প্রতিরক্ষা ও আকাশযান প্রযুক্তিতে বড় ধরনের স্বনির্ভরতা অর্জন করছে তুরস্ক। তুর্কি অ্যারোস্পেস ইন্ডাস্ট্রিজের (টিএআই) অঙ্গপ্রতিষ্ঠান টিইআই এখন নিজস্ব প্রযুক্তিতে তৈরি ইঞ্জিন দেশটির প্রতিরক্ষা সরঞ্জামে যুক্ত করার চূড়ান্ত প্রস্তুতি নিচ্ছে। এর মধ্যে টিইআই-টিএস১৪০০ ইঞ্জিনটি গোকবেই হেলিকপ্টারের জন্য এবং টিইআই-টিএফ৬০০০ মডেলের জেট ইঞ্জিন বায়কারের কিজিলেলমা মানববিহীন আকাশযানে ব্যবহারের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
টিইআইয়ের মহাব্যবস্থাপক মাহমুত ফারুক আকসিত জানিয়েছেন, টিএস১৪০০ ইঞ্জিন উড্ডয়ন পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় পরিপক্বতা অর্জন করেছে এবং এর ব্যাপক উৎপাদনের ইউনিটও প্রস্তুত। তবে বাণিজ্যিকভাবে ব্যবহারের আগে ইঞ্জিনটির প্রয়োজনীয় সনদায়ন বা সার্টিফিকেশন সম্পন্ন করতে হবে। বর্তমানে গোকবেই হেলিকপ্টারে নিজস্ব ইঞ্জিন ব্যবহারের লক্ষ্যে আট ধরনের ইঞ্জিন নিয়ে সমান্তরালভাবে বিভিন্ন পরীক্ষা চলছে। একই সাথে টিএফ৬০০০ জেট ইঞ্জিনের কার্যক্রমভিত্তিক পরীক্ষা সম্পন্ন হয়েছে এবং এটি উড্ডয়নের জন্য প্রস্তুত। আগামী বছরের শুরুতে বায়কারের কাছে এই ইঞ্জিন সরবরাহের পরিকল্পনা রয়েছে। এছাড়া আরও শক্তিশালী টিআই-টিএফ১০০০০ ইঞ্জিনটি আগামী বছর শেষ হওয়ার আগেই পূর্ণ সক্ষমতায় আনার লক্ষ্য নেওয়া হয়েছে। তবে এজন্য আরও বেশ কিছু পরীক্ষা প্রয়োজন।
গত দশ বছরে টিইআইয়ের প্রকৌশল ও গবেষণা সক্ষমতায় বৈপ্লবিক পরিবর্তন এসেছে। এক দশক আগে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রকৌশলী ও গবেষণা কর্মীর সংখ্যা মাত্র ৮০ জন থাকলেও বর্তমানে শুধু প্রকৌশলীর সংখ্যাই ১ হাজার ৩০০ জন। সব মিলিয়ে প্রকৌশল বিভাগে কর্মীর সংখ্যা প্রায় ২ হাজারে উন্নীত হয়েছে। এই সক্ষমতা বাড়ার ফলে স্থানীয় চাহিদার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক বাজারেও টিইআইয়ের পদচারণা বাড়ছে। ইতোমধ্যে প্রযুক্তিগতভাবে উন্নত একটি দেশের সঙ্গে টিইআই রপ্তানি চুক্তি বাস্তবায়ন করছে এবং দ্বিতীয় একটি বিদেশি ক্রেতার সঙ্গেও নতুন করে আলোচনা চলছে। প্রায় ১০ বছর আগে যেখানে প্রতিষ্ঠানটিতে প্রকৌশলী ও গবেষণা-উন্নয়ন কর্মীর সংখ্যা ছিল প্রায় ৮০, বর্তমানে শুধু প্রকৌশলীর সংখ্যাই প্রায় ১ হাজার ৩০০।
বর্তমানে তুরস্কের তৈরি ডিজেলচালিত উড়োজাহাজ ইঞ্জিন বায়রাকতার টিবি৩, আকসুঙ্গুর এবং আনকা ড্রোনগুলোতে সফলভাবে ব্যবহৃত হচ্ছে। টিইআইয়ের তৈরি মানববিহীন আকাশযানের প্রপালশন সিস্টেম ইতোমধ্যে মোট ২০ হাজার ঘণ্টা কার্যকর উড্ডয়ন সম্পন্ন করেছে। কেবল চলতি বছরই প্রতিষ্ঠানটি ১০০টিরও বেশি ড্রোন ইঞ্জিন সরবরাহ করেছে, যা তুরস্কের সামরিক শক্তি বৃদ্ধির ক্ষেত্রে একটি বড় মাইলফলক হিসেবে দেখা হচ্ছে।