মিশিগান অঙ্গরাজ্যে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির সিনেট প্রার্থী আবদুল এল-সাইয়েদকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছেন সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা। আগামী ৩ নভেম্বরের মধ্যবর্তী নির্বাচনে রিপাবলিকান প্রার্থী মাইক রজার্সের বিরুদ্ধে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন এল-সাইয়েদ। বিশ্লেষকদের মতে, এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। গত শনিবার ডেট্রয়টের ক্যাস টেকনিক্যাল হাইস্কুলে প্রায় ৪,৩০০ সমর্থকের উপস্থিতিতে আয়োজিত সমাবেশে ওবামা এল-সাইয়েদের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণা চালান। এই আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হবে বলে বিশ্লেষকরা আভাস দিয়েছেন। ওবামা বলেন, ‘এই সিনেমা আমরা আগেও দেখেছি। মিশিগানের পাশাপাশি শনিবার ওহাইয়ো অঙ্গরাজ্যের ক্লিভল্যান্ডেও প্রচারণা চালান ওবামা।
বক্তব্যে ওবামা এল-সাইয়েদের স্বাস্থ্যসেবা ও অর্থবহ পরিবর্তনের এজেন্ডার প্রশংসা করেন। ‘সীমান্তের ওপার থেকে টাকা আসে তো আপনি সরকারে আছেন কেন?’। ডেঙ্গু: একদিনে হাসপাতালে রেকর্ড ২২৪৯ ভর্তি, মৃত্যু ৭। আজ রোববার তুরস্কের বার্তাসংস্থা আনাদোলু এ তথ্য জানিয়েছে। বার্তাসংস্থা এএফপির প্রতিবেদন অনুযায়ী, বক্তব্যে ওবামা জীবনযাপনের ক্রমবর্ধমান খরচের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনকে দায়ী করেন।
তিনি বলেন, ‘আবদুল প্রকৃত পরিবর্তনের জন্য লড়ছেন, যা অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধের অবসান ঘটাবে।
২০১০ সালের অ্যাফোর্ডেবল কেয়ার অ্যাক্টের অসমাপ্ত কাজ এল-সাইয়েদ সম্পন্ন করবেন বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন। একইসঙ্গে এল-সাইয়েদের ধর্মীয় পরিচয় এবং মুসলিম ব্রাদারহুডের সঙ্গে সম্পর্কের বিষয়ে রিপাবলিকানদের তোলা অভিযোগ নাকচ করে দেন ওবামা। তিনি জানান, অতীতে তার নিজের রাজনৈতিক প্রচারণার সময়ও এমন মিথ্যা প্রচারণা চালানো হয়েছিল, যা আদতে কোনো কাজে আসেনি। রাজনীতিতে অর্থের প্রভাব কমানো এবং সাশ্রয়ী স্বাস্থ্যসেবার সুযোগ বাড়ানোর বিষয়ে এল-সাইয়েদের প্রস্তাবেরও প্রশংসা করেন ওবামা। ২০০৭ ও ২০১১ সালে নিজের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনী প্রচারণার সময় তার পরিচয় ও ধর্ম নিয়ে ছড়ানো মিথ্যা দাবির সঙ্গে এল-সাইয়েদের বিরুদ্ধে চালানো আক্রমণের মিল খুঁজে পেয়েছেন বলে জানান ওবামা। তিনি যোগ করেন, ‘এসব আমার ক্ষেত্রে কাজ করেনি।
ক্লিভল্যান্ড ও ডেট্রয়টের সমাবেশে বর্তমান প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ও তার প্রশাসনের তীব্র সমালোচনা করেন ওবামা। তিনি ট্রাম্পের ইরান নীতি নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, ‘বর্তমান প্রেসিডেন্ট একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন, যা কারও কাম্য নয়।’ গত দুই বছরের শাসনকালকে বিশৃঙ্খলা, দুর্নীতি ও অযোগ্যতার সময়কাল হিসেবে উল্লেখ করে ওবামা ভোটারদের পরিবর্তনের আহ্বান জানান। ক্লিভল্যান্ডে ওবামা বলেন, ‘বর্তমান প্রেসিডেন্ট ধারাবাহিকভাবে একের পর এক ভুল সিদ্ধান্ত নিয়ে যাচ্ছেন। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো, তিনি একটি অপ্রয়োজনীয় যুদ্ধ শুরু করেছেন, যেটা কারও কাম্য নয়।
ওবামার বক্তব্যের প্রতিক্রিয়ায় জর্জিয়ার পেরিতে রিপাবলিকানদের এক সমাবেশে ট্রাম্প সাবেক এই প্রেসিডেন্টের চেহারা ও ডেট্রয়টের সমাবেশের উপস্থিতি নিয়ে উপহাস করেন।
ট্রাম্প দাবি করেন যে, তিনি দেখেছেন ওবামা মিশিগানে যেখানে গিয়েছিলেন, সেখানে সমর্থক সংখ্যা ছিল নগণ্য। মিশিগানে আবদুলের ক্ষেত্রেও এগুলো কাজ করবে না।
এদিকে, আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে অন্য এক ঘটনায় ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাতের জের ধরে ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, হয় ইরানে হামলা চালানো হবে, নতুবা নতুন চুক্তি করতে হবে।
এছাড়া ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী নেতানিয়াহুর নির্বাচনী প্রচারণায় বটের ব্যবহার এবং প্রতিপক্ষকে এআই প্রযুক্তির মাধ্যমে আক্রমণের অভিযোগও সামনে এসেছে।