দীর্ঘ ১১ বছর পর চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রের মাটিতে পা রাখতে যাচ্ছেন। আগামী বুধবার মেরিল্যান্ডের জয়েন্ট বেস অ্যান্ড্রুজের রানওয়েতে যখন তার বহনকারী বোয়িং ৭৪৭ ‘ট্রাম্প-ওয়ান’ অবতরণ করবে, তখন থেকেই দুই পরাশক্তির সম্পর্কের নতুন এক কূটনৈতিক অধ্যায় সূচিত হবে। প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প নিজেই বিমানঘাঁটিতে তাকে অভ্যর্থনা জানাবেন। হোয়াইট হাউসের তথ্য অনুযায়ী, এই সফর দুই দেশের ইতিহাসের অন্যতম মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।
নিউইয়র্ক টাইমসের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, ওয়াশিংটনে উৎসবের আমেজ থাকলেও পর্দার আড়ালে দুই দেশের মধ্যে গভীর অবিশ্বাসের সুর রয়ে গেছে। বেইজিং এই সফরকে শীর্ষ কূটনীতির মূল ভিত্তি হিসেবে দেখছে। তবে সফরের প্রস্তুতির শুরুর দিকে ওয়াশিংটনের পরিকল্পনায় সমন্বয়হীনতা থাকায় চীনা কর্মকর্তারা অসন্তোষ প্রকাশ করেছিলেন।
বাণিজ্যিক টানাপোড়েনের পাশাপাশি দুর্লভ খনিজ বা ‘রেয়ার আর্থ’ নিয়ে উত্তেজনা তুঙ্গে। ওয়াশিংটন চায় নিজেদের দেশে খনিজ উত্তোলন বাড়াতে, কিন্তু বেইজিং রপ্তানির ওপর কড়া বিধিনিষেধ আরোপ করেছে। গত এপ্রিলে চীন সাত ধরনের রেয়ার আর্থ রপ্তানিতে লাইসেন্সিং বাধ্যতামূলক করেছে এবং আগামী ১০ নভেম্বর থেকে আরও পাঁচটি খনিজের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকর হতে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, জাপানের মতো মিত্র দেশগুলোর ওপর চীনের খনিজ অবরোধ এই ভূ-রাজনৈতিক সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।
ক্লেয়ারমন্ট ম্যাককেনি কলেজের অধ্যাপক মিনক্সিন পেই এবং ব্রুকিংস ইনস্টিটিউটের জোনাথন জিন মনে করেন, শি জিনপিং নিজ দেশের জনগণের কাছে নিজেকে বিশ্বনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে চান এবং আগামী বছর চতুর্থ মেয়াদে ক্ষমতা সুসংহত করাই তার মূল লক্ষ্য। এই স্নায়ুযুদ্ধের আবহে দুই দেশ কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে যৌথ সংলাপের দিকে এগোচ্ছে। এমনকি ট্রাম্প অনুরোধ করলে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র সংকট নিরসনে চীন মধ্যস্থতা করতে প্রস্তুত বলেও বেইজিংয়ের সামরিক কর্মকর্তারা জানিয়েছেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হোয়াইট হাউসের সুপরিচিত দক্ষিণ বারান্দায় মার্কিন সেনাবাহিনীর বিশেষ ট্রাম্পেটের সুরের পর মূল অডিটোরিয়াম ‘ইস্ট রুমে’ বেজে উঠবে দুই পরাশক্তির জাতীয় সংগীত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: কিন্তু এই অভূতপূর্ব সামরিক প্রদর্শনী, লালগালিচা ও রাষ্ট্রীয় আড়ম্বরের ঠিক পেছনেই জমাট বেঁধে রয়েছে এক মারাত্মক ভূরাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক সংঘাত। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: বিশেষ করে পাল্টাপাল্টি শুল্ক, রেয়ার আর্থ বা বিরল খনিজে চীনের নিয়ন্ত্রণ, এআই নিয়ে নতুন স্নায়ুযুদ্ধ এবং অদৃশ্য সাইবার হামলাসহ অনেক পুরোনো বিরোধের কোনো সুরাহা এখনো হয়নি। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: ফিন্যান্সিয়াল টাইমস ও ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ব অর্থনীতির ভবিষ্যৎ নির্ধারণে এই বৈঠক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: আলোচনার কেন্দ্রে রয়েছে ভূরাজনীতি ও বাণিজ্যের জটিল হিসাব-নিকাশ। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের প্রতিবেদনে বলা হয়, সফরের প্রস্তুতি পর্বে ওয়াশিংটনের অগোছালো পরিকল্পনায় চীনা কর্মকর্তারা কিছুটা বিরক্ত হয়েছিলেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: হোয়াইট হাউসে রাজকীয় ভোজে আপ্যায়িত হওয়ার চেয়ে বড় বৈশ্বিক সম্মান আর কিছু হতে পারে না। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: চীনের পথে ট্রাম্প, শির সঙ্গে বৈঠক ঘিরে মধ্যপ্রাচ্যের উদ্বেগ কেন।