গাজা উপত্যকার উত্তরাঞ্চলে হামাসের সশস্ত্র শাখার দায়িত্ব পালনকারী শীর্ষ কমান্ডার ইজ্জ আল-দীন আল-বেইক ইসরায়েলি বিমান হামলায় প্রাণ হারিয়েছেন। মঙ্গলবার গাজা সিটির নাসর এলাকায় অবস্থিত একটি আবাসিক ভবনে এই সামরিক অভিযান পরিচালনা করা হয়। হামাস কর্তৃপক্ষ এবং চিকিৎসা সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো এই কমান্ডার নিহত হওয়ার বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করেছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু এবং প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ এক যৌথ বিবৃতিতে তার মৃত্যুর কথা জানিয়েছেন। তাদের দাবি, আল-বেইক হামাসের বিভিন্ন হামলার পরিকল্পনা এবং নতুন যোদ্ধা নিয়োগের সঙ্গে সরাসরি জড়িত ছিলেন। উল্লেখ্য যে, এর আগে হামাসের সাবেক কমান্ডার আহমেদ আল-গানদুর নিহত হওয়ার পর আল-বেইক সেই দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন। আল জাজিরার প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ভোরের দিকে নাসর এলাকার ওই আবাসিক ভবনে হামলাটি চালানো হয়। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে গাজায় হামাসের বিরুদ্ধে ইসরায়েলি হামলা জোরদার হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুসারে, মঙ্গলবার ওই একই হামলায় আরও একজন আহত হন, যিনি পরবর্তীতে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী দাবি করেছে, কেবল চলতি মাসেই তারা হামাসের অন্তত ২০ জন সদস্যকে লক্ষ্য করে সফল অভিযান চালিয়েছে। নিহতদের মধ্যে বেশ কয়েকজন জ্যেষ্ঠ কমান্ডার এবং ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবরের ঘটনার সঙ্গে সংশ্লিষ্টরা রয়েছেন। অন্যদিকে, হামাসের পক্ষ থেকে অভিযোগ করা হয়েছে যে, যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি চুক্তিকে ইসরায়েল বারবার অকার্যকর করে তুলছে। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের পরিসংখ্যান অনুযায়ী, যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকার সময়েও ইসরায়েলি হামলায় ১ হাজার ৪০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। একই সময়ে ইসরায়েলি বাহিনীর চার সেনা সদস্যের মৃত্যুর কথাও জানিয়েছে তেল আবিব। যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে গাজা পুনর্গঠনের পথ তৈরি করার কথা থাকলেও হামাসের নিরস্ত্রীকরণ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের শর্ত নিয়ে আলোচনায় অগ্রগতি থমকে আছে।