বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৬:৪৮ অপরাহ্ন
শিরোনাম
জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়াতে ক্যাবের দাবি

উন্নয়ন প্রকল্পের ব্যয় ও মেয়াদ বৃদ্ধি রোধে কঠোর অবস্থানে সরকার

Reporter Name / ৬৫ Time View
Update : বুধবার, ৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পগুলোতে বারবার মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির যে প্রবণতা দেখা যায়, তা রোধ করতে সরকার এখন কঠোর অবস্থানে রয়েছে। প্রকল্প প্রণয়ন থেকে শুরু করে বাস্তবায়ন পর্যন্ত প্রতিটি ধাপে নিবিড় তদারকি, জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের মতো যুগান্তকারী উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদের অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্যদের প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান এ কথা জানান। স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই অধিবেশনে কুমিল্লা-১০ আসনের সংসদ সদস্য মো. মোবাশ্বের আলম ভূঁইয়া প্রকল্পের মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধি রোধে সরকারের পরিকল্পনা সম্পর্কে জানতে চেয়েছিলেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার বক্তব্যে বলেন, উন্নয়ন প্রকল্পে মেয়াদ ও ব্যয় বৃদ্ধির পেছনে কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণ নেই। বরং প্রকল্প প্রণয়ন, অনুমোদন, ভূমি অধিগ্রহণ, অর্থায়ন, ক্রয় প্রক্রিয়া এবং ব্যবস্থাপনার একাধিক দুর্বলতা একে অপরের সঙ্গে যুক্ত হয়ে এই সমস্যার জন্ম দেয়। সরকার বিষয়গুলো চিহ্নিত করেছে এবং এর মধ্যে দুর্বল ফিজিবিলিটি স্টাডি, ব্যয়ের ভুল প্রাক্কলন, প্রকল্প এলাকা নির্বাচনে ত্রুটি, ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তরে বিলম্ব, ক্রয় প্রক্রিয়ায় ধীরগতি এবং আন্তঃমন্ত্রণালয় সমন্বয়ের অভাব অন্যতম।

প্রকল্পের দীর্ঘসূত্রিতা ও অপচয় রোধে সরকার যে ১৩ দফা পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে, তা নিচে তুলে ধরা হলো

  1. নতুন প্রকল্প গ্রহণের আগে নির্ভুল সম্ভাব্যতা সমীক্ষা (ফিজিবিলিটি স্টাডি) নিশ্চিত করা।
  2. প্রকল্প অনুমোদনের পর বাস্তবায়ন প্রস্তুতি দ্রুততর করা।
  3. প্রকল্প প্রণয়ন, প্রক্রিয়াকরণ, অনুমোদন ও সংশোধন সংক্রান্ত বিদ্যমান নির্দেশিকা সময়োপযোগী করা।
  4. চলমান প্রকল্পের অগ্রগতি মনিটরিংয়ে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও বিভাগে ড্যাশবোর্ড স্থাপন।
  5. নিয়মিত প্রকল্প পর্যালোচনা ও মাঠপর্যায়ে নিবিড় তদারকি বাড়ানো।
  6. ভূমি অধিগ্রহণ ও ইউটিলিটি স্থানান্তর দ্রুত করতে সংস্থাগুলোর মধ্যে সমন্বয় জোরদার করা।
  7. নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ না হলে বিলম্ব ও ব্যয় বৃদ্ধির কারণ নিরূপণ করে দায়ী ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া।
  8. ৩০ শতাংশের কম অগ্রগতি হওয়া প্রকল্পগুলোর উপযোগিতা যাচাই করে পুনর্বিন্যাস বা স্কোপ পরিবর্তনের ব্যবস্থা করা।
  9. বিচ্ছিন্নভাবে প্রকল্প না নিয়ে সমন্বিত কর্মসূচির অধীনে গুচ্ছ প্রকল্প গ্রহণ করা।
  10. সরকারি ক্রয় ব্যবস্থায় ই-জিপি (e-GP) ব্যবহারের পরিধি বাড়ানো।
  11. প্রকল্প পরিচালক নিয়োগে পেশাগত যোগ্যতা, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতাকে গুরুত্ব দেওয়া এবং দায়িত্বের ধারাবাহিকতা নিশ্চিত করতে নীতিমালা হালনাগাদ করা।
  12. সরকারি ও বেসরকারি অংশীদারিত্ব বা পিপিপি (PPP) মডেলের প্রকল্প গ্রহণে গুরুত্ব দেওয়া।
  13. সরকারি ক্রয় প্রক্রিয়াকে অধিকতর প্রতিযোগিতামূলক ও জবাবদিহিতামূলক করতে ‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট রুল ২০২৫’ হালনাগাদ করার উদ্যোগ নেওয়া।

গুরুত্বপূর্ণ তথ্য

  • প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: যেসব প্রকল্পের বাস্তবায়ন অগ্রগতি ৩০ শতাংশের কম, সেগুলোর উপযোগিতা ও কার্যকারিতা বিবেচনা করে পুনর্বিন্যাস, স্কোপ পরিবর্তন বা চলমান রাখার বিষয়ে মন্ত্রণালয়/বিভাগ কর্তৃক যথাযথ পদক্ষেপ গ্রহণ।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা