খেলোয়াড়দের মাদক ও ডিজিটাল ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে সরিয়ে সুস্থ জাতি গঠনের লক্ষ্যে নতুন কুঁড়ি স্পোর্টসের দ্বিতীয় আসর আয়োজন করতে যাচ্ছে সরকার। যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী আমিনুল হক জানিয়েছেন, আগামী ৫ নভেম্বর খুলনা জেলা স্টেডিয়াম থেকে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা দেশের ৫০৩টি উপজেলায় একযোগে এই ক্রীড়া প্রতিযোগিতার উদ্বোধন করবেন। রোববার খুলনা জেলা স্টেডিয়াম পরিদর্শন শেষে তিনি এ তথ্য নিশ্চিত করেন। একই সঙ্গে শিশু-কিশোরদের ডিভাইসের আসক্তি থেকে দূরে রেখে তৃণমূলের প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের বিকাশের সুযোগ তৈরি করা হবে।
এবারের আসরকে ঘিরে ব্যাপক সাড়া পাওয়া গেছে। প্রতিমন্ত্রী জানান, অনলাইনে এবার মোট ১৬ লাখ ২৩ হাজার প্রতিযোগী নিবন্ধন করেছেন, যার মধ্যে প্রায় ১৪ লাখ ক্রীড়াবিদ প্রতিযোগিতায় অংশ নেবেন বলে আশা করা হচ্ছে। প্রথম আসরে নিবন্ধিত প্রতিযোগীর সংখ্যা ছিল মাত্র ১ লাখ ৬৮ হাজার। প্রতিযোগিতার প্রাথমিক ধাপ দেশের ৪ হাজার ৫৯৯টি ইউনিয়নে দল গঠনের মধ্য দিয়ে শুরু হবে। এরপর ইউনিয়ন থেকে উপজেলা, জেলা ও বিভাগীয় পর্যায় পেরিয়ে চূড়ান্ত জাতীয় প্রতিযোগিতা অনুষ্ঠিত হবে, যা আগামী বছরের মে বা জুন মাসের মধ্যে শেষ করার লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে। এবার তা বেড়ে ১৬ লাখ ২৩ হাজারে পৌঁছেছে।
প্রতিভাবান খেলোয়াড়দের পরিচর্যার বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রথম আসর থেকে উঠে আসা সম্ভাবনাময় ক্রীড়াবিদদের বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে (বিকেএসপি) ৪০ দিনের প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে। প্রশিক্ষণ শেষে বাছাইকৃতদের স্থায়ীভাবে বিকেএসপিতে ভর্তি করা হবে, যেখানে তাদের শিক্ষা ও খেলাধুলার দায়িত্ব সরকার বহন করবে। এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় দেশের সব বিকেএসপিকে স্বয়ংসম্পূর্ণ করার পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। এর অংশ হিসেবে আগামী জানুয়ারি থেকে খুলনা বিকেএসপির সক্ষমতা বৃদ্ধির কাজ শুরু হবে। খেলাধুলার মাধ্যমে সামাজিক ব্যবস্থায় গুণগত পরিবর্তন এনে সুস্থ জাতি ও মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়তে চায় সরকার। এ উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে খুলনা বিভাগের শিক্ষার্থীরা নিজ এলাকায় থেকেই পড়াশোনা ও খেলাধুলার সুযোগ পাবেন।
খুলনার ক্রীড়া অবকাঠামো উন্নয়নে সরকার বিশেষ নজর দিয়েছে জানিয়ে আমিনুল হক বলেন, খুলনা জেলা স্টেডিয়ামের গ্যালারির অর্ধেকের বেশি অংশ বর্তমানে ব্যবহারের অনুপযোগী। এটিকে পূর্ণাঙ্গ স্টেডিয়ামে রূপ দিতে দ্রুত গ্যালারি নির্মাণের কাজ শুরু করা হবে। এছাড়া জরাজীর্ণ মহিলা ক্রীড়া কমপ্লেক্সের সংস্কারসহ অন্যান্য ক্রীড়া স্থাপনার মানোন্নয়নে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।
প্রধানমন্ত্রীর সফর ও উদ্বোধনী অনুষ্ঠান সফল করতে মাঠ প্রস্তুত এবং ব্যাপক প্রচারণার কাজ চলছে বলে প্রতিমন্ত্রী জানিয়েছেন। তিনি আরও বলেন, স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্সসহ সংশ্লিষ্ট সব সংস্থার সমন্বয়ে নিশ্ছিদ্র নিরাপত্তা নিশ্চিত করার প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এ সময় অন্যদের মধ্যে জাতীয় সংসদের হুইপ রকিবুল ইসলাম, কেসিসি প্রশাসক নজরুল ইসলাম মঞ্জু, জেলা পরিষদের প্রশাসক মনিরুল হাসান বাপ্পি, জেলা প্রশাসক হুরে জান্নাতসহ ক্রীড়া সংগঠক ও প্রশাসনের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।