তীব্র মানসিক অসুস্থতায় আক্রান্ত প্রাপ্তবয়স্কদের গড় আয়ু সাধারণ মানুষের তুলনায় ১৫ থেকে ২০ বছর কম বলে এক বিশ্লেষণে দেখা গেছে। ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য সেবা বা এনএইচএসের তথ্য পর্যালোচনা করে মানসিক স্বাস্থ্য বিষয়ক দাতব্য সংস্থা ‘রিথিঙ্ক মেন্টাল ইলনেস’ এই অকালমৃত্যুর বিষয়টি সামনে এনেছে। সংস্থাটির মতে, এসব মৃত্যুর একটি বড় অংশই প্রতিরোধযোগ্য শারীরিক অসুস্থতার কারণে ঘটছে। এখানে তীব্র মানসিক অসুস্থতা বলতে মূলত সেইসব ব্যক্তিদের বোঝানো হয়েছে, যারা বিশেষায়িত মাধ্যমিক মানসিক স্বাস্থ্যসেবার জন্য রেফার হয়েছেন।
পরিসংখ্যান বলছে, ৭৫ বছরের কম বয়সী গুরুতর মানসিক সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের ক্ষেত্রে সাধারণ মানুষের তুলনায় লিভার রোগে মৃত্যুর ঝুঁকি ৬ দশমিক ৩ গুণ বেশি। এছাড়া শ্বাসযন্ত্রের জটিলতায় ৬ গুণ, হৃদ্রোগে ৩ দশমিক ৮ গুণ এবং ক্যানসারে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর ঝুঁকি ২ দশমিক ৩ গুণ বেশি। এমনকি সামগ্রিকভাবে ৭৫ বছরের আগেই এই রোগীদের মৃত্যুর সম্ভাবনা সাধারণ মানুষের চেয়ে ৪ দশমিক ৮ গুণ বেশি। একই সময়ে আত্মহত্যার কারণে মৃত্যুর ঝুঁকি অন্যদের তুলনায় ১৪ দশমিক ৬ গুণ বেশি বলে চিহ্নিত করা হয়েছে।
২০২২ থেকে ২০২৪ সাল পর্যন্ত ইংল্যান্ডে ১৮ থেকে ৭৪ বছর বয়সী গুরুতর মানসিক স্বাস্থ্য সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তিদের মৃত্যুর ৫৬ দশমিক ৫ শতাংশই ঘটেছে ক্যানসার, হৃদ্রোগ, শ্বাসযন্ত্রের রোগ ও লিভারের সমস্যার কারণে। এর মধ্যে হৃদ্রোগ ও ক্যানসার—প্রতিটি ক্ষেত্রে মৃত্যুর হার প্রায় ১৯ শতাংশ। এ ছাড়া ১১ শতাংশ মৃত্যু হয়েছে শ্বাসযন্ত্রের জটিলতায় এবং ৮ শতাংশ লিভারের কারণে। অকালমৃত্যুর ৭ শতাংশের জন্য দায়ী ছিল আত্মহত্যা। ২০২২-২৪ সময়কালে কর্মক্ষম বয়সী মানসিক রোগীদের মধ্যে হৃদ্রোগ ও ক্যানসারে মৃত্যুর সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছেছে, যেখানে প্রতিটি রোগে ২৪ হাজারের বেশি মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন।
অকালমৃত্যুর এই প্রবণতার পেছনে দারিদ্র্য, মানসম্মত আবাসনের অভাব, অস্বাস্থ্যকর ধূমপানের অভ্যাস, শারীরিক নিষ্ক্রিয়তা এবং কিছু ওষুধের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়ায় ওজন বৃদ্ধির মতো বিষয়গুলো দায়ী। এছাড়া স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থায় সমন্বয়ের ঘাটতিও বড় সমস্যা। বিশেষ করে ‘ডায়াগনস্টিক ওভারশ্যাডোয়িং’ বা রোগীর শারীরিক অসুস্থতার উপসর্গকে ভুলবশত মানসিক রোগেরই অংশ মনে করার প্রবণতা জীবনরক্ষাকারী চিকিৎসা পাওয়ার ক্ষেত্রে বড় বাধা তৈরি করছে। মানসিক স্বাস্থ্যের পাশাপাশি শারীরিক স্বাস্থ্যের যত্নকে সমান গুরুত্ব দেওয়ার প্রয়োজনীয়তা এখন অত্যন্ত জরুরি হয়ে পড়েছে।