কারাবন্দি সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের মুক্তির দাবিতে আগামী ২৭ সেপ্টেম্বর ইসলামাবাদ অভিমুখে বড় ধরনের গণমার্চের ডাক দিয়েছে তার দল। এই কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে পুরো পাকিস্তানের রাজনৈতিক অঙ্গনে তীব্র উত্তেজনা বিরাজ করছে। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে দেশটির সরকার রাজধানী ও এর আশপাশের এলাকায় নজিরবিহীন নিরাপত্তাব্যবস্থা গ্রহণ করেছে। ইতিমধ্যে পাঞ্জাব ও সিন্ধু প্রদেশ থেকে প্রায় ১৯ হাজার পুলিশ সদস্যকে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অংশ হিসেবে ইসলামাবাদ-পেশোয়ার মোটরওয়ে, ডেরা ইসমাইল খানমুখী মহাসড়ক, হাজারা মোটরওয়ে এবং অ্যাটকের গ্র্যান্ড ট্রাঙ্ক রোড অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ ঘোষণা করেছে পুলিশ। এ ছাড়া রাজধানীর বিভিন্ন প্রবেশপথে দুই হাজারের বেশি বড় কন্টেইনার বসিয়ে প্রতিবন্ধকতা তৈরি করা হয়েছে। স্থানীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, এই মার্চে প্রায় ২০ থেকে ২৫ হাজার মানুষের সমাগম হতে পারে। দলটির এই গণজমায়েত ঠেকাতে ইতিমধ্যেই ইমরান খানের তিন বোন, পিটিআইয়ের একাধিক আইনপ্রণেতাসহ দেড় হাজারের বেশি নেতাকর্মীকে গ্রেপ্তার করার দাবি করেছে দলটি। তবে সরকারের দাবি, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ঠিক রাখতেই এই প্রতিরোধমূলক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
দেশটিতে সাম্প্রতিক সময়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতির বেশ অবনতি হয়েছে। গত ১৮ সেপ্টেম্বর খাইবার পাখতুনখোয়ার কোহাটে একটি পুলিশ কম্পাউন্ডে হামলায় ২০ জনেরও বেশি মানুষের প্রাণহানি ঘটে। এর দুই দিন পরেই হাঙ্গু এলাকায় এক বন্দুকযুদ্ধে ছয়জন সেনা সদস্য নিহত হন। কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি এই সহিংস ঘটনাগুলোর দিকে ইঙ্গিত করে পিটিআইয়ের কর্মসূচিকে নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হিসেবে আখ্যায়িত করেছেন। অন্যদিকে পিটিআই নেতৃত্ব এই অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করে দাবি করেছে যে, তাদের আন্দোলন সম্পূর্ণ শান্তিপূর্ণ হবে। খাইবার পাখতুনখোয়ার মুখ্যমন্ত্রী সোহেল আফ্রিদি স্পষ্ট করে বলেছেন, তারা কোনো ধরনের অস্ত্র ছাড়াই রাজধানীতে শান্তিপূর্ণ কর্মসূচি পালন করতে যাবেন।
২০২৪ সালের জাতীয় নির্বাচন নিয়ে পিটিআই এবং বর্তমান ক্ষমতাসীন জোটের মধ্যে আগে থেকেই চরম বিরোধ চলছে। নির্বাচনের আগে পিটিআইয়ের দলীয় প্রতীক কেড়ে নেওয়া হলেও স্বতন্ত্র হিসেবে লড়ে দলটির প্রার্থীরা ৯৩টি আসনে জয়লাভ করেছিলেন। পরবর্তীতে পিএমএল-এন-এর নেতৃত্বে জোট সরকার গঠিত হয়। রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, ইমরান খানের দীর্ঘ কারাবাস, বিতর্কিত নির্বাচন এবং বর্তমান বাজারে জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ফলে সৃষ্ট জনঅসন্তোষ একসাথে যুক্ত হলে সরকারের ওপর চাপ বহুগুণ বাড়বে। আর সেই আশঙ্কা থেকেই ২৭ সেপ্টেম্বরের কর্মসূচি দমনে সরকার এত কঠোর অবস্থান নিয়েছে। প্রতিবেদনে যোগ করা তথ্য: স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের হিসাবে, এবারের মার্চে ২০ হাজার থেকে ২৫ হাজার মানুষ অংশ নিতে পারেন।