ইরানের সামরিক হুমকি এবং পশ্চিম এশিয়ার ক্রমবর্ধমান আঞ্চলিক অস্থিরতা মোকাবিলায় এক গোপন বৈঠকে মিলিত হয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, ইসরায়েল এবং বেশ কয়েকটি আরব দেশের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তারা। মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিওস ইসরায়েলি দুই কর্মকর্তার বরাতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে। প্রায় ছয় মাস আগে ইরান-ইসরায়েল সংঘাত শুরুর পর এই প্রথমবারের মতো এত উচ্চপর্যায়ের সামরিক প্রতিনিধিদের নিয়ে এমন বৈঠকের আয়োজন করা হলো। যেসব আরব দেশের সাথে ইসরায়েলের আনুষ্ঠানিক কোনো কূটনৈতিক সম্পর্ক নেই, সেইসব দেশের সামরিক প্রধানদের জন্যও এই বৈঠকটি সরাসরি আলোচনার এক বিরল সুযোগ তৈরি করে দিয়েছে।
জার্মানিতে অনুষ্ঠিত এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) প্রতিনিধি এডমিরাল ব্র্যাড কুপার ছাড়াও সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত, বাহরাইন, কুয়েত, কাতার, জর্ডান এবং মিশরের সামরিক বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তারা অংশগ্রহণ করেন। সেন্টকম এক বিবৃতিতে বৈঠকের বিষয়টি নিশ্চিত করেছে। বৈঠকে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনীর (আইডিএফ) চিফ অব স্টাফ জেনারেল ইয়াল জামির উপস্থিত ছিলেন। তিনি বিভিন্ন ফ্রন্টে আইডিএফ-এর বর্তমান সামরিক কার্যক্রম এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি সম্পর্কে অংশগ্রহণকারী দেশগুলোকে বিস্তারিত ধারণা দেন।
এই বৈঠকের নেপথ্যে লোহিত সাগরের বাব আল-মান্দেব প্রণালীর নিয়ন্ত্রণ নিয়ে হুথিদের ক্রমবর্ধমান হামলার ঘটনা বিশেষ গুরুত্ব পেয়েছে। বিশেষ করে হুথিরা সৌদি আরবের ওপর হামলার তীব্রতা বাড়িয়ে দেওয়ার প্রেক্ষাপটে এই আঞ্চলিক সমন্বয় জরুরি হয়ে পড়েছিল। সংশ্লিষ্ট একটি সূত্রের তথ্যমতে, সেন্টকমের মধ্যস্থতায় ইসরায়েল এবং সৌদি আরব আলোচনা চালাচ্ছে যে, কীভাবে সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো রিয়াদকেও হুথিবিরোধী সামরিক অভিযানে রিয়েল-টাইম গোয়েন্দা তথ্য ও নজরদারি সহায়তা প্রদান করা যায়।
ইসরায়েলি কর্মকর্তাদের মতে, এরই মধ্যে ইসরায়েল অঞ্চলটির বিভিন্ন দেশকে এই ধরনের প্রযুক্তিগত সহায়তা প্রদান করছে। ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আব্রাহাম চুক্তি স্বাক্ষরের পর থেকে ইসরায়েল এবং আরব দেশগুলোর মধ্যে সামরিক সহযোগিতার ক্ষেত্রটি ক্রমাগত প্রসারিত হচ্ছে। এবারের এই গোপন বৈঠক সেই সামরিক ও কৌশলগত মৈত্রীকে আরও এক ধাপ এগিয়ে নিল বলে মনে করা হচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ৬ মাস আগে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধে জড়ানোর পর এটিই এ ধরনের প্রথম উচ্চপর্যায়ের বৈঠক। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ২০২০ সালের সেপ্টেম্বরে আব্রাহাম চুক্তি সই হওয়ার পর থেকে ইসরায়েল ও অঞ্চলের অন্যান্য দেশের মধ্যে সামরিক সহযোগিতা বাড়তে থাকে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তবে বৈঠকের বিষয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে কোনও দেশের পক্ষ থেকেই ঘোষণা দেওয়া হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মার্কিন ঘাঁটিগুলোতে ইরানের হামলা হওয়ার পরও পশ্চিম এশিয়া থেকে মার্কিন বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে না বলে বৈঠকে অংশগ্রহণকারীদের আশ্বস্ত করেন কুপার। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল বাড়ানোর জন্য যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনা নিয়েও আলোচনা করেন তিনি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চুক্তির পর ইসরায়েলকে মার্কিন ইউরোপীয় কমান্ডের (ইউএসইউকম) আওতা থেকে সরিয়ে সেন্টকমের অধীনে আনা হয়।