ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শহীদ শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু পরবর্তী ঘটনাপ্রবাহ ও তাকে ঘিরে গড়ে ওঠা আবেগ নিয়ে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় (চবি) শাখা ছাত্রদলের ছাত্রীবিষয়ক সম্পাদক শ্রুতিরাজ চৌধুরীর বেশ কিছু ফেসবুক পোস্ট আলোচনার জন্ম দিয়েছে। শ্রুতিরাজ চবির ২০২২-২৩ শিক্ষাবর্ষের স্পোর্টস সাইন্স বিভাগের শিক্ষার্থী এবং তিনি সর্বশেষ চাকসু নির্বাচনে ছাত্রদল প্যানেল থেকে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছিলেন। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি হাদিকে নিয়ে বিভিন্ন সময়ে তাচ্ছিল্য ও উপহাসমূলক মন্তব্য করেছেন।
সোমবার মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে ইশরাক হোসেনের পদত্যাগের ঘটনাকে কেন্দ্র করে শ্রুতিরাজ ফেসবুকে লেখেন, ‘ইশরাক ভাইয়ের ব্যাপারটা নিয়ে আবার হাদি ভাইকে ভুলে যাবেন না, এদিকেও খেয়াল রাখতে হবে!’ এছাড়া গত ২৪ মে চবি শাখা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক সাকিফ রহমান এক নারীর সঙ্গে আপত্তিকর অবস্থায় আটক হওয়ার ঘটনা নিয়েও তিনি হাদির নাম টেনে স্ট্যাটাস দিয়েছিলেন। এমনকি অতীতে ফুটবলে আর্জেন্টিনা জয়ের পর তিনি ব্যঙ্গ করে লিখেছিলেন, ‘হাদি ভাই থাকলে আজ ফ্যাসিস্ট আর্জেন্টিনা জিতত না।’
এসব মন্তব্যের প্রেক্ষিতে শ্রুতিরাজ চৌধুরী বলেন, ওসমান হাদির মৃত্যুর আগ পর্যন্ত তাকে সেভাবে কেউ চিনত না। মৃত্যুর পর তার নাম ও ছবি ব্যবহার করে অসংখ্য ভুয়া ফেসবুক অ্যাকাউন্ট খোলা হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। শ্রুতিরাজের দাবি, এসব অ্যাকাউন্ট থেকে তার মতো প্রগতিশীল রাজনীতি চর্চাকারী নারীদের ফেসবুক পোস্টে অশালীন মন্তব্য করা হতো এবং তিনি নিয়মিত এমন হয়রানির শিকার হয়েছেন। ইনবক্সেও তাকে অশালীন বার্তা পাঠানো হতো বলে তিনি উল্লেখ করেন।
হাদিকে অতিরিক্ত মূল্যায়নের চেষ্টা করা হচ্ছে এমন দাবি করে শ্রুতিরাজ আরও বলেন, তার কখনোই মনে হয়নি যে হাদি এমন অসাধারণ কেউ ছিলেন যাকে জাতির পিতা বা অবিসংবাদিত ব্যক্তিত্ব হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। তবে ভুয়া অ্যাকাউন্ট থেকে করা অশালীন মন্তব্যের জন্য হাদি সরাসরি দায়ী কি না—এমন প্রশ্নে তিনি স্বীকার করেন যে, সেখানে হাদির দোষ নেই। তার মতে, মূল সমস্যা হাদির নাম ও ছবি ব্যবহার করে নারীদের হয়রানি করা। কেউ যদি হাদিকে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে চায়, তবে তার সম্পর্কে গঠনমূলক ও সঠিক তথ্য প্রচার করা উচিত বলে তিনি মন্তব্য করেন।