সুন্দরবনসংলগ্ন ভোলা নদীতে মাছ ধরার সময় জহুরুল হাওলাদার নামের এক জেলের জালে ২০ কেজি ওজনের বিশাল আকৃতির একটি কোরাল মাছ ধরা পড়েছে। সোমবার সকালে বাগেরহাটের শরণখোলায় বন বিভাগের অনুমতি নিয়ে মাছ ধরতে গিয়ে এই বিরল প্রাপ্তির মুখোমুখি হন তিনি। জহুরুল জানান, জাল ফেলার পর হঠাৎ বড় ধরনের টান অনুভব করেন তিনি। এরপর অনেক চেষ্টার পর জাল টেনে নৌকায় তোলার সময় মাছটির বিশাল আকৃতি দেখে বিস্মিত হন তিনি। মেপে দেখা যায়, মাছটির ওজন ঠিক ২০ কেজি। পরে কৌশল অবলম্বন করে জাল টেনে নৌকায় তুলতেই দেখা মেলে বিশাল আকারের এক কোরাল মাছের।
বাজারে আনার পরপরই মাছটি নিয়ে ব্যাপক আগ্রহ দেখা যায়। সকাল ১০টার দিকে স্থানীয় মৎস্য আড়তদার শাহাদাত মুন্সী মাছটি মোট ৩৬ হাজার টাকায় কিনে নেন। সেই হিসেবে প্রতি কেজি কোরাল মাছের দাম পড়েছে ১ হাজার ৮০০ টাকা। ক্রেতা শাহাদাত মুন্সী জানান, গত এক মাসে সুন্দরবন অঞ্চল থেকে যে পরিমাণ মাছ বাজারে এসেছে, তার মধ্যে এটিই এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় কোরাল। ভালো চাহিদা থাকায় তিনি লাভজনক দামেই মাছটি কিনতে পেরেছেন। মাছটি স্থানীয় শরণখোলা বাজারে নিয়ে আসা হলে ৩৬ হাজার টাকায় বিক্রি হয়। ক্রেতাদের কাছে বড় কোরালের কদর বেশি থাকায় ভালো দামে কিনে নিয়েছি।
এলাকার ব্যবসায়ীরা জানান, সুন্দরবনে তিন মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা শেষে গত এক মাসে জেলেদের জালে বড় সাইজের মাছের আনাগোনা বেড়েছে। এই কোরাল মাছটির আকার স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক বড় হওয়ায় জেলে ভালো দাম পেয়ে খুশি। বড় মাছের কদর থাকায় স্থানীয় বাজারেও এটি বেশ আকর্ষণীয় ছিল বলে জানান তারা।
এদিকে, পূর্ব সুন্দরবনের শরণখোলা রেঞ্জের সহকারী রেঞ্জ কর্মকর্তা (এসিএফ) মো. খলিলুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, তিন মাসের সরকারি নিষেধাজ্ঞা চলাকালে বনাঞ্চলের জলাশয়গুলোতে মাছগুলো নির্বিঘ্নে বৃদ্ধি পাওয়ার পর্যাপ্ত সময় পেয়েছে। এর ফলে এখন জেলেদের জাল কিংবা বড়শিতে বড় সাইজের মাছ ধরা পড়ছে, যা জেলেদের আয়ের পথ সুগম করছে এবং তারা বাজারে এর ভালো দামও পাচ্ছেন।