যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলে আসন্ন নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই ইরানে নতুন করে তীব্র হামলার জন্য নির্দিষ্ট সামরিক পরিকল্পনা চূড়ান্ত করেছে দুই দেশ। ইসরায়েলের সংসদ নির্বাচন ২৭শে অক্টোবর এবং যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনকে সামনে রেখে পুরো পরিস্থিতি এখন বেশ জটিল হয়ে পড়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প নির্বাচনের আগে ইরানে নতুন কোনো হামলা না চালানোর বিষয়ে স্পষ্ট অবস্থানে থাকলেও, ভোট পরবর্তী সময়ের জন্য স্বল্পমেয়াদি কিন্তু কঠোর অভিযানের ছক কষছে উভয় পক্ষ। এরই অংশ হিসেবে সম্প্রতি দুদেশের সামরিক বাহিনী ইরাকের আকাশসীমা ব্যবহার করে বিমান হামলার কৌশলসহ বিভিন্ন মহড়া জোরদার করেছে।
চলতি সপ্তাহে মার্কিন প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ ইসরায়েলে গিয়ে প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে সম্ভাব্য হামলার বিষয়ে আলোচনা করেছেন। তাদের টার্গেট তালিকায় ইরানের জ্বালানি অবকাঠামো, পারমাণবিক স্থাপনা এবং ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ভাণ্ডার রয়েছে। সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের মতে, এমন বড় ধরনের হামলা ইরানের অর্থনীতিকে ধসের মুখে ঠেলে দিয়ে আট মাসের সংঘাতের পর দেশটিকে কূটনৈতিক আপসে বাধ্য করতে পারে। তবে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শেষ পর্যন্ত এই হামলার অনুমোদন দেবেন কি না, তা নিয়ে সংশয় থেকেই যাচ্ছে, কারণ চলতি বছরের শুরু থেকেই তিনি এমন বেশ কিছু বড় অভিযানের পরিকল্পনা শেষ মুহূর্তে বাতিল করেছেন।
অন্যদিকে, যেকোনো নতুন হামলার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তেহরান। ইরানের মধ্যস্থতাকারীদের জ্যেষ্ঠ উপদেষ্টা মাহদি মোহাম্মাদি জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র যদি মনে করে তাদের অভিযান ৭২ ঘণ্টার মধ্যে শেষ হয়ে যাবে, তবে তা কেবল কল্পনাপ্রসূত ধারণা। তিনি স্পষ্ট করেন যে, এবারের প্রতিরোধের কৌশল হবে ভিন্নধর্মী ও আরও তীব্র। তেহরানের বিশ্লেষকদের মতে, যদি ইরানের গভীর মাটির পারমাণবিক স্থাপনায় আঘাত হানা হয়, তবে তারা সৌদি আরবের তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়ে বৈশ্বিক তেলের দাম বাড়িয়ে দেবে, যার ফলে মার্কিন জনগণের ওপর সরাসরি নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। এছাড়া তেহরান জানিয়েছে, হামলা হলে তারা বাণিজ্যিক জাহাজের পাশাপাশি সমুদ্রের তলদেশের ইন্টারনেট কেবল ও ডেটা সেন্টারেও পাল্টা আক্রমণ চালাবে।
নভেম্বরের শুরুর দিকে মধ্যপ্রাচ্যে তিনটি বিমানবাহী রণতরী, হাজার হাজার মেরিন সেনা ও যুদ্ধবিমান মোতায়েনের মাধ্যমে মার্কিন শক্তির বড় ধরনের সমাবেশ পূর্ণ রূপ নেবে। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধির ঝুঁকি এবং নির্বাচনী হিসাব-নিকাশ মাথায় রেখে ট্রাম্প আপাতত কোনো পদক্ষেপে যাচ্ছেন না বলে মনে করা হচ্ছে। তবে হোয়াইট হাউস বারবার জোর দিয়ে বলেছে, ইরান যাতে কোনোভাবেই পারমাণবিক অস্ত্র অর্জন করতে না পারে, সেজন্য সব ধরনের সামরিক বিকল্প এখনো টেবিলে উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।