বৃহস্পতিবার, ২৯ অক্টোবর ২০২৬, ০১:৩২ পূর্বাহ্ন
শিরোনাম
নবায়নযোগ্য জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতের মাধ্যমে টেকসই অর্থনীতি রূপান্তরের ডাক জাপান সফরে চার সমঝোতা স্মারক ও দুই অনুদান চুক্তি সই জুলাইয়ের চেতনা বাঁচিয়ে রাখলে চাঁদাবাজি সম্ভব নয়: ইনকিলাব মঞ্চের আহ্বায়ক তত্ত্বাবধায়ক সরকার ফিরিয়ে আনতেই হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে ৯ মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি প্রায় ২ হাজার জিম্বাবুয়েকে হারিয়ে টি-টোয়েন্টি সিরিজে এগিয়ে আফগানিস্তান ১৫ নভেম্বর থেকে দ্বিতীয় ‘গ্লোবাল সোর্সিং এক্সপো’ আয়োজন করবে ইপিবি নারায়ণগঞ্জে বাস-ট্রাক সংঘর্ষে বাবা ও ছেলে নিহত বিশ্ববাজারে স্বর্ণের দাম কমল: প্রভাব ফেলছে জ্বালানি তেলের উত্তাপ ঢামেকে অ্যাম্বুলেন্স মালিকদের অনির্দিষ্টকালের ধর্মঘট: ভোগান্তিতে রোগী ও স্বজন

সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের অপেক্ষায় ভারত-বাংলাদেশ

Reporter Name / ১২ Time View
Update : শনিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০২৬

দিল্লির কোথাও একটি করমর্দন অপেক্ষা করছে। এখনো সেই করমর্দনের সঙ্গে কোনো নির্ধারিত তারিখ, সম্মত সফরসূচি কিংবা আনুষ্ঠানিক ঘোষণা নিশ্চিত হয়নি। এই লেখা প্রকাশের সময় ভারত ও বাংলাদেশ সরকার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নয়াদিল্লি সফর নিয়ে আলোচনা করছে। আলোচনায় নভেম্বর মাসের কয়েকটি সম্ভাব্য তারিখও রয়েছে। তবে দুই পক্ষই জানিয়েছে, এ সফরের জন্য রাজনৈতিক পরিবেশ অনুকূল হতে হবে। আমন্ত্রণ খোলা রয়েছে, কিন্তু সফর এখনো চূড়ান্ত হয়নি। ভারত ও বাংলাদেশের দুই নেতার মধ্যে একটি করমর্দন নিছক আলোকচিত্রের চেয়েও অনেক বেশি তাৎপর্য বহন করবে। এর মধ্য দিয়ে বোঝা যাবে, ভৌগোলিক অবস্থান, ইতিহাস, বাণিজ্য ও অত্যন্ত দীর্ঘ অভিন্ন সীমান্তের বন্ধনে আবদ্ধ দুই প্রতিবেশী গভীর অবিশ্বাসের একটি অধ্যায় পেরিয়ে বাস্তবসম্মত সম্পর্ক পুনর্গঠন শুরু করতে পারে কি না। সেটি সম্পর্কের মোড় ঘোরানো মুহূর্তে পরিণত হবে কি না, তা আনুষ্ঠানিকতার চেয়ে বেশি নির্ভর করবে দুই সরকার কী নিয়ে আলোচনা করতে, দর-কষাকষি করতে এবং বাস্তবে কী অর্জন করতে প্রস্তুত, তার ওপর। নয়াদিল্লি, বেইজিং, ওয়াশিংটনসহ অন্যান্য রাজধানীতে তার এই ভারসাম্য রক্ষার প্রচেষ্টা নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা হবে। কূটনৈতিক যোগাযোগের এই পথ দুই সরকারকে আরও ধারাবাহিকভাবে এবং প্রকাশ্য বিরোধ কমিয়ে কঠিন বিষয়গুলো মোকাবিলায় সহায়তা করতে পারে কি না, তার ওপরই এর কার্যকারিতা নির্ভর করবে।

রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ও তারেক রহমানের প্রত্যাবর্তন

বাংলাদেশের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের আবির্ভাব একটি নতুন সুযোগ তৈরি করেছে। নির্বাসন থেকে প্রত্যাবর্তন করে তিনি বাংলাদেশের দায়িত্ব নিয়েছেন। বর্তমান প্রধানমন্ত্রী প্রায় ১৭ বছর লন্ডনে বসবাস করেছেন। ২০২৪ সালের আগস্টে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দীর্ঘদিনের সরকারের পতনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে যে রাজনৈতিক পটপরিবর্তন ঘটে, তার পর ২০২৫ সালের ২৫ ডিসেম্বর ঢাকায় ফিরে আসেন তারেক রহমান। এর আগে দলটির নেতৃত্ব দিয়েছেন তার মা, সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়া। তার মা প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন এবং দেশের অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক নেতায় পরিণত হয়েছেন। একই সঙ্গে বংশানুক্রমিক রাজনীতি, তার নিজের রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড এবং বিরোধী দলে থাকার সময় তাকে ঘিরে ওঠা অভিযোগের কারণে তিনি সমালোচনার মুখেও পড়েছেন। লন্ডনে থাকাকালে তিনি বাংলাদেশের সামনে থাকা চ্যালেঞ্জ এবং জাতীয় ঐক্যের গুরুত্ব নিয়ে কথা বলেছেন। বৃটেনে সাধারণ জীবনের স্বাধীনতা, বিশেষ করে সার্বক্ষণিক সরকারি দায়িত্বের চাপ ছাড়াই হাঁটাচলার সুযোগের কথা তিনি উল্লেখ করেছেন। ২০২৬ সালের ১২ই ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিত জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি নিশ্চিত বিজয় অর্জন করে এবং ১৭ই ফেব্রুয়ারি প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নেন তারেক রহমান। তার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন বাংলাদেশের সাম্প্রতিক রাজনৈতিক ইতিহাসের অন্যতম নাটকীয় পালাবদল সম্পন্ন করেছে। এখন আর শুধু ক্ষমতার বাইরে থাকা একটি দলের নেতৃত্ব নয়, তার কাঁধে রাষ্ট্রের পূর্ণ দায়িত্ব এসে পড়েছে। তবে কোনো দেশই অন্য দেশের কাছে তাদের প্রতিটি দাবি মেনে নেয়ার প্রত্যাশা করতে পারে না। যে দেশের রাজনীতি তার জীবনকে গড়ে তুলেছে, সেই দেশ থেকে তিনি ছিলেন দূরে। দলটি প্রতিষ্ঠা করেছেন তার পিতা, সাবেক প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। দেশে ফেরার কয়েক দিন পরই মারা যান বেগম খালেদা জিয়া। দীর্ঘ নির্বাসনের সময় তিনি দক্ষিণ-পশ্চিম লন্ডনের কিংস্টনে স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ও মেয়ে জাইমাকে নিয়ে বসবাস করেছেন। বাংলাদেশের রাজনীতির প্রতিদিনের কোলাহল থেকে দূরে তার জীবনযাপনের ধরন ছিল তুলনামূলক শান্ত। রিচমন্ড পার্কের সবুজ বিস্তৃত পথ ধরে হাঁটা এবং ইতিহাসের বই পড়া ছিল তার পছন্দের কাজগুলোর মধ্যে। বিদেশে কাটানো বছরগুলো তাকে জীবনের বড় একটি অংশজুড়ে চলা রাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বিতা থেকে দূরত্ব তৈরি করার সুযোগও দিয়েছিল। এখন প্রশ্ন হলো, নির্বাসনে অর্জিত দৃষ্টিভঙ্গি বাংলাদেশের শাসন পরিচালনার কাজে কীভাবে প্রতিফলিত হবে। এই ভারসাম্য তিস্তার পানিবণ্টন, সীমান্ত নিরাপত্তা এবং ভারতে শেখ হাসিনার অবস্থানের মতো অমীমাংসিত বিষয়গুলোকে ধারণ করতে পারে কি না, সেটিই হবে প্রকৃত পরীক্ষা। তিনি এম রিয়াজ হামিদুল্লাহর স্থলাভিষিক্ত হবেন। হামিদুল্লাহ জেনেভায় জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি হিসেবে দায়িত্ব নিতে যাচ্ছেন। তবে তিনি আনুষ্ঠানিকভাবে কবে দায়িত্ব গ্রহণ করবেন, তা তখনো নিশ্চিত হয়নি।

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশ

সংখ্যালঘুদের নিরাপত্তা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের বার্তা হিসেবে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দুর্গাপূজার অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন। তিনি দেশের উন্নয়নে সব ধর্মের মানুষকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন। ২০ অক্টোবর রংপুরের রাধাগোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে শারদীয় শুভেচ্ছা বিনিময় অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি বলেন, বাংলাদেশ মুসলমান, হিন্দু, বৌদ্ধ ও খ্রিষ্টান—সবার সমান অধিকার আছে এ দেশে। ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ এবং পরবর্তী সময়ে গণতান্ত্রিক অধিকারের দাবিতে বিভিন্ন আন্দোলনে মানুষের মধ্যে যে ঐক্য দেখা গিয়েছিল, সেটিও তিনি স্মরণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য দিল্লি সফর সর্বোচ্চ পর্যায়ে এই কাজ শুরু করার একটি সুযোগ তৈরি করেছে। ভারতের প্রতিরক্ষামন্ত্রী রাজনাথ সিং নয়াদিল্লিতে বাংলাদেশ হাইকমিশনে গিয়ে শোকবইয়ে স্বাক্ষর করেন। বাংলাদেশের প্রয়োজন বিনিয়োগ, রপ্তানি বাজার, জ্বালানি নিরাপত্তা ও কর্মসংস্থান। ১৮ অক্টোবর পর্যন্ত পাওয়া খবর অনুযায়ী, নিয়োগের অনুমোদনের বিষয়টি জানানো হয়েছিল।

ভারতের সাথে সম্পর্কের নতুন প্রেক্ষাপট

ভারতের পক্ষ থেকে উচ্চপর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ বার্তাগুলো এসেছে ব্যক্তিগত শোকের একটি মুহূর্তে। ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্কর বেগম খালেদা জিয়ার জানাজায় অংশ নিতে ঢাকায় এসেছিলেন। সফরকালে তিনি প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পক্ষ থেকে ব্যক্তিগত শোকবার্তা পৌঁছে দেন। নির্বাচনের পরও ভারতের যোগাযোগ অব্যাহত থাকে। বিএনপির বিজয়ে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানান এবং তার সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেন প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। প্রকাশ্য বার্তায় ভারতের প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি গণতান্ত্রিক, প্রগতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বাংলাদেশের প্রতি ভারতের সমর্থন অব্যাহত থাকবে। দুই দেশের বহুমুখী সম্পর্ক জোরদার এবং অভিন্ন উন্নয়ন লক্ষ্য এগিয়ে নিতে তারেক রহমানের সঙ্গে কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করেন তিনি। এই বক্তব্য দুই দেশের মধ্যে সহযোগিতার পথ তৈরি করেছে, তবে তাতে এমন কোনো ইঙ্গিত দেয়া হয়নি যে প্রতিবেশীদের মধ্যকার কঠিন সমস্যাগুলো মিটে গেছে। নেতাদের ব্যক্তিগত সখ্যের পরিবর্তে গণতান্ত্রিক বৈধতা ও অভিন্ন স্বার্থই এখন সম্পর্কের মূল ভিত্তি। নির্বাচনের আগে দেয়া সাক্ষাৎকারগুলোতে তারেক রহমান একদিকে বিনিয়োগ আকর্ষণ, অন্যদিকে কোনো একটি শক্তির ওপর অতিরিক্ত নির্ভরশীলতা এড়িয়ে চলার ইচ্ছা প্রকাশ করেন। ঢাকাও নিজেদের পক্ষ থেকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে। দুই দেশের মধ্যে নিয়মিত যোগাযোগ পুনঃপ্রতিষ্ঠা এবং অমীমাংসিত মতপার্থক্য দূর করার প্রচেষ্টার কেন্দ্রে একজন জ্যেষ্ঠ পেশাদার কূটনীতিককে স্থাপন করা হচ্ছে।

বৈশ্বিক দৃষ্টিভঙ্গি ও পররাষ্ট্রনীতি

তারেক রহমানের বিজয়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের নেতারা অভিনন্দন জানিয়েছেন। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও বিএনপি ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেছেন, আঞ্চলিক সমৃদ্ধি ও নিরাপত্তা এগিয়ে নিতে নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করতে আগ্রহী ওয়াশিংটন। চীনও নির্বাচনকে স্বাগত জানিয়েছে এবং নতুন প্রশাসনের সঙ্গে কাজ করার প্রস্তুতির কথা বলেছে। বাংলাদেশের পররাষ্ট্রনীতি এখন তার নিজস্ব অগ্রাধিকারের ভিত্তিতেই পরিচালিত হবে। ভৌগোলিক নৈকট্য রাজনৈতিক সমন্বয় নিশ্চিত করে—ভারতের এমন ধারণা করা উচিত নয়। একইভাবে, সবচেয়ে বড় প্রতিবেশীর সঙ্গে সম্পর্কের বাস্তবতাও ঢাকার উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ভারতের প্রতি তারেক রহমানের অবস্থান বিচার করা উচিত তার সরকার কী করেছে, শুধু কী বলেছে তার ভিত্তিতে নয়। বাংলাদেশের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য দিল্লির সাথে ভারসাম্যপূর্ণ ও মর্যাদাশীল সম্পর্ক বজায় রাখা তার সরকারের অন্যতম প্রধান লক্ষ্য।

হাইকমিশনার নিয়োগ ও কূটনৈতিক তৎপরতা

বাংলাদেশে ভারতের নতুন হাইকমিশনার হিসেবে দীনেশ ত্রিবেদীকে নিয়োগ দেয়াও আরেকটি ইঙ্গিত যে নয়াদিল্লি সম্পর্কটিকে নতুন করে রাজনৈতিক গুরুত্ব দিতে চায়। সাবেক কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ও সংসদ সদস্য ত্রিবেদী এমন একটি পদে নিয়োগ পেয়েছেন, যেখানে সাধারণত পেশাদার কূটনীতিকদের দায়িত্ব দেয়া হয়। দুই দেশের সরকার যখন আগের সময়ের টানাপোড়েন কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে, তখন এ ধরনের নিয়োগ তাৎপর্যপূর্ণ। হাইকমিশনার ত্রিবেদীর প্রকাশ্য বক্তব্য সংযত। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সম্ভাব্য নভেম্বর সফর নিয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ভারতের আমন্ত্রণ এখনো বহাল রয়েছে এবং তাড়াহুড়ো করার প্রয়োজন নেই। বাংলাদেশের পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবিরও বলেছেন, আলোচনা চলছে। তবে সফরের জন্য উভয় পক্ষের অনুকূল পরিবেশ প্রয়োজন এবং তা পারস্পরিক শ্রদ্ধার ভিত্তিতেই হতে হবে। ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী প্রশাসন এমন একটি পররাষ্ট্রনীতি অনুসরণ করে, যেটিকে ব্যাপকভাবে নয়াদিল্লির সঙ্গে আগের তুলনায় কম ঘনিষ্ঠ হিসেবে দেখা হয়। বাংলাদেশের দায়িত্বপ্রাপ্ত পররাষ্ট্রসচিব আসাদ আলম সিয়ামকে নয়াদিল্লিতে হাইকমিশনার হিসেবে পাঠানোর সিদ্ধান্ত দুই দেশের সম্পর্ককে বাস্তব গুরুত্ব দেয়ার ইঙ্গিত বহন করে।

জনসমর্থন ও নতুন বাংলাদেশের চ্যালেঞ্জ

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান নিজেকে এমন একজন নেতা হিসেবে তুলে ধরেছেন, যিনি প্রতিষ্ঠানগুলো পুনরুদ্ধার, জননিরাপত্তার উন্নতি এবং রাষ্ট্রের ওপর মানুষের আস্থা পুনর্গঠন করতে চান। তার নির্বাচনী প্রচারে নিম্ন আয়ের পরিবার, কৃষক, স্বাস্থ্যসেবা, শিক্ষা ও কর্মসংস্থানের জন্য অর্থনৈতিক ও সামাজিক পদক্ষেপের প্রতিশ্রুতি ছিল। প্রতিশোধের রাজনীতি দেশের কোনো উপকার করবে না বলেও তিনি বারবার যুক্তি দিয়েছেন। তার সরকার কেবল রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নয়, বরং দীর্ঘমেয়াদী অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে দেশের সাধারণ মানুষের জীবনমান উন্নয়নে বদ্ধপরিকর। এই লক্ষ্যে ভারতের সাথে বাণিজ্য চুক্তি ও নিরাপত্তা সহযোগিতার বিষয়টি একটি নতুন মাত্রায় নিয়ে যেতে চায় ঢাকা। ভারতও তার নিরাপত্তা ও উন্নয়ন এজেন্ডার অংশ হিসেবে বাংলাদেশকে একটি স্থিতিশীল অংশীদার হিসেবে পেতে আগ্রহী। সব মিলিয়ে, তারেক রহমানের এই সম্ভাব্য সফর কেবল কূটনৈতিক আনুষ্ঠানিকতা নয়, বরং দুই দেশের সম্পর্কে একটি বাস্তবসম্মত নতুন অধ্যায় শুরুর পরীক্ষা। তখন প্রতিষ্ঠানগুলো চাপের মুখে, অর্থনীতি গুরুতর সমস্যার সম্মুখীন এবং জনসাধারণের প্রত্যাশা তুঙ্গে।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা