গাজার যেসব এলাকায় ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ রয়েছে, সেখানে বর্তমানে ব্যাপকভাবে ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজ চলছে। জাতিসংঘের বিশেষ প্রতিবেদক ফ্রান্সেসকা আলবানিজ সতর্ক করে বলেছেন, এই প্রক্রিয়ার ফলে কথিত যুদ্ধাপরাধ ও গণহত্যার গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণগুলো চিরতরে হারিয়ে যেতে পারে। একই সঙ্গে ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে থাকা অসংখ্য মানুষের দেহাবশেষ উদ্ধার ও শনাক্ত করার সুযোগও নষ্ট হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
সোমবার এক বিবৃতিতে আলবানিজ উল্লেখ করেন, গাজার ধ্বংসস্তূপের নিচে কেবল নির্মাণবর্জ্য নেই, বরং সেখানে আন্তর্জাতিক অপরাধের তদন্তের জন্য প্রয়োজনীয় অনেক দৃশ্যমান প্রমাণ রয়েছে। ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, গাজায় এখনো প্রায় ১০ হাজারের বেশি মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এছাড়া একাধিক নির্ভরযোগ্য সূত্র থেকে তিনি জানতে পেরেছেন যে, এই ধ্বংসস্তূপ সরানোর কাজে ইসরায়েলি কোম্পানিগুলো সরাসরি যুক্ত রয়েছে।
জাতিসংঘের হিসাবমতে, গত দুই বছরের সামরিক অভিযানে গাজায় প্রায় ৬ কোটি ১০ লাখ টন ধ্বংসাবশেষ ও বর্জ্য জমেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি অভিযানে এ পর্যন্ত ৭৩ হাজার ৪৫৬ জন ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। এর মধ্যে গত অক্টোবরের যুদ্ধবিরতির পরবর্তী সময়েও ১ হাজার ৩২৯ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
উল্লেখ্য যে, ২০২২ সালে জাতিসংঘের মানবাধিকার কাউন্সিলের বিশেষ প্রতিবেদক হিসেবে দায়িত্ব পান ফ্রান্সেসকা আলবানিজ। তবে তিনি জাতিসংঘের হয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো বক্তব্য প্রদান করেন না। ২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলে হামাসের হামলার পর থেকে গাজায় শুরু হওয়া এই দীর্ঘস্থায়ী সংঘাতের ফলে মানবিক পরিস্থিতির চরম অবনতি ঘটেছে।