পাকিস্তান ক্রিকেট বোর্ডের (পিসিবি) সাম্প্রতিক রদবদলের গুঞ্জন ঘিরে আলোচনার কেন্দ্রে ছিলেন দেশটির সাবেক কিংবদন্তি পেসার শোয়েব আখতার। ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তিন ম্যাচের টেস্ট সিরিজে পাকিস্তানের ৩-০ ব্যবধানে পরাজয়ের পর থেকেই দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়ে। সেই ধারাবাহিকতায় পাকিস্তানের নির্বাচক কমিটির প্রধান হিসেবে শোয়েবের নাম আলোচনায় আসে। এমনকি পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সাথে তার বিশেষ বৈঠকের দাবিও করেছিল বিভিন্ন গণমাধ্যম। তবে সব জল্পনা উড়িয়ে দিয়ে শোয়েব স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছেন, পিসিবির কোনো পদে যোগ দেওয়ার কোনো আগ্রহই তার নেই। বিদ্যুৎ, গ্যাস, পানিতে বাড়তি খরচ, সিন্ডিকেটের হাতে জিম্মি বস্তিবাসী। দেশটির সাবেক গতিতারকাকে প্রধান নির্বাচকের দায়িত্ব দেওয়া হতে পারে, এমন খবর ছড়িয়ে পড়েছিল পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যমে। সেই কথাই এখনও মনে রেখেছেন সাবেক এই পেসার।
পিটিভি স্পোর্টসের একটি অনুষ্ঠানে শোয়েবকে প্রধান নির্বাচক হওয়ার গুঞ্জন নিয়ে প্রশ্ন করা হলে তিনি তা ভিত্তিহীন বলে উড়িয়ে দেন। তিনি বলেন, ‘আমি প্রধান নির্বাচক হওয়ার খবর শুনছি ঠিকই, কিন্তু এসবই অনুমাননির্ভর এবং পুরোপুরি ভুয়া। এসব দাবির কোনো সত্যতাই নেই।’ বর্তমানে ব্যক্তিগত সফরে যুক্তরাষ্ট্রের হিউস্টনে অবস্থানরত এই তারকা নিশ্চিত করেছেন যে, বোর্ড চেয়ারম্যানের সঙ্গে তার কোনো আনুষ্ঠানিক আলোচনা বা প্রস্তাবের বিষয়টি ঘটেনি। গাজায় ধ্বংসযজ্ঞের ছবি পোস্ট করে যা লিখলেন অ্যাঞ্জেলিনা জোলি। গভীর রাতে ৪.৮ মাত্রার ভূমিকম্প, উৎপত্তিস্থল মিয়ানমারে।
পিসিবির দায়িত্ব থেকে নিজেকে সরিয়ে রাখার পেছনে বহু বছর আগের মায়ের দেওয়া এক পরামর্শের কথা তুলে ধরেন সাবেক এই ফাস্ট বোলার। শোয়েব জানান, তার মা তাকে পিসিবি ও পাকিস্তানের রাজনীতির জটিলতা থেকে সবসময় দূরে থাকার উপদেশ দিয়েছিলেন। তিনি সেই পরামর্শকে এখনো শ্রদ্ধা করেন এবং তা মেনে চলতে চান। শোয়েব স্পষ্ট করে বলেন, ‘আমার মা আমাকে ক্রিকেট বোর্ডের কোনো বিষয় বা রাজনীতির সংস্পর্শে না যাওয়ার পরামর্শ দিয়েছিলেন। আমি সেই পরামর্শই অক্ষরে অক্ষরে পালন করছি।’ ‘বাচ্চু আমলের’ ক্ষত এখনো বয়ে বেড়াচ্ছে বেসিক ব্যাংক। পিসিবিতে যাওয়ার ব্যাপারে আমি মোটেও আগ্রহী নই।
দেশের ক্রিকেট নিয়ে তার আগ্রহের অভাব নেই, তবে পিসিবির আনুষ্ঠানিক পদে না থেকেও যে অবদান রাখা সম্ভব—সেটিই তিনি বিশ্বাস করেন। পাকিস্তান দলের সাম্প্রতিক পারফরম্যান্স নিয়ে সমালোচনার মাঝে তিনি বলেন, বোর্ডের সঙ্গে চুক্তিবদ্ধ না থেকেও দেশের ক্রিকেটের উন্নতির জন্য কাজ করা সম্ভব। শোয়েবের মতে, ক্রিকেটকে সেবা করার জন্য কোনো নির্দিষ্ট পদের প্রয়োজন নেই, বরং ভিন্ন উপায়েও পাকিস্তান ক্রিকেটের সমৃদ্ধিতে অবদান রাখা যায়।
এর আগে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলোতে দাবি করা হয়েছিল, দলের ভাগ্য ফেরাতে পিসিবি চেয়ারম্যান মহসিন নকভির সঙ্গে শোয়েবের বিস্তারিত আলোচনা হয়েছে। কিন্তু শোয়েব এবার নিজেই সেই সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়ে বোর্ডের সঙ্গে সম্পৃক্ততার সব খবর মিথ্যা বলে উড়িয়ে দিলেন। দেশের ক্রিকেটের জন্য তার ভালোবাসা থাকলেও, পিসিবির কাঠামোর ভেতরে যাওয়ার কোনো ইচ্ছাই যে তার নেই, সেটি তিনি এখন সবার কাছে পরিষ্কার করে দিয়েছেন।