সৌদি আরবের রাজধানীর উপকণ্ঠে অবস্থিত একটি তেল স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীরা। শনিবার গভীর রাতে হুতি সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি জানান, তারা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ব্যবহার করে রিয়াদে এই হামলা পরিচালনা করেছেন, যার ফলে সেখানে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। ঘটনাস্থলে থাকা সংবাদকর্মীরা রিয়াদের দক্ষিণে আরামকোর তেল শোধনাগারে আগুন ও ধোঁয়া উড়তে দেখেছেন এবং অগ্নিনির্বাপক কর্মীদের আগুন নেভানোর প্রাণান্তকর চেষ্টা প্রত্যক্ষ করেছেন। এ সময় স্থাপনাটির চারপাশে জরুরি সেবার অ্যাম্বুলেন্স ও পুলিশের তৎপরতা লক্ষ্য করা গেছে।
এই হামলার জবাবে ইয়েমেনের রাজধানী সানায় সৌদি জোটের বিমান হামলা তীব্রতর হয়েছে। হুতি-নিয়ন্ত্রিত আল-মাসিরাহ টিভির তথ্য অনুযায়ী, সৌদি বাহিনী সানায় ২৬ বার বিমান হামলা চালিয়েছে। স্থানীয় সংবাদকর্মীরা জানিয়েছেন, প্রচণ্ড বিস্ফোরণের শব্দে কেঁপে উঠেছে পুরো শহর এবং আকাশসীমায় যুদ্ধবিমান থেকে ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করতে দেখা গেছে। এছাড়া, গত শুক্রবার হুতিরা দাবি করেছিল যে, সৌদি আরব তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা বিভিন্ন এলাকায় অন্তত ৯৪টি বিমান হামলা চালিয়েছে। এর পাশাপাশি সৌদি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইয়েমেন সীমান্তের কাছে নাজরান শহরের একটি স্কুলে হুতিদের ছোড়া প্রজেক্টাইল আঘাত হেনেছে, যার ফলে অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। এর আগে তারা সানায় ‘সৌদি আগ্রাসনের’ খবর দিলেও হামলার লক্ষ্যবস্তু বা হতাহতের বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি। এদিকে, শনিবারের শুরুর দিকে হুতিদের আল-মাসিরাহ চ্যানেল জানায়, তাদের অন্যতম শক্ত ঘাঁটি ইয়েমেনের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় সা’দা প্রদেশে টেলিযোগাযোগ নেটওয়ার্ক লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে।
দীর্ঘ চার বছরের ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতি শেষে গত মাস থেকে ইয়েমেনে সংঘাত নতুন করে দানা বেঁধেছে। ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী লোহিত সাগরের উপকূল ও গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মানদেব প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার পর থেকে দুই পক্ষের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছেছে। সানায় হুতি প্রতিনিধিদের বহনকারী একটি বিমান নিয়ে রিয়াদের অনুমতি না পাওয়ার ঘটনাকে কেন্দ্র করে এই সংঘাত আরও ঘনীভূত হয়। এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা সৌদি আরবের তেল অবকাঠামোসহ বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে নিয়মিত আক্রমণ শুরু করে এবং লোহিত সাগরে নৌ-অবরোধের ঘোষণা দেয়। একদিকে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুতি গোষ্ঠী, যারা সানা-সহ উত্তর-পশ্চিম ইয়েমেনের অধিকাংশ নিয়ন্ত্রণ করছে; অন্যদিকে রয়েছে আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ইয়েমেন সরকার। এডেন শহরভিত্তিক এই সরকার দেশের দক্ষিণ ও পূর্বের অধিকাংশ অঞ্চল নিয়ন্ত্রণ করে। অঞ্চলটি আয়তনে বড় হলেও জনসংখ্যায় বেশ কম।
ইয়েমেনের তৃতীয় বৃহত্তম শহর তাইজকে কেন্দ্র করে শুক্রবার উভয় পক্ষের সংঘর্ষে ব্যাপক প্রাণহানির খবর পাওয়া গেছে। হুতিদের দাবি অনুযায়ী তাদের ৫৫ জন যোদ্ধা নিহত হয়েছে, অন্যদিকে সরকারি সূত্রগুলো জানিয়েছে তাদের ২৬ জন সৈন্য প্রাণ হারিয়েছে। তাইজ শহরের পাহাড়ী অঞ্চলগুলোতে এখন তীব্র লড়াই চলছে, যা হুতিদের দখলকৃত উপকূলীয় এলাকাগুলোর ওপর কৌশলগত প্রভাব ফেলছে। দেশে ফিরে আসতে চেয়েছিলেন, সড়ক দুর্ঘটনায় প্রাণ হারালেন মালয়েশিয়াতেই।
এই নতুন সংঘাত ইয়েমেনের মানবিক পরিস্থিতিকে চরম বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছে। বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচির তথ্যমতে, দেশটির তিন-চতুর্থাংশ মানুষ বর্তমানে মৌলিক খাদ্যের তীব্র সংকটে ভুগছে। এমন পরিস্থিতিতে শনিবার মার্কিন সংবাদমাধ্যম অ্যাক্সিও জানিয়েছে, ট্রাম্প প্রশাসনের শীর্ষ কর্মকর্তারা ইয়েমেন পরিস্থিতি ও ইরান সংঘাত নিয়ে জরুরি বৈঠক করেছেন, যদিও এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসেনি। এদিকে রিয়াদ এই সংকট মোকাবিলায় যুক্তরাষ্ট্রের কাছে সামরিক সহায়তা চেয়ে অনুরোধ জানিয়েছে, তবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এখন পর্যন্ত এতে সাড়া দেননি। যুক্তরাষ্ট্র বিশ্ব বাণিজ্যকে ঔপনিবেশিক যুগে নিয়ে যাচ্ছে: রেহমান সোবহান।
উল্লেখ্য যে, প্রধানমন্ত্রীর বাসভবনের ছাদের সৌরবিদ্যুৎ প্যানেল থেকে জাতীয় গ্রিডে ১২০০ ইউনিট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা হচ্ছে। পাশাপাশি অক্টোবর ও নভেম্বর মাসে প্রধানমন্ত্রীর জাপান, তুরস্ক ও সৌদি আরব সফর নিয়ে কূটনৈতিক মহলে বিভিন্ন আলোচনা চলছে। এছাড়া ইয়েমেন গৃহযুদ্ধের এই নতুন মেরুকরণে লাখো সৈন্য নিয়ে হুতিদের বিরুদ্ধে বড় অভিযানের প্রস্তুতি নিচ্ছে সৌদি জোট, যা পুরো অঞ্চলের ভূ-রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলেছে। কয়েক বছর শান্ত থাকার পর, গত মাসে ইয়েমেন আবারও গৃহযুদ্ধে নিমজ্জিত হয়েছে।