প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরাসরি হস্তক্ষেপে কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন সসম্মানে নিজ বাড়িতে ফিরেছেন। প্রধানমন্ত্রীর বাংলা উচ্চারণ নিয়ে ক্লাসে মন্তব্য করার অভিযোগ উঠলে পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য আটক করেছিল। আটকের ঘটনা গণমাধ্যমে প্রকাশিত হওয়ার পর তা প্রধানমন্ত্রীর নজরে আসে। এরপর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে কুষ্টিয়ার পুলিশ সুপারকে জরুরি ভিত্তিতে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো হয়রানিমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ না করে তাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়।
নির্দেশনা পাওয়ার পরপরই বুধবার রাত পৌনে ১২টার দিকে দৌলতপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) খালেদুর রহমান এবং সহকারী কমিশনার (ভূমি) সশরীরে প্রাগপুর গ্রামে ওই শিক্ষকের বাসভবনে উপস্থিত হন। পরে তারা তাকে নিরাপদে পৌঁছে দেন। এ বিষয়ে ওসি খালেদুর রহমান জানান, পুলিশ সুপারের নির্দেশ অনুযায়ী প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তাদের উপস্থিতিতে শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালনকে তার বাড়িতে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রীর মানবিক ও দ্রুত এই পদক্ষেপের মাধ্যমে পুরো ঘটনার সম্মানজনক নিষ্পত্তি হয়েছে।
ঘটনার সূত্রপাত হয় গত মঙ্গলবার বিকেল ৩টার দিকে, যখন দশম শ্রেণির বাংলা ক্লাস চলাকালে জাতিসংঘে প্রধানমন্ত্রীর সাম্প্রতিক ভাষণ নিয়ে আলোচনা হচ্ছিল। অভিযোগ ওঠে, শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন এ সময় প্রধানমন্ত্রীর নাম উল্লেখ করে কিছু মন্তব্য করেছিলেন, যা নিয়ে শিক্ষার্থীদের মধ্যে অসন্তোষ দেখা দেয়। শিক্ষার্থীরা বিষয়টি বাড়িতে জানালে বুধবার সকালে স্থানীয় অভিভাবক ও বাসিন্দারা বিদ্যালয় চত্বরে জড়ো হয়ে শিক্ষকের শাস্তির দাবি তোলেন। পরিস্থিতি সামাল দিতে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে শিক্ষককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফুজ্জামান মুকুল সরকার জানান, বুধবার সকালে বিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতিসহ সংশ্লিষ্টদের উপস্থিতিতে বিষয়টি নিয়ে শিক্ষকের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছিল। তখন শিক্ষক গোলাম কিবরিয়া লালন প্রধানমন্ত্রীর সমালোচনা করার অভিযোগ দৃঢ়ভাবে অস্বীকার করেন। তিনি স্পষ্ট করেন যে, ক্লাসে তিনি কেবল এটুকু বলেছিলেন, প্রধানমন্ত্রী দীর্ঘদিন বিদেশে অবস্থানের কারণে তার বাংলা উচ্চারণে কিছুটা অস্পষ্টতা তৈরি হয়েছে। কেবল এই ভাষাগত পর্যবেক্ষণটুকুই তিনি ক্লাসে তুলে ধরেছিলেন বলে দাবি করেন এই শিক্ষক।