পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখাওয়া প্রদেশের কোহাটে শুক্রবার (১৮ সেপ্টেম্বর) জুমার নামাজের সময় এক ভয়াবহ বোমা হামলার ঘটনা ঘটেছে। একটি পুলিশ কমপ্লেক্সের ভেতর অবস্থিত মসজিদে ঘটা এই হামলায় অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন, যার মধ্যে পাঁচজন পুলিশ সদস্য রয়েছেন। এ ছাড়া ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৫৭ জন, যাদের মধ্যে বেশ কয়েকজনের অবস্থা গুরুতর হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও স্থানীয় প্রশাসনের তথ্যমতে, বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি মসজিদের প্রবেশপথে আঘাত করার মাধ্যমে এই হামলা শুরু হয়। বিস্ফোরণের তীব্রতায় পুলিশ কমপ্লেক্সের বাইরের দেয়ালের একটি বড় অংশ ধসে পড়ে এবং স্থাপনাটির ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়। হামলার পরপরই পুলিশের সাথে আক্রমণকারীদের দীর্ঘক্ষণ গোলাগুলি হয়। নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে সাত হামলাকারী নিহত হয়েছে। স্থানীয় চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, আহতদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং ৫০ জনের বেশি ব্যক্তিকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
এখন পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। তবে এ অঞ্চলে সক্রিয় তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) এই ঘটনায় জড়িত থাকার কথা স্পষ্টভাবে অস্বীকার করেছে। আফগানিস্তান সীমান্তঘেঁষা এই প্রদেশে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বিভিন্ন সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘাতের প্রবণতা বেড়েছে।
এদিকে, এই হামলার ঘটনার কড়া নিন্দা জানিয়েছেন পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ। তিনি তাৎক্ষণিকভাবে উদ্ধার তৎপরতা জোরদার করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন। পুরো এলাকাটি এখন নিরাপত্তা বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে এবং উদ্ধারকাজ এখনো চলমান রয়েছে বলে জানা গেছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণের পর হামলাকারীদের সঙ্গে পুলিশের বন্দুকযুদ্ধ হয়।