ব্যাটিংয়ের পর এবার ফিল্ডিংয়েও নিজেকে অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেলেন স্টিভ স্মিথ। টেস্ট ক্রিকেটে উইকেটকিপার বাদে ফিল্ডার হিসেবে সবচেয়ে বেশি ক্যাচ নেওয়ার বিশ্বরেকর্ড এখন এই অস্ট্রেলিয়ান তারকার দখলে। এই ম্যাচে অসাধারণ ফিল্ডিং প্রদর্শনীতে তিনি ছাড়িয়ে গেছেন ক্রিকেট বিশ্বের কিংবদন্তিদের। এবার ফিল্ডিংয়েও ইতিহাসের পাতায় নিজের নামটি সবার ওপরে তুলে নিলেন স্টিভ স্মিথ। দীর্ঘদিন ধরে অস্ট্রেলিয়ার হয়ে বোলার-ফিল্ডার জুটির অসাধারণ সমন্বয়ের আরেকটি উদাহরণ হয়ে থাকল এই উইকেট।
স্মিথের এই মাইলফলক স্পর্শ করার যাত্রা শুরু হয় দক্ষিণ আফ্রিকার অধিনায়ক টেম্বা বাভুমাকে সাজঘরে ফিরিয়ে। নাথান লায়নের বলের গতিপ্রকৃতি আগেভাগে বুঝতে পেরে রিভার্স সুইপ খেলার আগেই স্মিথ নিজেকে সঠিক অবস্থানে সরিয়ে নেন, যা তাকে ক্যাচ নিতে সহায়তা করে। এটি ছিল স্মিথের টেস্ট ক্যারিয়ারের ২২০তম ক্যাচ এবং লায়নের বলে তার ৬৪তম শিকার। তবে শট খেলার আগেই যেন ব্যাটসম্যানের পরিকল্পনা বুঝে ফেলেছিলেন স্মিথ। বল ব্যাটে লাগার আগেই জায়গা বদলাতে শুরু করেন তিনি।
ইতিহাস গড়ার মুহূর্তটি আসে প্যাট কামিন্সের বলে ডেভিড বেডিংহামকে আউট করার সময়। লেংথ বলটি কিছুটা লাফিয়ে উঠলে বেডিংহামের ব্যাটের কানায় লেগে বল স্লিপের দিকে ছুটে যায়। বাঁ দিকে ঝাঁপিয়ে পড়ে ক্যাচটি লুফে নেওয়ার মাধ্যমেই স্মিথ তার ২২১তম টেস্ট ক্যাচ পূর্ণ করেন। বলটি কিছুটা অস্বস্তিকরভাবে লাফিয়ে ওঠায় পায়ের মুভমেন্ট ছাড়াই ব্যাট চালান বেডিংহাম।
রেকর্ডের এখানেই ইতি ঘটেনি। দিনের সেরা চমকটি ছিল কাইল ভেরেইনার ক্যাচটি। লায়নের বলে রিভার্স সুইপ খেলার সময় ভেরেইনা কিছুটা ভালো সংযোগ পেলেও, স্মিথ ডান দিকে ঝাঁপিয়ে এক হাতে অবিশ্বাস্যভাবে বলটি তালুবন্দী করেন। সতীর্থ মার্নাস লাবুশেন স্টাম্প মাইক্রোফোনে স্মিথের এই অবিশ্বাস্য ক্যাচ দেখে বিস্ময় প্রকাশ করেন। অফ স্টাম্প বরাবর একটু খাটো লেংথে বল করেছিলেন কামিন্স।
স্মিথের এই অর্জনের আগে সর্বোচ্চ ক্যাচের তালিকায় শীর্ষে ছিলেন ইংল্যান্ডের জো রুট, যিনি ১৬৯ টেস্টে ২২০টি ক্যাচ নিয়েছেন। তালিকার তৃতীয় স্থানে রয়েছেন ভারতের রাহুল দ্রাবিড় (১৬৪ টেস্টে ২১০ ক্যাচ), চতুর্থ স্থানে শ্রীলঙ্কার মাহেলা জয়াবর্ধনে (১৪৯ টেস্টে ২০৫ ক্যাচ) এবং পঞ্চম স্থানে দক্ষিণ আফ্রিকার জ্যাক ক্যালিস (১৬৬ টেস্টে ২০০ ক্যাচ)। এছাড়া অস্ট্রেলিয়ার রিকি পন্টিং ১৬৮ টেস্টে ১৯৬টি ক্যাচ নিয়ে তালিকার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। অস্ট্রেলিয়ার সাবেক অধিনায়ক রিকি পন্টিংও আছেন এই তালিকায়; ১৬৮ টেস্টে তার ক্যাচসংখ্যা ১৯৬। পেছনে ফেলে দেন রাহুল দ্রাবিড়, জ্যাক ক্যালিস ও মার্ক ওয়াহর মতো কিংবদন্তিদের।
স্মিথের পারফরম্যান্স ও ক্যারিয়ারের নানা প্রসঙ্গ নিয়ে সাম্প্রতিক সময়ে বেশ কিছু বিষয় আলোচনায় উঠে এসেছে। এর মধ্যে রয়েছে বাংলাদেশের বিপক্ষে দলের হার, ডারউইন টেস্টে অস্ট্রেলিয়ার শক্তির সীমাবদ্ধতা নিয়ে মন্তব্য, প্রযুক্তির সহায়তায় নিজের প্রাণ বাঁচানোর স্বীকারোক্তি এবং অবসর গুঞ্জন এড়িয়ে অ্যাশেজ সিরিজে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে তার কৌশলগত অবস্থান।