বুধবার, ২৮ অক্টোবর ২০২৬, ০৭:২০ অপরাহ্ন
শিরোনাম
দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন স্পেনে দুই ট্রেনের সংঘর্ষে অন্তত ১০ জন নিহত ৩৬ দিন পর চুয়েটে সীমিত ক্লাসের সূচনা, সমাধানে ইউজিসির কমিটি রাঙ্গুনিয়ায় কৃষকের রহস্যজনক মৃত্যু: ঘটনার তদন্তে পুলিশ আইইডিসিআর পরিচালকের কার্যালয়ে ঢুকে মারধরের অভিযোগ ড্যাবের বিরুদ্ধে

যুক্তরাষ্ট্রের সিনেট নির্বাচন: কোন রাজ্যে কেমন লড়াই?

Reporter Name / ১২ Time View
Update : শুক্রবার, ২৩ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যবর্তী নির্বাচনের আর মাত্র দুই সপ্তাহ বাকি থাকতে দেশটির উচ্চকক্ষ সিনেটের ৩৫টি আসনের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে তীব্র রাজনৈতিক লড়াই শুরু হয়েছে। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিতব্য এই নির্বাচনের ওপর নির্ভর করছে দেশটির আগামী দিনের রাজনীতির গতিপথ। বর্তমানের ১০০ আসনের সিনেটে রিপাবলিকানদের দখলে রয়েছে ৫৩টি আসন, অন্যদিকে ডেমোক্র্যাট ও তাদের মিত্রদের হাতে রয়েছে ৪৭টি। ফলে ডেমোক্র্যাটদের জন্য সিনেটের নিয়ন্ত্রণ নিজেদের হাতে নিতে হলে আসন ধরে রাখার পাশাপাশি নতুন করে অন্তত চারটি আসন জিততে হবে। এবারের নির্বাচনে ৩৩টি নিয়মিত আসনের পাশাপাশি ফ্লোরিডা ও ওহাইওতে দুটি বিশেষ সিনেট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ঐতিহ্যগতভাবে নিউইয়র্কে এবার কোনো ফেডারেল সিনেট নির্বাচন নেই। আগামী ৩ নভেম্বর অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া এই নির্বাচনে মার্কিন কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতে রিপাবলিকান ও বিরোধী ডেমোক্র্যাট উভয় পক্ষই সর্বোচ্চ প্রস্তুতি নিয়েছে।

জর্জিয়া, মেইন, মিশিগান, নর্থ ক্যারোলাইনা, ওহাইও, আলাস্কা, আইওয়া, টেক্সাস, কানসাস ও নিউ হ্যাম্পশায়ার—এই ১০টি রাজ্যই মূলত সিনেটের ক্ষমতার ভারসাম্য নির্ধারণ করবে। দেশজুড়ে চলমান অর্থনৈতিক সংকট, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নীতি, অভিবাসন সমস্যা এবং স্থানীয় প্রার্থীদের গ্রহণযোগ্যতাই ভোটারদের মনে বড় প্রভাব ফেলছে। জর্জিয়ায় ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন অসফের বিপরীতে রিপাবলিকান মাইক কলিন্স লড়ছেন, যেখানে অক্টোবরের জরিপে অসফের অবস্থান কিছুটা সুবিধাজনক। তবে ওই রাজ্যে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের জয় রিপাবলিকানদের প্রচারের পালে নতুন হাওয়া দিয়েছে। এদিকে মেইনে রিপাবলিকান সুসান কলিন্স ও ডেমোক্র্যাট ট্রয় জ্যাকসনের লড়াইয়ে জ্যাকসন ৪৭ শতাংশের বিপরীতে ৪৯ শতাংশ সমর্থন নিয়ে কিছুটা এগিয়ে আছেন। তবে ২০২৪ সালের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে রাজ্যটিতে ট্রাম্প জয়ী হওয়ায় রিপাবলিকানরা প্রচার জোরদার করছেন। ১৩-১৪ অক্টোবরের ইনসাইডারঅ্যাডভান্টেজ জরিপে জ্যাকসন ৪৯ এবং কলিন্স ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।

মিশিগানে ডেমোক্র্যাট আবদুল এল-সায়েদ ৪৬ শতাংশ এবং রিপাবলিকান মাইক রজার্স ৪৪ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। নর্থ ক্যারোলাইনায় সাবেক গভর্নর রয় কুপার ৫০ শতাংশ সমর্থন নিয়ে রিপাবলিকান মাইকেল হোয়াটলির ৪৩ শতাংশের চেয়ে এগিয়ে আছেন। অন্যদিকে ওহাইওতে ডেমোক্র্যাট শেরড ব্রাউন ৪৮ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন, বিপরীতে রিপাবলিকান জন হাস্টেড পেয়েছেন ৪২ শতাংশ। টেক্সাসের লড়াইয়ে কেন প্যাক্সটন ও জেমস ট্যালারিকোর মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি অবস্থা বিরাজ করছে, যেখানে জরিপগুলোতে পাল্টাপাল্টি ফলাফল পাওয়া গেছে। আলাস্কায় মেরি পেলটোলা ৪৮ শতাংশ এবং ড্যান সুলিভান ৪৭ শতাংশ সমর্থন নিয়ে একে অপরের খুব কাছাকাছি অবস্থান করছেন। একইভাবে কানসাসে রিপাবলিকান রজার মার্শাল ৪৮ শতাংশ এবং ডেমোক্র্যাট অ্যাডাম হ্যামিল্টন ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন। এছাড়া নিউ হ্যাম্পশায়ারে ক্রিস পাপাস এগিয়ে আছেন জন সুনুনুর চেয়ে। ১৪–১৫ অক্টোবরের জরিপে পেলটোলা ৪৮ এবং সুলিভান ৪৭ শতাংশ সমর্থন পেয়েছেন।

নির্বাচনী অর্থ সংগ্রহে এগিয়ে রয়েছে ডেমোক্র্যাট শিবির। ১৬ অক্টোবর প্রকাশিত ওয়াশিংটন পোস্টের প্রতিবেদন অনুযায়ী, গুরুত্বপূর্ণ ১৩টি সিনেট লড়াইয়ের মধ্যে ১২টিতেই রিপাবলিকানদের তুলনায় ডেমোক্র্যাটরা বেশি তহবিল সংগ্রহ করতে পেরেছেন। যদিও রিপাবলিকানপন্থী বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে বিজ্ঞাপন বাবদ বিপুল ব্যয় করা হচ্ছে। অর্থনীতি, জ্বালানির দাম ও স্বাস্থ্যসেবার পাশাপাশি ইরান যুদ্ধের বিষয়টিও নির্বাচনী প্রচারণায় উঠে এসেছে। তবে স্থানীয় পর্যায়ের এই জরিপগুলো শেষ পর্যন্ত ভোটের দিনে ভোটারদের সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করবে। সিনেটের ক্ষমতা শেষ পর্যন্ত কার হাতে থাকবে, তা জানার জন্য ৩ নভেম্বর পর্যন্ত অপেক্ষা করতেই হচ্ছে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা