বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম দেশ ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীতে প্রথমবারের মতো একটি রণতরি যুক্ত হয়েছে। ইতালীয় নৌবাহিনীর সাবেক এই যুদ্ধজাহাজটি দেশটির সামরিক সক্ষমতা ও আধুনিকায়নের পরিকল্পনার অংশ হিসেবে সংগ্রহ করা হয়েছে। ৪১ বছর আগে নির্মিত এই জাহাজটি সম্প্রতি জাকার্তার বন্দরে নোঙর করেছে, যা মূলত ইতালি থেকে কলম্বো ও মালাক্কা প্রণালি হয়ে ইন্দোনেশিয়ায় পৌঁছায়।
ইন্দোনেশিয়ার নৌবাহিনীর চিফ অব স্টাফ মুহাম্মদ আলী জানান, রণতরিটির বর্তমান নাম ‘জুসেপ্পে গারিবালদি’। তবে আগামী সপ্তাহে এর নতুন নামকরণ করা হবে ‘কেআরআই শ্রীবিজয়া’। মূলত দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা, ত্রাণ বিতরণ ও উদ্ধার অভিযানের মতো অসামরিক কাজে ব্যবহারের উদ্দেশ্যেই এটি কেনা হয়েছে। ইন্দোনেশিয়া ঘনবসতিপূর্ণ এবং দুর্যোগপ্রবণ অঞ্চল হওয়ায় হেলিকপ্টার ব্যবহারের সুবিধা সম্বলিত এমন একটি জাহাজের প্রয়োজনীয়তা দীর্ঘদিনের ছিল বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নৌবাহিনীর মুখপাত্র তুঙ্গুল জানান, ১৮০ মিটার বা ৫৯০ ফুট দৈর্ঘ্যের এই জাহাজটি সর্বোচ্চ ১৮টি হেলিকপ্টার বহন করতে পারে এবং এতে ৮৩০ জন নৌসদস্য থাকার ব্যবস্থা রয়েছে। নৌবাহিনীর কর্মকর্তাদের আশা, অন্তত ১৫ থেকে ২০ বছর জাহাজটি দক্ষতার সাথে সেবা দিতে পারবে। তবে বিশ্লেষকদের একাংশ এই ক্রয় নিয়ে ভিন্নমত পোষণ করেছেন। তাদের মতে, বয়স্ক এই জাহাজটির রক্ষণাবেক্ষণ ব্যয় অনেক বেশি এবং যুদ্ধের ময়দানে এর কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন রয়েছে।
সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিজের গবেষক মুহাম্মদ ফওজান মালুফতি বলেন, দুর্যোগ মোকাবিলা কেন্দ্রিক জাহাজ হওয়ার কারণে এতে অস্ত্রশস্ত্রের পরিমাণ কম রাখা হতে পারে, যা এর যুদ্ধ সক্ষমতাকে সীমিত করতে পারে। এছাড়া এই বিপুল বিনিয়োগের পরিবর্তে অন্য কোনো জরুরি খাতে মনোযোগ দেওয়া যেত কি না, তা নিয়েও বিতর্ক চলছে। এসব সমালোচনার জবাবে নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, জাহাজটি কেনার আগে সরকার সমস্ত দিক পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে মূল্যায়ন করেছে।
প্রেসিডেন্ট প্রাবোয়ো সুবিয়ান্তো দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই ইন্দোনেশিয়ার পুরোনো সামরিক সরঞ্জাম আধুনিকায়নের ওপর জোর দিয়েছেন। এই উদ্যোগের অংশ হিসেবে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে প্রতিরক্ষা সহযোগিতা বৃদ্ধি করছে জাকার্তা। তৎকালীন প্রতিরক্ষামন্ত্রী হিসেবে প্রাবোয়োর মেয়াদে ২০২২ সালে ফ্রান্সের সাথে ৮১০ কোটি ডলারের একটি বিশাল চুক্তি সই হয়, যার মাধ্যমে ৪২টি রাফাল যুদ্ধবিমান কেনার পরিকল্পনা রয়েছে। ইতোমধ্যে গত মে মাস পর্যন্ত ছয়টি যুদ্ধবিমান ইন্দোনেশিয়ার হাতে পৌঁছেছে।
প্রতিরক্ষা সক্ষমতা বাড়াতে শুধু যুদ্ধবিমান নয়, সাবমেরিনের দিকেও নজর দিয়েছে দেশটি। ২০২৪ সালে ফরাসি প্রতিরক্ষা প্রতিষ্ঠান নাভাল গ্রুপের কাছ থেকে দুটি স্করপেন শ্রেণির সাবমেরিন ক্রয়ের আদেশ দেওয়া হয় এবং গত আগস্ট মাসে সেগুলোর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশ ও অংশীদারদের সাথে কৌশলগত সম্পর্ক জোরালো করছে ইন্দোনেশিয়া। চলতি বছরের জুলাই মাসে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির জাকার্তা সফরকালে দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়। এর আগে ফেব্রুয়ারিতে অস্ট্রেলিয়ার সাথে একটি নিরাপত্তা চুক্তি সই হয়, যার আওতায় যৌথ সামরিক মহড়া ও প্রশিক্ষণকেন্দ্র উন্নয়নে উভয় দেশ কাজ করবে। প্রাবোয়োর নেতৃত্বাধীন এই বহুমুখী প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা ইন্দোনেশিয়াকে আঞ্চলিক নিরাপত্তার ক্ষেত্রে আরও সক্রিয় অবস্থানে নিয়ে যাচ্ছে বলে পর্যবেক্ষকরা মনে করছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: এল নিনো: শ্রীলঙ্কা থেকে দক্ষিণ কোরিয়া, প্রতিকূল আবহাওয়ায় যা কিছু বদলে যাচ্ছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ডেঙ্গু-হামের চাপে হিমশিম খাচ্ছে হাসপাতালগুলো। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশ্লেষণ / জার্মানিতে ‘নব্য-নাৎসিদের উত্থান’ দেখে আতঙ্কিত ইউরোপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আসিয়ান কাপের বাংলাদেশ দলে ফারহান, জিদান, শুকি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আজ শুক্রবার এই তথ্য জানিয়েছে বার্তা সংস্থা এএফপি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: মালদ্বীপের পর ভ্রমণপিপাসুদের নজরে ইন্দোনেশিয়ার যে নির্জন দ্বীপ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: নৌপ্রধান এএফপিকে বলেন, ‘এই দেশে অনেক দুর্যোগ ঘটে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: তাই আমাদের এমন একটি জাহাজ বা প্ল্যাটফর্ম সত্যিই প্রয়োজন, যাতে অনেকগুলো হেলিকপ্টার বহন করা যায়।