রাজধানীর মিরপুরে হামলা, ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পরিদর্শন করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান। এই স্বাস্থ্যকেন্দ্রটি পুনরায় চালু এবং এর কার্যক্রম সচল করার লক্ষ্যে দলটির পক্ষ থেকে ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) জামায়াতে ইসলামী ঢাকা মহানগরী উত্তরের প্রচার ও মিডিয়া সম্পাদক মো. আতাউর রহমান সরকারের পাঠানো এক বার্তায় এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়। রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টার পুনঃপ্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ৫০ লাখ টাকা অনুদান দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে জানিয়ে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘প্রয়োজন হলে এলাকার মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে আরও সহযোগিতা করা হবে। প্রয়োজনে এই এলাকার মানুষের চিকিৎসার জন্য আরও যদি কিছু করতে হয়, তাহলে আমরা করব ইনশাআল্লাহ। এ সময় উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরীর সেক্রেটারি ড. মুহাম্মদ রেজাউল করিম, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি মাহফুজুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য ও মহানগরীর সহকারী সেক্রেটারি। মঈনুদ্দিন, জি এম হাফিজুর রহমান ও মনিরুল ইসলাম মৃধাসহ অনেকে।
পরিদর্শন শেষে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে এই অনুদান দেওয়া হচ্ছে। জনগণের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করার স্বার্থে প্রয়োজনে ভবিষ্যতে আরও সহায়তা অব্যাহত থাকবে। তিনি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ঘটে যাওয়া হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। জামায়াত আমির অভিযোগ করেন, সরকারি দলের মদদ ছাড়া এত বড় ধ্বংসাত্মক কর্মকাণ্ড চালানোর সাহস কোনো দুষ্কৃতকারীর হওয়া সম্ভব নয়। তার মতে, বর্তমানে দেশের বিভিন্ন স্থানে যে ‘মব সন্ত্রাস’ চলছে, তা মূলত সরকারি দলের ছত্রছায়াতেই হচ্ছে।
দেশের সামগ্রিক আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতিতে উদ্বেগ প্রকাশ করে তিনি সরকারকে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান। তিনি স্পষ্টভাবে বলেন, দুর্বৃত্তরা যেন আর কোথাও কোনো ধরনের অসামাজিক বা অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালানোর সুযোগ না পায়, সে জন্য সরকারকে এখনই কঠোর হতে হবে। একই সঙ্গে, রাড্ডা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভাঙচুরের সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় আনার দাবি জানান তিনি। ক্ষতিগ্রস্ত চিকিৎসা কেন্দ্রটি পুনরায় চালু করার মাধ্যমে এলাকাবাসীর সেবা নিশ্চিত করার জন্য সরকারের প্রতি জোরালো আহ্বান জানিয়েছেন জামায়াত আমির। অপরাধী যেই হোক, তাকে আইনের আওতায় আনা উচিত।