বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০২:১০ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

বিশ্বজুড়ে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব: কোথায় কী ঘটছে

Reporter Name / ১৭ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২০ অক্টোবর, ২০২৬

চলতি বছর বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে শক্তিশালী এল নিনোর প্রভাব স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এই প্রাকৃতিক ঘটনাটি এখন আগের চেয়ে অনেক বেশি তীব্র রূপ নিচ্ছে। এএফপির বিশ্লেষণ অনুযায়ী, মানুষের কর্মকাণ্ডে বৈশ্বিক উষ্ণতা বৃদ্ধির ফলে এল নিনোর প্রভাব আরও মারাত্মক হচ্ছে। বায়ুমণ্ডল উষ্ণ হওয়ায় মাটি দ্রুত শুকিয়ে খরা তৈরি করছে, আবার উষ্ণ বায়ুমণ্ডল বেশি জলীয় বাষ্প ধরে রাখতে পারায় কোথাও কোথাও বৃষ্টির তীব্রতা বাড়াচ্ছে। নাটোরে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে নিহত ১০, আহত ২০। ৫৪ বছর বয়সী খামারি আন্তোনিও আগুইলার একটি গরুর দিকে ইঙ্গিত করে বলেন, ‘দেখুন, ছোট প্রাণীটি কত শুকিয়ে গেছে। বিভিন্ন সংস্থার ভিন্ন পদ্ধতির কারণে আগের ঘটনাগুলোর সঙ্গে সরাসরি তুলনা করাও কঠিন বলে জানিয়েছে এএফপি। কপারনিকাস স্যাটেলাইট, ভূ-পৃষ্ঠের আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্র ও মডেলভিত্তিক তথ্য বিশ্লেষণ করে এ হিসাব করা হয়েছে।

প্রকৃতি বিষয়ক বিশেষজ্ঞ প্যানেলের চেয়ারম্যান ডেভিড ওবুরা জানিয়েছেন, এবারের এল নিনো বিশ্বের প্রবালপ্রাচীরগুলোর জন্য চরম ঝুঁকিপূর্ণ। প্রবালগুলো তাপমাত্রার পরিবর্তনের প্রতি অত্যন্ত সংবেদনশীল। নেচার সাময়িকীর তথ্যানুযায়ী, ২০০৮ সালের পর প্রবালপ্রাচীর গঠনকারী প্রজাতিগুলোর অবস্থার উল্লেখযোগ্য অবনতি হয়েছে। এর সঙ্গে এল নিনোর আঘাত প্রবাল বিবর্ণ হওয়ার ঝুঁকি আরও বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। গেন্ডারিয়ার সেই ‘মাদকের আস্তানায়’ যৌথ অভিযান, ১৫ জনের কারাদণ্ড। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, নেচার সাময়িকীতে প্রকাশিত প্রবালের স্বাস্থ্যবিষয়ক একটি বড় পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০০৮ সালের সর্বশেষ বৈশ্বিক জরিপের পর প্রবালপ্রাচীর গঠনকারী প্রজাতিগুলোর অবস্থা উল্লেখযোগ্যভাবে খারাপ হয়েছে। বিশেষ করে একের পর এক সংকটে ক্ষতিগ্রস্ত ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী বেশি বিপদে পড়বে। এএফপির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এ পার্থক্য বিশ্বজুড়ে আবহাওয়ার ওপর এল নিনোর প্রভাব নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

বনাঞ্চলেও এর প্রভাব পড়তে শুরু করেছে। ফরেস্ট ডিক্লারেশন অ্যাসেসমেন্টের মতে, গত বছর বন উজাড়ের হার কমলেও এল নিনোর কারণে এখন গ্রীষ্মমণ্ডলীয় অঞ্চলে দাবানলের ঝুঁকি বাড়ছে। বিশেষ করে মধ্য আফ্রিকার পরিস্থিতির অবনতি এই অগ্রগতি ধরে রাখাকে চ্যালেঞ্জিং করে তুলেছে।

মধ্য আমেরিকার মেক্সিকো থেকে পানামা পর্যন্ত বিস্তৃত ‘ড্রাই করিডর’ অঞ্চলে তীব্র খরা দেখা দিয়েছে। এল সালভাদরের সেনসুনতেপেকে বাজারে খামারিরা জানিয়েছেন, ঘাসের অভাবে গবাদিপশু অত্যন্ত দুর্বল হয়ে পড়েছে। অনেক পশুর হাড় বেরিয়ে গেছে, যা খাদ্য সংকটের ভয়াবহতা তুলে ধরছে। বিজ্ঞানীরা আশঙ্কা করছেন, বছরের শেষ দিকে এল নিনোর প্রভাব তার সর্বোচ্চ মাত্রায় পৌঁছাতে পারে। এএফপির সংবাদকর্মীরা এল সালভাদরের সেনসুনতেপেকে একটি গবাদিপশুর বাজারে গিয়ে দেখেছেন, খাবারের অভাবে গরুগুলোর পাঁজরের হাড় বেরিয়ে এসেছে। অক্টোবরের প্রথমার্ধেই বিদায় নিতে পারে বর্ষা।

অর্থনৈতিকভাবেও বিভিন্ন দেশ সংকটের মুখে পড়ছে। জাতিসংঘের উন্নয়নবিষয়ক প্রধান আলেক্সান্ডার ডি ক্রু সতর্ক করেছেন, এল নিনোর সঙ্গে জ্বালানির উচ্চমূল্য ও চড়া সুদের হার যুক্ত হয়ে লাখো মানুষকে দারিদ্র্যের মুখে ঠেলে দিতে পারে। শ্রীলঙ্কার কেন্দ্রীয় ব্যাংকও জানিয়েছে, কয়েক দশকের অর্থনৈতিক সংকট কাটিয়ে ওঠার পথে থাকা দেশটির পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়া এল নিনোর প্রভাবে বাধাগ্রস্ত হতে পারে। পূর্বাভাস অনুযায়ী, ডিসেম্বর পর্যন্ত ভারী বৃষ্টির পর আগামী বছরের শুরুতে সেখানে দীর্ঘস্থায়ী খরার আশঙ্কা রয়েছে। যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি আমদানির এলসি বেড়েছে ৬৫ শতাংশ।

এল নিনোর তীব্রতা পরিমাপ নিয়ে বিজ্ঞানীদের মধ্যে কিছুটা ভিন্নমত থাকলেও সবাই একে অত্যন্ত শক্তিশালী বলে একমত। যুক্তরাজ্যের আবহাওয়া দপ্তর একে ‘নজিরবিহীন’ এবং জাপানের সংস্থা একে রেকর্ড করা ঘটনার মধ্যে সবচেয়ে শক্তিশালী বলে অভিহিত করেছে। মিয়ামি বিশ্ববিদ্যালয়ের জলবায়ুবিজ্ঞানী এমিলি বেকার জানান, এটি একটি শক্তিশালী এল নিনো হলেও এর চূড়ান্ত প্রভাব ঘটনা শেষ হওয়ার পরই নিশ্চিত হওয়া যাবে।

যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় মহাসাগরীয় ও বায়ুমণ্ডলীয় প্রশাসন (এনওএএ) এখন প্রশান্ত মহাসাগরের পূর্ব-মধ্যাঞ্চলের পানির তাপমাত্রার সঙ্গে অন্য অংশের পার্থক্যের ভিত্তিতে এল নিনো যাচাই করছে। ১৯৮২ সালের রেকর্ড ছাড়িয়ে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে এবারের এল নিনোর। এনওএর নতুন সূচক অনুযায়ী, পানির তাপমাত্রা যদি স্বাভাবিকের চেয়ে ২ দশমিক ৫ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি থাকে এবং তা টানা তিন মাস বজায় থাকে, তবেই সেটিকে ইতিহাসের অন্যতম শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা হয়।

মহাসাগরের তাপ বায়ুমণ্ডলে ছড়িয়ে পড়ার এই প্রক্রিয়াটি বিশ্বের দূরবর্তী অঞ্চলের আবহাওয়ায় ‘টেলিকানেকশন’ তৈরি করে।

এর ফলে কোথাও বৃষ্টি বাড়ে, আবার কোথাও খরা তীব্রতর হয়।

তবে এল নিনো বা লা নিনা বিশ্বজুড়ে নির্দিষ্ট আবহাওয়া তৈরি করলেও তা সর্বদা নিশ্চিত নয়।

লা নিনার সময় নিরক্ষীয় প্রশান্ত মহাসাগরের তাপমাত্রা স্বাভাবিকের চেয়ে কম থাকে, যা এল নিনোর বিপরীত পরিস্থিতি তৈরি করে।

জলবায়ু-সংক্রান্ত তথ্যের ঘাটতির কারণে অনেক দেশ এখনো পর্যাপ্ত বিশ্লেষণ প্রকাশ করতে পারছে না, যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় অন্যতম বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে। তিনি বেসরকারি বিনিয়োগকারীদের জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট অর্থনৈতিক ক্ষতি বিবেচনায় নিয়ে তা মোকাবিলায় বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা