বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকনের সাংগঠনিক কার্যক্রম ও আচরণের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাকর্মীদের একাংশের মধ্যে তীব্র অসন্তোষ দেখা দিয়েছে। লন্ডনপ্রবাসী এই নেতা দলের চেয়ারপারসন তারেক রহমানের ঘনিষ্ঠ হিসেবে পরিচিত হলেও, বর্তমান সাংগঠনিক পরিস্থিতিতে তাকে নিয়ে অনেক নেতার মধ্যেই বিরূপ মনোভাব তৈরি হয়েছে। দলীয় সূত্র ও যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাধিক সিনিয়র নেতার ভাষ্যমতে, দায়িত্ব পাওয়ার পর থেকে নিয়মিত সাংগঠনিক কার্যক্রমে যুক্ত থাকলেও, প্রবাসী নেতাদের দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক অবদান ও ত্যাগকে খোকন যথাযথ গুরুত্ব দিচ্ছেন না বলে অভিযোগ উঠেছে।
বিশেষ করে ওয়ান-ইলেভেনের সময় খালেদা জিয়ার মুক্তির দাবিতে রাজপথে সক্রিয় থাকা কর্মীদের দীর্ঘদিনের ভূমিকা ও ত্যাগের কথা এখন আর কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্তে প্রতিফলন ঘটাচ্ছে না বলে অনেকে মনে করছেন। যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, খোকন কেন্দ্রীয় নেতৃত্বের কাছে সাংগঠনিক পরিস্থিতির প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে ব্যর্থ হচ্ছেন। বরং অনেক ক্ষেত্রে নেতাকর্মীদের সঙ্গে তার কঠোর ও ধমকের সুরে কথা বলার প্রবণতা ক্ষোভের জন্ম দিয়েছে। কোনো বিষয়ে মতের অমিল হলে তিনি অতিমাত্রায় রূঢ় আচরণ করেন বলেও ভুক্তভোগী নেতাদের দাবি।
জাতিসংঘের ৮১তম সাধারণ অধিবেশন উপলক্ষে নিউইয়র্কে বিএনপির বিভিন্ন কর্মসূচি ঘিরে এই উত্তাপ আরও বেড়েছে। দলীয় কর্মীদের একটি বড় অংশের ভাষ্য অনুযায়ী, সাংগঠনিক কার্যক্রম পরিচালনার সময় একাধিকবার খোকনের অসহিষ্ণু আচরণের কারণে অপ্রীতিকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। গত ২১ সেপ্টেম্বর সোমবার বিকালে জেএফকে বিমানবন্দরে তারেক রহমানের আগমনকে কেন্দ্র করে স্বাগত কর্মসূচি পালনের সময়ও বেশ কয়েকজন নেতাকর্মীর সঙ্গে তার বাকবিতণ্ডার ঘটনা ঘটে। এর আগে ১৯ সেপ্টেম্বর শনিবার নিউইয়র্কে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনের মঞ্চে আসন গ্রহণ নিয়ে সিনিয়র নেতাদের উপেক্ষা করার অভিযোগও উঠেছে তার বিরুদ্ধে। ওই সংবাদ সম্মেলনে উপস্থিত ছিলেন দলের প্রবীণ অনেক নেতা, যারা আনোয়ার হোসেন খোকনের রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের শুরু থেকেই বিএনপির রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত। তাদের উপেক্ষা করায় প্রবীণ মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়েছে।
বর্তমানে দলের শীর্ষ নেতৃত্বের যুক্তরাষ্ট্র সফরকে কেন্দ্র করে নেতাকর্মীদের মাঝে নতুন করে কমিটির বিষয়ে নানা জল্পনা-কল্পনা চলছে। একাধিক সিনিয়র নেতা স্পষ্ট জানিয়েছেন, এই সফরেও যদি নতুন কমিটির বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সিদ্ধান্ত না আসে, তবে আনোয়ার হোসেন খোকনের কর্তৃত্ব নিয়ে প্রকাশ্য বিরোধিতা আরও জোরালো হবে। কমিটি গঠিত না হলে খোকনের নেতৃত্ব মেনে নিতে অনেক নেতাই আর প্রস্তুত নন বলে জানিয়েছেন। এসব অভিযোগ ও প্রতিক্রিয়ার বিষয়ে জানতে ঠিকানার পক্ষ থেকে আনোয়ার হোসেন খোকনের সঙ্গে একাধিকবার ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন রিসিভ করেননি। এমনকি টেক্সট মেসেজ পাঠিয়েও তার বক্তব্য নেওয়ার চেষ্টা চালানো হয়, কিন্তু প্রতিবেদন প্রকাশের পূর্ব পর্যন্ত তার তরফ থেকে কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।