বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৫:১০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে এলপিজির দাম ও চার্জ না বাড়াতে ক্যাবের দাবি উত্তরবঙ্গের বৃহত্তম জলপাই হাট: জমে উঠেছে পঞ্চগড়ের দেবদারুতলা ইরানের হুমকি দূর করতে শক্তিশালী ডানপন্থি সরকারের আহ্বান নেতানিয়াহুর বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে ইউনিক্লোর প্রতি প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান শ্রীপুরে বাবাকে আঘাতের অভিযোগে আটক পলাতক ছেলে আনোয়ার

সৌদিতে হুতিদের একের পর এক হামলা, দিশাহারা রিয়াদ

Reporter Name / ২৪ Time View
Update : বৃহস্পতিবার, ১৫ অক্টোবর, ২০২৬

ইয়েমেনের হুতি বিদ্রোহীদের একের পর এক হামলায় সৌদি আরবের নিরাপত্তা ব্যবস্থা বর্তমানে চরম সংকটের মুখে। রাজধানী রিয়াদসহ দেশটির গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনা ও বিমানবন্দর লক্ষ্য করে বিদ্রোহীরা আক্রমণ চালানোর হুমকি দিয়েছে। গত মঙ্গলবার ইয়েমেনের এই বিদ্রোহী গোষ্ঠীটি রাষ্ট্রায়ত্ত তেল কোম্পানি সৌদি আরামকোর সদর দপ্তরে বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে। এর প্রতিক্রিয়ায় হুতিরা জানিয়েছে, ইয়েমেনে সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক হামলার পাল্টা জবাব হিসেবেই এসব সামরিক পদক্ষেপ নেয়া হচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের নিরাপত্তা ও অবস্থান নিয়ে নানামুখী গুঞ্জন ছড়িয়ে পড়েছে। বিভিন্ন প্রতিবেদন অনুযায়ী, নিরাপত্তার খাতিরে যুবরাজকে ঘনঘন এক প্রাসাদ থেকে অন্য প্রাসাদে স্থানান্তর করা হচ্ছে এবং তাকে দীর্ঘদিন প্রকাশ্যে দেখা যায়নি। ফলে খবরটাকে বিশেষভাবে সত্য বলেই মনে হচ্ছে। কর্তৃপক্ষের মধ্যেও ভীতি ছড়িয়ে পড়েছে। এর একদিন পর বুধবার তারা হুমকি দিয়েছে বিমানবন্দরগুলো উড়িয়ে দেয়ার। হুতিরা বলেছে, যেসব স্থাপনায় হামলার হুমকি দেয়া হয়েছে, সেগুলো তাদের কাছে বৈধ লক্ষ্যবস্তু। এ খবর দিয়েছে বার্তা সংস্থা রয়টার্স।

চলমান এই সংঘাতের তীব্রতা গত সপ্তাহে কয়েক গুণ বেড়ে গেছে। শনিবার রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের হামলায় ১৩ জন নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ ছাড়া মঙ্গলবার রাতে পূর্বাঞ্চলীয় শহর ধাহরানে সৌদি আরামকোর স্থাপনায় হামলার ফলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের খবর পাওয়া গেছে। তিনটি সূত্র রয়টার্সকে নিশ্চিত করেছে যে, আগুনের শিখা কয়েকটি তলা পর্যন্ত ছড়িয়ে পড়েছিল। যদিও সৌদি জ্বালানি মন্ত্রণালয় এটিকে সীমিত পরিসরের অগ্নিকাণ্ড হিসেবে দাবি করেছে এবং আরামকোর কার্যক্রম স্বাভাবিক আছে বলে জানিয়েছে। অনেক কর্মী বর্তমানে বাড়ি থেকে কাজ করছেন বলেও জানা গেছে। আগুন কয়েকটি তলায় ছড়িয়ে পড়ে বলেও জানিয়েছেন তারা। তারা যে হতাশ অবস্থায় আছে, তা ধরা পড়ে একটি বিষয়ে। উপসাগরীয় অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের সংঘাতের জেরে নতুন করে শুরু হওয়া এই যুদ্ধ আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

বুধবারেও রিয়াদ লক্ষ্য করে একটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়া হয়, যা সৌদি নেতৃত্বাধীন সামরিক জোট প্রতিহত করেছে বলে দাবি করেছে। একই দিনে রাজধানীর আকাশে বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেলে কর্তৃপক্ষ সম্ভাব্য আকাশপথের হুমকি নিয়ে সতর্কতা জারি করে। যদিও পরে তা প্রত্যাহার করা হয়, কিন্তু বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ সম্পর্কে কোনো সরকারি ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি। হুতি বিদ্রোহীদের এই ধারাবাহিক আক্রমণ সৌদি যুবরাজ মোহাম্মদ বিন সালমানের উচ্চাভিলাষী অর্থনৈতিক রূপান্তর পরিকল্পনার জন্য বড় ধাক্কা হিসেবে দেখা হচ্ছে। দেশটির তেলের ওপর নির্ভরশীলতা কমিয়ে অর্থনীতি বহুমুখী করার যে লক্ষ্য নিয়ে তিনি কাজ করছিলেন, তা এখন সংঘাতের কারণে অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা