মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ১০:১৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
বাংলাদেশের সঙ্গে কৌশলগত অংশীদারত্ব বাড়াতে অঙ্গীকার জাপানের প্রধানমন্ত্রীর রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: জাহেদ উর রহমান রাজবাড়ীতে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী নেতা, হামলাকারী শনাক্ত

যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকদের নামে জনপ্রিয় বাড়ছে মুহাম্মদ ও মরিয়ম

Reporter Name / ১২ Time View
Update : রবিবার, ২৫ অক্টোবর, ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্রে নবজাতকের জনপ্রিয় নামের তালিকায় মুসলিম ঐতিহ্যবাহী নামগুলোর উপস্থিতি ক্রমান্বয়ে বাড়ছে। ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বেবিসেন্টারের ২০২৬ সালের সদ্য প্রকাশিত প্রতিবেদন অনুযায়ী, গত দুই দশকে মুহাম্মদ ও মরিয়ম নামের ব্যবহার লক্ষণীয়ভাবে ঊর্ধ্বমুখী হয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বার্ষিক পরিসংখ্যানে মুহাম্মদ নামের অবস্থান কিছুটা নিম্নমুখী দেখা গেছে। যুক্তরাষ্ট্রে অভিবাসনের ধরন ও নাম রাখার পছন্দে পরিবর্তনের বিষয়টি এসব পরিসংখ্যানে প্রতিফলিত হতে পারে।

বেবিসেন্টারের তথ্যানুসারে, ২০২৬ সালে মুহাম্মদ নামটি জনপ্রিয়তার তালিকায় ৩৬তম অবস্থানে রয়েছে। গত বছর এর অবস্থান ছিল ১৯তম। তবে দীর্ঘমেয়াদী প্রবণতা বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, ২০০৫ সালে এই নামটি ২৫৮তম স্থানে ছিল। গত দুই দশকে প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে মুহাম্মদ নাম রাখার হার ৬৩৭ থেকে বেড়ে ৩ হাজার ৭৩৬ হয়েছে, যা প্রায় ৪৮৬ দশমিক ৫ শতাংশ বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়। ১৯৮০ সালে যুক্তরাষ্ট্রের মোট বিদেশে জন্ম নেওয়া জনসংখ্যার মধ্যে এই গোষ্ঠীর অংশ ছিল ৩ দশমিক ৬ শতাংশ।

মুহাম্মদ নামের জনপ্রিয়তার এই উল্লম্ফন যুক্তরাষ্ট্রে মুসলিম অভিবাসনের ধারার সঙ্গে সম্পর্কিত বলে ধারণা করা হচ্ছে। সেন্টার ফর ইমিগ্রেশন স্টাডিজের গবেষণা মতে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলো থেকে অভিবাসনের হার ২০০০ থেকে ২০২৪ সালের মধ্যে ১২৮ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। ২০০০ সালে এই অঞ্চলের প্রবাসীদের সংখ্যা যেখানে ১৮ লাখ ছিল, তা ২০২৪ সালে ৪১ লাখে পৌঁছেছে। এছাড়া মুসলিম প্রধান দেশগুলো থেকে বৈধভাবে যুক্তরাষ্ট্রে স্থায়ীভাবে বসবাসের সংখ্যাও আগের তুলনায় অনেক বেড়েছে। তবে মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের পরিসংখ্যান মানেই তারা সবাই মুসলিম—এমন নয়। ২০২৪ সালে তা বেড়ে ৮ দশমিক ২ শতাংশে পৌঁছায়। গবেষণায় আরো বলা হয়েছে, মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশগুলোতে জন্ম নেওয়া ব্যক্তিদের যুক্তরাষ্ট্রে বৈধ স্থায়ী বসবাসের অনুমতি দেওয়ার বার্ষিক সংখ্যাও ২০০০ অর্থবছরের ১ লাখ ২ হাজার ৩৬৫ থেকে বেড়ে ২০২৩ অর্থবছরে ১ লাখ ৮৫ হাজার ৭৩০ হয়েছে। ২০২৩ ও ২০২৪ সালে আবার ১৬তম স্থানে উঠে এলেও ২০২৫ সালে ১৯তম অবস্থানে ছিল।

অবশ্য সাম্প্রতিক অভিবাসন নীতিতে কিছু কঠোরতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪৫টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের জন্য ভিসা ও শরণার্থী গ্রহণের হার ২০২৪ সালের ডিসেম্বরের তুলনায় ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৯৬ শতাংশ হ্রাস পেয়েছে। এর প্রভাব ভবিষ্যতে পরিসংখ্যানে পড়তে পারে বলে মনে করা হচ্ছে। ক্যাটো ইনস্টিটিউটের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত এক বিশ্লেষণ অনুযায়ী, ৪৫টি মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ দেশের নাগরিকদের জন্য মাসিক অভিবাসী ভিসা প্রদান ও শরণার্থী গ্রহণের সংখ্যা ২০২৪ সালের ডিসেম্বরে ২১ হাজার ৯৬ থেকে কমে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ৮০৮-এ নেমে এসেছে। এই হিসাবে হ্রাসের হার ৯৬ শতাংশ।

নামটির জনপ্রিয়তা পর্যালোচনায় দেখা যায়, ২০১২ থেকে ২০১৯ সালের মধ্যে মুহাম্মদ নামের ব্যবহার সবচেয়ে দ্রুত বেড়েছে। ২০১২ সালে ১০২তম স্থানে থাকলেও ২০১৯ সালে এটি তালিকার দশম স্থানে উঠে আসে। ওই বছর প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে নামটির হার ছিল ৩ হাজার ৮৭২। এরপর ২০২০ পর্যন্ত এটি শীর্ষ ১৫-এর মধ্যে থাকলেও ২০২১ সালে ২৯তম এবং ২০২৬ সালে ৩৬তম স্থানে নেমে আসে। তবে ২০১০ সালের শুরুর সময়ের তুলনায় এর বর্তমান জনপ্রিয়তা এখনো বেশ উঁচুতে রয়েছে। এরপর ২০২১ সালে ২৯তম এবং ২০২২ সালে ৩৫তম অবস্থানে নেমে আসে।

মেয়েদের নামের ক্ষেত্রে মরিয়ম নামটি দীর্ঘমেয়াদে ব্যাপক জনপ্রিয়তা পেয়েছে। ২০১২ সালে এই নামটি তালিকার ৩১৩তম অবস্থানে থাকলেও ২০২৬ সালে তা ১৫১তম স্থানে উঠে এসেছে। একই সময়ে প্রতি ১০ লাখ শিশুর মধ্যে মরিয়ম নাম রাখার হার ৫৪৪ থেকে বেড়ে ১ হাজার ২৪৪-এ দাঁড়িয়েছে।

বেবিসেন্টার তাদের অ্যাপ ব্যবহারকারী অভিভাবকদের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে এই বার্ষিক তালিকা প্রস্তুত করে। ২০২৬ সালের তালিকায় প্রায় ৩ লাখ ৫০ হাজারেরও বেশি শিশুর নাম অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তবে এই তথ্য যুক্তরাষ্ট্রের সব শিশুর প্রতিনিধিত্ব করে না, যার ফলে সামাজিক নিরাপত্তা প্রশাসনের সরকারি পরিসংখ্যানের সঙ্গে বেবিসেন্টারের র‌্যাঙ্কিংয়ে কিছুটা পার্থক্য থাকা স্বাভাবিক।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা