলাকায় দীর্ঘদিন ধরে ড্রেজার মেশিন বসিয়ে নির্বিচারে মাটি কাটার অভিযোগ উঠেছে। স্থানীয়দের দাবি, দিনের পর দিন এমন ধ্বংসাত্মক কার্যক্রম চললেও কোনো কার্যকরী পদক্ষেপ নিতে দেখা যাচ্ছে না সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে।
পরিবেশ ও কৃষিজমির মারাত্মক হুমকির মুখে
এলাকাবাসীর আশঙ্কা, অপরিকল্পিত ও অবৈধ উপায়ে মাটি কাটার ফলে একদিকে যেমন নষ্ট হচ্ছে উর্বর কৃষিজমি, অন্যদিকে ভেঙে পড়ছে গ্রামীণ রাস্তাঘাট। হুমকির মুখে পড়েছে স্থানীয় পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্য। শুয়ারুলের সরকারি খাল থেকে এভাবেই মাটি উত্তোলন করায় বর্ষা মৌসুমে ভাঙন ও জলাবদ্ধতার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে ‘ব্যবস্থাপনার’ মাধ্যমে পরিচালনার!
এলাকায় গুঞ্জন রয়েছে, একটি চক্র রাজনৈতিক প্রভাব খাটিয়ে এই অবৈধ মাটি কাটার ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে। এমনকি কয়েকজন সংবাদকর্মী ও স্থানীয় ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তাকে ‘ম্যানেজ’ করে এই অপকর্ম চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে বলেও লোকমুখে নানা অভিযোগ শোনা যাচ্ছে।
তবে এ বিষয়ে সাচার ইউনিয়ন ভূমি কর্মকর্তার সাথে যোগাযোগ করা হলে তিনি জানান, অবৈধ ড্রেজার বা অবৈধভাবে মাটি কাটার বিষয়টি সম্পূর্ণ সহকারী কমিশনার (ভূমি) স্যারের এখতিয়ার। কেউ সুনির্দিষ্ট অভিযোগ দিলে এসিল্যান্ড মহোদয় ব্যবস্থা নেবেন, এ ক্ষেত্রে স্থানীয় ভূমি অফিসের সরাসরি কিছু করার নেই বলে দাবি করেন তিনি।
এলাকাবাসীর দাবি
অবৈধ মাটি কাটার এই রমরমা বাণিজ্য বন্ধে অবিলম্বে উপজেলা প্রশাসন ও জেলা প্রশাসনের জরুরি হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন ভুক্তভোগী ও সচেতন এলাকাবাসী। তাদের দাবি, দ্রুত অভিযান চালিয়ে এসব অবৈধ ড্রেজার জব্দ করা না হলে এলাকার পরিবেশ ও যোগাযোগ ব্যবস্থা মারাত্মক বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।