সবার হৃদয়ে রক্তক্ষরণ ঘটিয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমাল ১৩ বছর বয়সী ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিম। কুমিল্লা বর্ডার গার্ড স্কুলের সপ্তম শ্রেণির এই মেধাবী শিক্ষার্থীকে হারিয়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে তার পরিবার ও পরিচিতজনদের মাঝে। রোববার (২০ সেপ্টেম্বর) অশ্রুসজল নয়নে তাকে কুমিল্লার কোটবাড়ির গন্ধমতি গোরস্থানে সমাহিত করা হয়েছে। এর আগে, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় মাঠ এবং গন্ধমতি স্কুল মাঠে জানাজার নামাজ অনুষ্ঠিত হয়, যেখানে অগণিত মানুষ তাকে শেষ বিদায় জানাতে উপস্থিত ছিলেন।
ঘটনার সূত্রপাত গত শুক্রবার বিকেলে। মা নাহিদা বেগমের আইফোন নিয়ে বন্ধুদের সঙ্গে ছবি তোলার কথা বলে শালবন বিহারে যাওয়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বেরিয়েছিল অপ্রতিম। কিন্তু সন্ধ্যা পার হলেও সে বাসায় না ফেরায় উদ্বেগ বাড়তে থাকে পরিবারের। পরে তার মা থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি করেন। সব শঙ্কা ও উৎকণ্ঠার অবসান ঘটিয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাশের জঙ্গল থেকে অপ্রতিমের নিথর দেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
জানাজায় অংশ নেওয়া স্বজন ও এলাকাবাসী এই নৃশংস ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন। তারা দোষী ব্যক্তিদের দ্রুত বিচারের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবি জানিয়েছেন। পাশাপাশি শিশুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে সমাজের সব স্তরের মানুষের সচেতনতা বৃদ্ধির আহ্বানও জানানো হয়েছে।
এই হত্যাকাণ্ডের তদন্তে নেমে পুলিশ তুহিন, আনাস ও ফাহিম নামের তিনজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছে। আটকদের একজন তুহিনের বাসা তল্লাশি চালিয়ে অপ্রতিমের ব্যবহার করা আইফোনটি উদ্ধার করা হয়েছে। পুলিশের ভাষ্যমতে, তুহিনের মা উদ্ধারকৃত আইফোনটি তাদের কাছে থাকার সত্যতা স্বীকার করেছেন। তিনি জানান, অপ্রতিমের পরিবারের মতো তারাও এই ঘটনায় মর্মাহত এবং সুষ্ঠু বিচার দাবি করছেন। বর্তমানে পুলিশ মামলার প্রতিটি দিক গুরুত্বসহকারে খতিয়ে দেখছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বুকফাটা আর্তনাদে একমাত্র সন্তান ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতিমকে শেষ বিদায় জানিয়েছেন তার মা-বাবা। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্বজন ও প্রতিবেশীদের পাশাপাশি সারাদেশের মানুষের চোখের পানিতে শেষ বিদায় জানিয়ে চিরনিদ্রায় শায়িত হয়েছে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার ১৩ বছরের এই কিশোর। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অপ্রতিমের নিখোঁজের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর তাকে জীবিত ফিরে পাওয়ার আকুতি জানিয়েছিলেন অনেকে।