গাইবান্ধার সাঘাটা উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পাচগড়গড়িয়া এলাকায় গড়ে উঠেছে অনুমোদনহীন কয়লা তৈরির কারখানা। নিয়মবহির্ভূত এসব কারখানায় ১৪টি চুল্লি স্থাপন করে প্রকাশ্যে গাছ পোড়ানো হচ্ছে। গ্রামের ফসলি জমির মাঝে স্থাপিত এসব চুল্লি থেকে নির্গত ঘন কালো ধোঁয়ায় সারাক্ষণ আচ্ছন্ন থাকে পুরো এলাকা, যা স্থানীয় জনজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে। ওই এলাকার স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, উপজেলার কামালেরপাড়া ইউনিয়নের পাচ গড়গড়িয়া গ্রামে অনুমোদনহীনভাবে কারখানাগুলো গড়ে তোলা হয়েছে। দিনরাত ২৪ ঘন্টা চুল্লির ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন থাকে ওই এলাকায়। এতে পরিবেশের বিপর্যয়ের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা। এতে করে মারাত্মকভাবে পরিবেশ দূষণ হলেও তাদের ভয়ে কেউ কথা বলতে পারে না।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, শাহিন মিয়া, মেহেরুল ইসলাম ও ফেলু মিয়াসহ প্রভাবশালী কয়েকজন চক্র স্থানীয় দালালের মাধ্যমে প্রশাসনকে ম্যানেজ করে দীর্ঘ দিন ধরে এই অবৈধ বাণিজ্য চালিয়ে যাচ্ছেন। মমিন মিয়াসহ ভুক্তভোগী এলাকাবাসীরা জানিয়েছেন, চুল্লির ধোঁয়ার তীব্রতায় গ্রামে চলাফেরা করা অসম্ভব হয়ে পড়েছে এবং অনেকেই শ্বাসকষ্টসহ বিভিন্ন স্বাস্থ্যঝুঁকির মুখে পড়েছেন। এছাড়া ফসলি জমি ও গাছপালার ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। প্রতিবাদ করতে গেলেই কারখানা মালিকদের পক্ষ থেকে সাধারণ মানুষকে নানাভাবে হুমকি দেওয়া হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। গড়গড়িয়া এলাকার বাসিন্দা মমিন মিয়া বলেন, ‘এসব কয়লা কারখানার ধোঁয়ার যন্ত্রণায় গ্রামে চলাফেরা করাই মুশকিল হয়ে দাঁড়িয়েছে।
এ বিষয়ে কামালেরপাড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান শাহিনুর ইসলাম জানান, অবৈধ এসব কারখানার ব্যাপারে তিনি অবগত হয়েছেন এবং খোঁজখবর নিয়ে দ্রুত প্রশাসনের কাছে বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে জানাবেন। ভালোভাবে জেনে নিয়ে প্রশাসনের নিকট জানানো হয়।’।
এদিকে সাঘাটা উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভূমি) রতন কুমার দত্ত জানিয়েছেন, আগেও একাধিকবার অভিযান চালিয়ে এসব কারখানা গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। পুনরায় কারখানাগুলো সক্রিয় হয়ে থাকলে আবারো আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ ও নিয়মিত অভিযানের আশ্বাস দিয়েছেন তিনি।