বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০১:১২ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ইরানের হুমকি দূর করতে শক্তিশালী ডানপন্থি সরকারের আহ্বান নেতানিয়াহুর বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান শ্রীপুরে বাবাকে আঘাতের অভিযোগে আটক পলাতক ছেলে আনোয়ার অন্ধ্র উপকূলে প্রবল ঘূর্ণিঝড় অর্ণব: নিরাপদ আশ্রয়ে দুই লাখ মানুষ হুতিদের শান্ত করতে ১০০ কোটি ডলারের প্রস্তাব সৌদি আরবের ডান হাতের আঙুলের চোটে মিরপুর টেস্টে নেই মুশফিক জাপানের জেবিআইসি গভর্নরের সঙ্গে প্রধানমন্ত্রী তারেকের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক বাংলাদেশে এক ট্রিলিয়ন ইয়েন বিনিয়োগ ও ২ লাখ কর্মসংস্থানের যৌথ ঘোষণা সুন্দরবনে দাদা ভাই বাহিনীর সঙ্গে গোলাগুলি, জিম্মি ৫ জেলে উদ্ধার বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর

যুক্তরাষ্ট্রজুড়ে রঙিন আয়োজনে শারদীয় দুর্গোৎসবের প্রস্তুতি

Reporter Name / ৫৩ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ৮ অক্টোবর, ২০২৬

শরতের নীল আকাশে সাদা মেঘের ভেলা আর কাশবনের দোলা জানান দিচ্ছে মা আসছেন। সেই আবহ ও আমেজ এখন সুদূর যুক্তরাষ্ট্রেও ছড়িয়ে পড়েছে। নিউইয়র্ক থেকে শুরু করে নিউজার্সি, বস্টন, শিকাগো, আটলান্টা ও ক্যালিফোর্নিয়া পর্যন্ত বাঙালি অধ্যুষিত শহরগুলোতে এখন চলছে দুর্গাপূজার ব্যাপক প্রস্তুতি। ২০২৬ সালে নিউইয়র্ক ও নিউজার্সি অঞ্চলে পূজার আয়োজনের বিস্তৃতি বিশেষভাবে নজর কাড়ছে। স্থানীয় বিভিন্ন সংগঠন ও কমিউনিটির তথ্য অনুযায়ী, এই অঞ্চলে প্রায় দুই ডজনেরও বেশি পূজার আয়োজন করা হয়েছে। ফলে অক্টোবরজুড়ে নিউইয়র্ক-নিউজার্সির বাঙালি অধ্যুষিত এলাকাগুলো কার্যত একেকটি ছোট বাংলায় পরিণত হচ্ছে।

নিউইয়র্কের প্রাণকেন্দ্র টাইমস স্কয়ারের ফাদার ডাফি স্কয়ারে আয়োজিত উৎসবটি এ বছর বিশেষ তাৎপর্য বহন করছে। ১০ ও ১১ অক্টোবর দুই দিনব্যাপী এই আয়োজনে পূজা-অর্চনা, পুষ্পাঞ্জলি ও প্রসাদ বিতরণের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পর্ব রাখা হয়েছে। শিশু-কিশোরদের গীতাপাঠ, ধুনুচি নাচ এবং বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাষ্ট্রের শিল্পীদের পরিবেশনায় মুখরিত থাকবে এই আয়োজন। ১০ অক্টোবর মহালয়া হওয়ায় টাইমস স্কয়ারের পূজার সঙ্গে এর বিশেষ সংযোগ তৈরি হয়েছে। যদিও মহালয়া ও মূল পূজার সময়সূচির মধ্যে কিছুটা পার্থক্য রয়েছে, তবুও আয়োজকরা ১০ ও ১১ অক্টোবরকে কেন্দ্র করেই সব আনুষ্ঠানিকতা সাজিয়েছেন। ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানের পাশাপাশি সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, বাংলা খাবার, শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ, মেলা ও সামাজিক মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে এসব পূজা। আয়োজকদের প্রকাশিত সূচিতে ১০ অক্টোবর ষষ্ঠী পূজা থেকে শুরু করে সপ্তমী ও অষ্টমীর বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতার কথা রয়েছে। টাইমস স্কয়ারের আয়োজনটির একটি বিশেষ দিক হলো—এটি প্রচলিত বাঙালি কমিউনিটি হলের বাইরে নিউইয়র্কের সবচেয়ে দৃশ্যমান জনপরিসরে দুর্গাপূজাকে নিয়ে এসেছে। প্রতিদিন বিশ্বের নানা দেশ থেকে আসা পর্যটক ও দর্শনার্থীদের সামনে দেবী দুর্গার আরাধনা, বাংলা সংগীত, নৃত্য ও বাঙালি সংস্কৃতির নানা অনুষঙ্গ তুলে ধরার সুযোগ তৈরি হচ্ছে।

প্রবাসী বাঙালিদের এই উৎসবের ইতিহাস বেশ পুরনো। নিউইয়র্কে প্রথমবারের মতো দুর্গাপূজা আয়োজিত হয় ১৯৭০ সালে। সময়ের পরিক্রমায় সেই ছোট পরিসরের আয়োজন আজ বিশ্বমঞ্চের কেন্দ্রবিন্দু টাইমস স্কয়ার পর্যন্ত বিস্তৃত হয়েছে, যা প্রবাসী বাঙালি সমাজের বিবর্তনের এক উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত। ইস্ট কোস্ট দুর্গাপূজা অ্যাসোসিয়েশনের ভাষ্যমতে, তাদের প্রতিটি আয়োজনে প্রতি বছর হাজারেরও বেশি ভক্ত ও দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। এছাড়া বাংলাদেশ পূজা সমিতি অব নিউইয়র্ক ১৯৯০ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর থেকে ধারাবাহিকভাবে পূজা উদযাপন করে আসছে। ২০২৬ সালে তারা তাদের ৩৭তম দুর্গোৎসব উদযাপন করছে, যার মূল আনুষ্ঠানিকতা হবে ৩১ অক্টোবর ও ১ নভেম্বর। নিউইয়র্কে দীর্ঘ ঐতিহ্য যুক্তরাষ্ট্রে দুর্গাপূজার ইতিহাস খুব পুরোনো নয়, কিন্তু এর শিকড় বেশ গভীরে।

নিউজার্সিতেও পূজার আমেজ বেশ গভীর। জার্সি সিটির গার্ডেন স্টেট পূজা কমিটি এ বছর তাদের ৪৫তম দুর্গোৎসবের মাইলফলক স্পর্শ করেছে। তাদের আয়োজনে ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত চলবে পূজার নানা আনুষ্ঠানিকতা। একইসঙ্গে টেক্সাসের রিদম কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন ২৩ ও ২৪ অক্টোবর ফার্মার্স ব্রাঞ্চে তাদের পূজা আয়োজনের প্রস্তুতি নিয়েছে। অ্যারিজোনাতেও থেমে নেই উৎসবের প্রস্তুতি; বাঙালি কালচারাল অ্যাসোসিয়েশন অব অ্যারিজোনা ২৩ থেকে ২৫ অক্টোবর তিন দিনব্যাপী দুর্গাপূজার আয়োজন চূড়ান্ত করেছে। এদিকে, সোইকটের ২০২৬ সালের দুর্গাপূজা ১৬ থেকে ১৮ অক্টোবর ইন্ডিয়ান কালচারাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত হবে।

দুর্গাপূজা এখন কেবল ধর্মীয় গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। ২০২১ সালে ইউনেস্কোর মানবতার অমূর্ত সাংস্কৃতিক ঐতিহ্যের প্রতিনিধিত্বশীল তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে এটি বিশ্বজনীন উৎসবে পরিণত হয়েছে। নিউইয়র্ক, নিউজার্সি বা বোস্টনের মতো ঐতিহ্যবাহী বাঙালি কেন্দ্রগুলোর বাইরেও আমেরিকার নানা প্রান্তে দুর্গাপূজার এই বিস্তার প্রমাণ করে যে, ভৌগোলিক দূরত্ব থাকলেও শিকড়ের টানে প্রবাসীরা তাদের সংস্কৃতিকে ধারণ করে আছেন সমান উৎসাহে। ২০২৬ সালের এই ব্যাপক আয়োজন মূলত প্রবাসী বাঙালি পরিচয়ের এক নতুন অধ্যায় রচনা করছে। কোথাও কয়েক দশকের পুরোনো সংগঠনের ঐতিহ্যবাহী পূজা, কোথাও আবার নতুন প্রজন্মের উদ্যোগে গড়ে উঠছে নতুন আয়োজন।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা