বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১২:০৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
শ্রীপুরে বাবাকে আঘাতের অভিযোগে আটক পলাতক ছেলে আনোয়ার অন্ধ্র উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: নিরাপদ আশ্রয়ে দুই লাখ মানুষ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ডান হাতের আঙুলের চোটে মিরপুর টেস্টে নেই মুশফিক জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময়

নেপালে বন্যায় নিখোঁজের ১১ দিন পর জীবিত উদ্ধার বৃদ্ধা

Reporter Name / ৬১ Time View
Update : রবিবার, ৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

নেপালের ভয়াবহ বন্যায় বাড়ি ভেসে যাওয়ার পর দীর্ঘ ১১ দিন নিখোঁজ থাকার পর ৬৪ বছর বয়সী চন্দিকা শ্রেষ্ঠাকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। নুয়াকোটের বিদুর পৌরসভা-১০-এর বাসিন্দা চন্দিকা বন্যার সময় তার স্বামীর সঙ্গে বাড়িতেই ছিলেন। ভোতেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে তাদের সাড়ে চারতলা বাড়িটি উপড়ে ভেসে যায় এবং পরবর্তীতে ত্রিশূলী নদীর তীরে কোথাও আটকা পড়ে।

টানা আট দিন ধরে চন্দিকার কোনো সন্ধান না পেয়ে তার পরিবার ধরে নিয়েছিল যে তিনি আর বেঁচে নেই। পরিস্থিতি এমন পর্যায়ে পৌঁছায় যে, তারা কুশ ঘাস দিয়ে প্রতীকী মরদেহ তৈরি করে শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শুরু করেছিলেন। চন্দিকার সম্বন্ধী রমেশ মান শ্রেষ্ঠা জানান, উদ্ধারকারীরা গভীর কাদা ও জলাবদ্ধতার কারণে অনেক এলাকায় পৌঁছাতে পারেননি। এছাড়া আশপাশে মরদেহ পচতে শুরু করায় তীব্র দুর্গন্ধের কারণে ওই এলাকায় প্রবেশ করা অত্যন্ত কঠিন হয়ে পড়েছিল।

ঘটনার ১১তম দিনে সশস্ত্র পুলিশ বাহিনীর পরিদর্শক সুমন বিকের নেতৃত্বে পরিচালিত এক অভিযানে চন্দিকাকে নুয়াকোটের বেত্রাবতী বাজারের একটি বাড়ি থেকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়। কাঠমান্ডুর সানো ভারিয়াংয়ে যখন তার পরিবারের সদস্যরা শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় ব্যস্ত ছিলেন, তখনই এই অলৌকিক সংবাদটি আসে। উদ্ধারের পর হেলিকপ্টারে করে তাকে ত্রিশূলীর নেপাল আর্মির মাইবাল ব্যারাকে নেওয়া হয় এবং পরবর্তীতে চিকিৎসার জন্য কাঠমান্ডুর ছাউনির আর্মি হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়।

তবে চিকিৎসকেরা পরিবারকে এখনো ৭২ ঘণ্টা পর্যবেক্ষণে থাকার পরামর্শ দিয়েছেন, যার ফলে রমেশ সরাসরি চন্দিকার সঙ্গে দেখা করতে পারেননি। হাসপাতালের বাইরে থেকে দূর থেকেই তাকে দেখার চেষ্টা করছেন তিনি। চন্দিকার নাতিও হাসপাতালে রয়েছে, যে তার নানিকে দেখে অনবরত কাঁদছে এবং ঠিকমতো খাওয়া-দাওয়া করছে না।

দীর্ঘ আট দিনের অনিশ্চয়তা, অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার প্রস্তুতি এবং সবশেষে চন্দিকার জীবিত ফিরে আসার ঘটনাটিকে এক পরম বিস্ময় হিসেবে দেখছেন তার স্বজনরা। রমেশ মান শ্রেষ্ঠা আবেগাপ্লুত কণ্ঠে বলেন, এই পরিস্থিতি দেখে মনে হচ্ছে পৃথিবীতে সত্যিই ঈশ্বর আছেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা