বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৩:০৭ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়াতে ক্যাবের দাবি উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাই হাট: জমে উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবদারুতলা ইরানের হুমকি দূর করতে শক্তিশালী ডানপন্থি সরকারের আহ্বান নেতানিয়াহুর বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান শ্রীপুরে বাবাকে আঘাতের অভিযোগে আটক পলাতক ছেলে আনোয়ার অন্ধ্র উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: নিরাপদ আশ্রয়ে দুই লাখ মানুষ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ডান হাতের আঙুলের চোটে মিরপুর টেস্টে নেই মুশফিক

ট্রাম্পের পাবলিক চার্জ বিধির বিরুদ্ধে নিউইয়র্ক সিটির মামলা

Reporter Name / ৫৯ Time View
Update : মঙ্গলবার, ১৫ সেপ্টেম্বর, ২০২৬

ট্রাম্প প্রশাসনের প্রবর্তিত নতুন ‘পাবলিক চার্জ’ বিধিব্যবস্থার বিরুদ্ধে আইনি লড়াইয়ে নেমেছে নিউইয়র্ক সিটি। স্থানীয় সময় সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মেয়র জোহরান মামদানি আনুষ্ঠানিকভাবে এই মামলার ঘোষণা দেন। নিউইয়র্ক সিটির নেতৃত্বে দেশের বিভিন্ন শহর ও কাউন্টির একটি জোট ম্যানহাটনের ফেডারেল আদালতে ১০৮ পৃষ্ঠার এই মামলাটি দায়ের করেছে। আসন্ন শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) থেকে বিতর্কিত এই বিধি কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে, যার আগেই তা বাতিল ও স্থগিত করার জন্য আদালতের হস্তক্ষেপ চাওয়া হয়েছে।

মেয়র জোহরান মামদানি নতুন এই বিধিকে ‘নিষ্ঠুর ও বেআইনি’ হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। তিনি স্পষ্ট করে বলেন, অভিবাসী কমিউনিটি এই দেশের জন্য কোনো বোঝা নয়; বরং তারা তাদের কঠোর পরিশ্রমে নিউইয়র্ক সিটিসহ পুরো আমেরিকাকে সমৃদ্ধ ও মহান করেছে। মেয়রের ভাষ্যমতে, এই নতুন বিধিনিষেধ মূলত অভিবাসী পরিবারগুলোকে যুগ যুগ ধরে চলে আসা প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও খাদ্য সহায়তার মতো সরকারি কর্মসূচিগুলো থেকে বিচ্যুত করার একটি অপপ্রয়াস। তিনি অভিযোগ করেন, মার্কিন প্রশাসন এই নতুন বিধির মাধ্যমে কংগ্রেসের দেওয়া আইনি ক্ষমতার সীমা অতিক্রম করেছে।

ঐতিহাসিকভাবে ‘পাবলিক চার্জ’ বা সরকারি সহায়তানির্ভর ব্যক্তি বলতে সাধারণত তাদেরই বোঝানো হতো, যারা জীবনধারণের জন্য পুরোপুরি সরকারি অর্থ সহায়তা বা দীর্ঘমেয়াদি প্রাতিষ্ঠানিক সেবার ওপর নির্ভরশীল। কিন্তু নতুন বিধিতে সেই সংজ্ঞাকে অস্বাভাবিকভাবে বিস্তৃত করা হয়েছে বলে মামলার আরজিতে উল্লেখ করা হয়েছে। এই বিষয়ে নিউইয়র্ক সিটির করপোরেশন কাউন্সেল স্টিভ ব্যাংকস জানান, দশকের পর দশক ধরে চলে আসা প্রতিষ্ঠিত আইন উপেক্ষা করে এই নতুন সংজ্ঞায় অভিবাসীদের কোণঠাসা করার চেষ্টা চলছে, যা কখনোই আইনপ্রণেতাদের উদ্দেশ্য ছিল না।

একই দিনে নিউইয়র্কের অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমসের নেতৃত্বে আরও একটি বড় আকারের আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে ২০টি অঙ্গরাজ্য, ডিস্ট্রিক্ট অব কলাম্বিয়া এবং পেনসিলভানিয়ার গভর্নর জশ শাপিরো যুক্ত হয়েছেন। অ্যাটর্নি জেনারেল লেটিশিয়া জেমস বলেন, সরকারি সহায়তা নিলে দেশ থেকে বহিষ্কার বা ডিপোর্টেশনের ভয়ে কোনো পরিশ্রমী পরিবারকে প্রয়োজনীয় সাহায্য গ্রহণ থেকে বিরত থাকতে বাধ্য করা যায় না। এটি একটি অমানবিক ও বৈষম্যমূলক অবস্থান।

আইনি লড়াইয়ের পাশাপাশি অভিবাসীদের সুরক্ষায় জরুরি ব্যবস্থা চালু রেখেছে নিউইয়র্ক সিটি কর্তৃপক্ষ। ইমিগ্রেশন স্ট্যাটাস নির্বিশেষে যেকোনো প্রয়োজনে আইনি সহায়তা পেতে নিউইয়র্কবাসীদের মেয়র অফিসের ‘ইমিগ্রেশন লিগ্যাল সাপোর্ট’ হটলাইনে ১-৮০০-৩৫৪-০৩৬৫ নম্বরে ফোন করার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। এছাড়া ৩১১ নম্বরে কল করে ‘Immigration Legal’ উল্লেখ করলে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি নিজের ভাষায় প্রয়োজনীয় আইনি পরামর্শ নিতে পারবেন। এই সেবাটি বিনামূল্যে, নিরাপদ ও গোপনীয় রাখা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নিউইয়র্ক সিটির সঙ্গে বাদী হিসেবে রয়েছে শিকাগো, সান ফ্রান্সিসকো, সিয়াটল, ক্যালিফোর্নিয়ার সান্তা ক্লারা কাউন্টি, ওয়াশিংটনের কিং কাউন্টি এবং পাবলিক রাইটস প্রজেক্ট। চাকরির আরও তথ্য: নতুন বিধি অনুযায়ী, গ্রিন কার্ডের আবেদন বিবেচনার সময় ইমিগ্রেশন কর্মকর্তারা আবেদনকারীর সরকারি সহায়তা গ্রহণের ইতিহাস অনেক বিস্তৃত পরিসরে বিবেচনায় নিতে পারবেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি বয়স, স্বাস্থ্য, পারিবারিক অবস্থা, আর্থিক সামর্থ্য, শিক্ষা ও দক্ষতার মতো বিষয়ও বিবেচনায় আসবে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাঁর ভাষায়, নিউইয়র্কবাসী ডাক্তার দেখাতে কিংবা আইনগতভাবে প্রাপ্য সহায়তা চাইতে ভয় পাবে-আর এই ভয় শুধু ফেডারেল সরকারের লক্ষ্যবস্তু পরিবারগুলোর মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না; যারা সম্পূর্ণ বৈধভাবে সুবিধা পাওয়ার যোগ্য, তারাও এর প্রভাব অনুভব করবে, আর এর মূল্য দিতে হবে সব। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অন্যদিকে ট্রাম্প প্রশাসনের ভাষ্য, অভিবাসীরা যেন করদাতাদের অর্থে পরিচালিত সরকারি সুবিধার ওপর নির্ভরশীল না হয়ে স্বাবলম্বী হন-কংগ্রেসের সেই অভিপ্রায়ই নতুন বিধিতে প্রতিফলিত হয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: উল্লেখ্য, নিউইয়র্কের বাংলাদেশি কমিউনিটিসহ অভিবাসী সম্প্রদায়ের বহু পরিবার মেডিকেইড, স্ন্যাপ (ফুড স্ট্যাম্প)-এর মতো কর্মসূচির ওপর নির্ভরশীল। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কমিউনিটি নেতারা বলছেন, বিধিটি কার্যকর হলে গ্রিন কার্ড প্রত্যাশী অনেকে ভয়ে বৈধ সুবিধা নেওয়া থেকেও বিরত থাকতে পারেন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা