বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত

বাংলাদেশ-জাপান কৌশলগত অংশীদারত্ব জোরদারে দুই প্রধানমন্ত্রীর সমঝোতা

Reporter Name / ৬ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

বাণিজ্য, অবকাঠামো উন্নয়ন, গভীর সমুদ্র বন্দর নির্মাণ এবং বৈদেশিক বিনিয়োগের মতো গুরুত্বপূর্ণ খাতগুলোতে দ্বিপক্ষীয় অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার দৃঢ় প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেছেন বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এবং জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি। টোকিওতে জাপানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত শীর্ষ বৈঠক শেষে এক যৌথ সংবাদ সম্মেলনে এ বিষয়ে ঐক্যমত পোষণ করেন দুই নেতা। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে বেশ কিছু সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরিত হয়েছে, যা ভবিষ্যতের কৌশলগত সম্পর্ককে আরও সুদৃঢ় করবে।

এর আগে মঙ্গলবার জাপানি সময় সকাল ১১টা ৩০ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে পৌঁছালে তারেক রহমানকে স্বাগত জানান সানায়ে তাকাইচি। এ সময় বাংলাদেশ সরকারকে গার্ড অব অনার প্রদান করা হয়। আনুষ্ঠানিকতা শেষে স্থানীয় সময় ১১টা ৪৫ মিনিটে দুই দেশের প্রধানমন্ত্রী রুদ্ধদ্বার দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক নানা বিষয়ের পাশাপাশি দুই দেশের দীর্ঘস্থায়ী বন্ধুত্বের সম্পর্ক নিয়ে আলোচনা হয়। এর আগে জাপানের স্থানীয় সময় সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে এ বৈঠক শুরু হয়। বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যকার অংশীদারিত্ব কয়েক দশকের বন্ধুত্বের ওপর ভিত্তি করে গড়ে উঠেছে।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, বাংলাদেশি জনগণের হৃদয়ে জাপান সবসময় এক বিশেষ স্থান দখল করে আছে। ১৯৭১ সালে স্বাধীনতার পরপরই জাপান বাংলাদেশকে স্বীকৃতিদানকারী প্রথম সারির দেশগুলোর অন্যতম। তিনি আরও বলেন, গত পাঁচ দশক ধরে বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক ও অবকাঠামোগত অগ্রগতিতে জাপান সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উন্নয়ন অংশীদার হিসেবে পাশে রয়েছে। এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে বাংলাদেশ অত্যন্ত শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে। আমরা এই স্থায়ী বন্ধুত্বকে গভীরভাবে উপলব্ধি করি।

বিনিয়োগের প্রসারে গুরুত্বারোপ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান জাপানের ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের প্রবৃদ্ধির পরবর্তী ধাপে অংশীদার হতে আমি জাপানি বিনিয়োগকারীদের আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। উৎপাদনশীল খাত, প্রযুক্তি স্থানান্তর ও কর্মসংস্থান সৃষ্টির মাধ্যমে দুই দেশের জন্য একটি স্থিতিস্থাপক এবং সমৃদ্ধ ভবিষ্যৎ গড়ার লক্ষ্য স্থির করা হয়েছে। তিনি বন্ধুত্বের এই বন্ধনকে অর্থনৈতিক সুযোগ ও অংশীদারিত্বের একটি শক্তিশালী ইঞ্জিনে রূপান্তরের দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেন। আমরা আমাদের জাপানি অংশীদারদের সাথে কাজ করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যাতে উৎপাদনশীল বিনিয়োগ, প্রযুক্তি স্থানান্তর, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং অন্যান্য উপকারী ব্যবসায়িক সুযোগ উন্মুক্ত করা যায়। আসুন, আমরা এমন একটি অংশীদারিত্ব গড়ে তুলি যা আজ আমাদের জনগণের সেবা করে এবং আগামী প্রজন্মের জন্য একটি দীর্ঘস্থায়ী উত্তরাধিকার তৈরি করে।

বৈঠকের সবচেয়ে বড় অর্জন হলো বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্কের নতুন অধ্যায় সূচনার সিদ্ধান্ত। দুই প্রধানমন্ত্রী যৌথ ঘোষণায় দেশ দুটির শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতার অঙ্গীকার করেছেন। এর আওতায় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ককে ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ স্তরে উন্নীত করার ঐতিহাসিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ করা হয়েছে। আমাদের বন্ধুত্ব পারস্পরিক শ্রদ্ধা, বিশ্বাস এবং শান্তি, সমৃদ্ধি ও স্থিতিশীলতার একটি অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গির ওপর প্রতিষ্ঠিত। যৌথ বিবৃতিতে আমাদের আলোচনা থেকে প্রাপ্ত ফলাফল এবং অগ্রাধিকারগুলো তুলে ধরা হয়েছে।

জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি বলেন, গত ৫০ বছরে দুই দেশের সম্পর্ক এক অনন্য উচ্চতায় পৌঁছেছে। বাংলাদেশের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে জাপান সবসময় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রেখে আসছে এবং ভবিষ্যতেও তা অব্যাহত থাকবে। কৌশলগত অংশীদারত্ব স্তরে উন্নীত হওয়ার ফলে দুই দেশের সম্পর্কের নতুন দিগন্ত উন্মোচিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা