মৌলভীবাজারের শ্রীমঙ্গলে চা শ্রমিকদের জন্য বরাদ্দকৃত সরকারি ভাতার টাকা আত্মসাৎ ও জালিয়াতির চাঞ্চল্যকর অভিযোগ উঠেছে ব্যাংক এশিয়ার বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর বিরুদ্ধে। এই দুর্নীতির বিচার এবং নিজেদের পাওনা বকেয়া অর্থ ফিরে পাওয়ার দাবি জানিয়ে মাজদিহি চা বাগানের ৩০ জন ভুক্তভোগী শ্রমিক বুধবার বিকেলে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মো. জিয়াউর রহমানের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ জমা দিয়েছেন।
ভুক্তভোগী শ্রমিকদের অভিযোগ, সরকার নির্ধারিত ৭ হাজার ৮০০ টাকা ভাতার পরিবর্তে তাদের অনেককে মাত্র ৩ হাজার থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকা প্রদান করা হয়েছে। অর্থ বিতরণের সময় ‘ডকুমেন্ট প্রসেসিং’-এর কথা বলে শ্রমিকদের জাতীয় পরিচয়পত্রের (এনআইডি) ফটোকপিতে টিপসই ও স্বাক্ষর নেওয়া হলেও সেখানে টাকার পরিমাণ উল্লেখ করা হয়নি। অভিযোগপত্রে ব্যাংক এশিয়ার শ্রীমঙ্গল শাখার কর্মচারী রাম কুমারী নুনিয়া, রাজু রায় ও সবিতা বাউরীকে সরাসরি অভিযুক্ত করে তাদের বিরুদ্ধে নিরপেক্ষ তদন্ত ও আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে।
মাজদিহি চা বাগানের শ্রমিক সন্তুকি রায় ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, ভাতা বিতরণে এই চরম অনিয়মের ফলে আমরা প্রান্তিক শ্রমিকরা দারুণভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছি। তিনি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির পাশাপাশি আটকে থাকা টাকা দ্রুত বুঝিয়ে দেওয়ার দাবি জানান। একই বাগানের পঞ্চায়েত কমিটির সাবেক সভাপতি অনিল কর্মকার বলেন, সরকারি ভাতার প্রকৃত মালিক শ্রমিকরা নিজে। বাগানের প্রায় দুই হাজার ভাতাভোগীর টাকা কেন অবৈধভাবে কেটে রাখা হলো, তার সঠিক বিচার প্রশাসনের কাছে প্রত্যাশা করছি।
ঘটনাটি মৌখিকভাবে শোনার কথা জানিয়েছেন ব্যাংক এশিয়ার জেলা কার্যালয়ের ব্যবস্থাপক তুহিন আহমদ ইয়ামির। তিনি বলেন, লিখিত অভিযোগ পেলে বিষয়টি গভীরভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এছাড়া তিনি উল্লেখ করেন, ভাতাভোগীদের অনেকের টাকা বিকাশ বা রকেটের মাধ্যমে পাঠানো হয়েছে। উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. সোয়েব হোসেন চৌধুরী জানান, শ্রমিকরা লিখিত অভিযোগ দিলে তাৎক্ষণিকভাবে বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এ বিষয়ে ইউএনও মো. জিয়াউর রহমান নিশ্চিত করেছেন যে, তিনি চা শ্রমিকদের কাছ থেকে লিখিত অভিযোগ পেয়েছেন। তিনি বলেন, অভিযোগের সত্যতা ও গভীরতা যাচাইয়ের জন্য বৃহস্পতিবার তিনি নিজে সরেজমিনে মাজদিহি চা বাগানে যাবেন। তদন্তে অভিযোগের সত্যতা প্রমাণিত হলে জড়িতদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনি পদক্ষেপ নেওয়া হবে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: অভিযোগ সূত্রে জানা গেছে, সরকার নির্ধারিত চা শ্রমিকদের প্রাপ্ত ভাতার পূর্ণাঙ্গ ৭,৮০০ টাকার পরিবর্তে ভুক্তভোগী শ্রমিকদের কাউকে ৩,০০০ টাকা আবার কাউকে ৩,৫০০ টাকা করে প্রদান করা হয়েছে।