আর্থিক অনিয়ম, প্রতারণা ও শিক্ষাগত যোগ্যতা নিয়ে জালিয়াতির গুরুতর অভিযোগের তদন্ত চলাকালীন বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার (ডব্লিউএইচও) দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের পদ থেকে পদত্যাগ করেছেন সায়মা ওয়াজেদ। বুধবার তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে পদত্যাগপত্র জমা দিয়েছেন বলে আন্তর্জাতিক বার্তা সংস্থা রয়টার্স নিশ্চিত করেছে। সায়মা ওয়াজেদ বাংলাদেশের গণ-অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার কন্যা। ২০২৪ সালের শুরুতে পাঁচ বছরের মেয়াদে তিনি এই গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। তবে দায়িত্ব গ্রহণের পর থেকেই বিভিন্ন বিতর্ক ও আইনি জটিলতা তাঁকে ঘিরে ধরেছিল।
পদত্যাগপত্রে সায়মা ওয়াজেদ উল্লেখ করেন যে, তিনি নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করতে চাইলেও তাঁকে ক্রমাগত বাধা দেওয়া হয়েছে। বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে পাঠানোর ফলে প্রায় এক বছর ধরে তিনি কোনো পারিশ্রমিক পাননি, যা তাঁর আর্থিক পরিস্থিতিকে অসহনীয় করে তুলেছে। তিনি স্পষ্টভাবে জানিয়েছেন যে, ডব্লিউএইচওর বর্তমান নেতৃত্বের প্রতি তাঁর আস্থা ও বিশ্বাস সম্পূর্ণ নষ্ট হয়ে গেছে। এর আগে ডব্লিউএইচও তাঁকে আনুষ্ঠানিকভাবে সরিয়ে দেওয়ার পরিকল্পনা করছিল বলেও বিভিন্ন সূত্র রয়টার্সকে জানিয়েছিল।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নিয়ম অনুযায়ী, আগামী ১২ অক্টোবর এই পদের জন্য নতুন করে মনোনয়ন আহ্বান করা হতে পারে। এরপর ডিসেম্বরে আবেদন যাচাই-বাছাই সম্পন্ন হবে এবং ২০২৭ সালের ২৪ জানুয়ারি নির্বাচনের মাধ্যমে নতুন আঞ্চলিক পরিচালক নিয়োগ দেওয়া হবে। দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক পরিচালকের অধীনে বাংলাদেশ ও ভারতসহ এই অঞ্চলের দেশগুলোর স্বাস্থ্যসেবা ও জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার মতো গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম পরিচালিত হয়। সায়মা ওয়াজেদ পদত্যাগ করলেও এ বিষয়ে রয়টার্সের কাছে আর কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি। ডব্লিউএইচও কর্তৃপক্ষও বিষয়টি নিয়ে গোপনীয়তার দোহাই দিয়ে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া জানায়নি। সায়মা ওয়াজেদ গত বছরের শেষ দিক থেকেই বিনা বেতনে প্রশাসনিক ছুটিতে ছিলেন বলে সংস্থাটি এর আগে জানিয়েছিল।