রাজধানীর মিরপুরে একটি এনজিওর স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠানে হামলা ও ভাঙচুরের ঘটনায় তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। তিনি অভিযোগ করেছেন, দেশের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি ভেঙে পড়েছে এবং বর্তমান সরকারের কোনো অস্তিত্ব আছে কি না, তা নিয়ে জনমনে বড় ধরনের প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। গত বৃহস্পতিবার মধ্যরাতে মিরপুর ১ নম্বরে অবস্থিত ‘রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার’ নামক এই প্রতিষ্ঠানে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে একটি পাকা ও তিনটি সেমিপাকা ভবনসহ পুরো স্থাপনাটি গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়।
নাহিদ ইসলাম তার ফেইসবুক পোস্টে উদ্বেগ প্রকাশ করে লেখেন, গত ৫০ বছর ধরে প্রসূতি মা ও শিশুদের চিকিৎসা এবং টিকাদান কার্যক্রম পরিচালনা করে আসা এই প্রতিষ্ঠানটি যেভাবে মধ্যরাতে ধ্বংস করা হয়েছে, তা দেশের নাজুক পরিস্থিতিরই প্রতিফলন। হামলাকারীরা অফিসের মূল্যবান আসবাবপত্রসহ প্রচুর টিকাদান সামগ্রী লুটপাট করেছে বলেও অভিযোগ রয়েছে। তিনি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর ভূমিকার কড়া সমালোচনা করে বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর এমন নীরব ও নির্বিকার থাকা গোটা জাতির জন্য লজ্জাজনক। এমন পরিস্থিতিতে একটি দেশ স্বাভাবিকভাবে চলতে পারে না বলে তিনি মন্তব্য করেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেছেন, দিনের পর দিন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির এমন ভয়াবহ অবনতি ঘটলেও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর কার্যত নিষ্ক্রিয় ভূমিকা গোটা জাতির জন্য লজ্জার। হামলাকারীরা জমিটির সামনে ‘সমমনা দোকানদার সমিতি লি।
এই ভাঙচুর ও দখলের নেপথ্যে সংরক্ষিত নারী আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি এবং মহানগর উত্তর বিএনপির এক প্রভাবশালী নেতার ইন্ধন রয়েছে বলে স্থানীয়দের বরাতে দাবি করেছেন এনসিপি নেতা। তিনি এই ঘটনায় জড়িত প্রত্যেকের অবিলম্বে গ্রেপ্তার ও বিচারের দাবি জানান। এ বিষয়ে শনিবার মধ্যরাতে এনসিপির নেতা সারোয়ার তুষার গণমাধ্যমকে জানান, তারা সেখানে সংবাদ সম্মেলন করবেন। তিনি বলেন, “আমাদের সুস্পষ্ট দাবি, রাড্ডা এমসিএইচএফপি সেন্টারে ভাঙচুর ও লুটপাটের সঙ্গে জড়িত প্রত্যেক ব্যক্তিকে অবিলম্বে গ্রেপ্তার করে বিচারের মুখোমুখি করতে হবে। একই সঙ্গে এই ঘটনার নেপথ্যে থাকা মূল হোতাদেরও চিহ্নিত করে আইনের আওতায় আনতে হবে এবং দোষীদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে। এ ঘটনার সরেজমিন খোঁজ খবর নিতে রোববার সকালে এনসিপির একটি প্রতিনিধি দল মিরপুরে ঘটনাস্থলে যাবে।
এদিকে, স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি ভাঙচুরের ঘটনায় রাড্ডার নির্বাহী পরিচালক নাসরিন আখতার বাদী হয়ে শাহ আলী থানায় একটি মামলা দায়ের করেছেন। মামলায় স্থানীয় বিএনপি নেতা হানিফসহ ২০০ থেকে ২৫০ জনকে আসামি করা হয়েছে। পুলিশ ইতিমধ্যে ঘটনার সঙ্গে জড়িত চারজনকে গ্রেপ্তার করেছে এবং আদালত তাদের কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছেন।