মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর ২০২৬, ০৯:২৯ অপরাহ্ন
শিরোনাম
রিজভীর: আইজিপি সরকারের অংশ হয়ে ক্রসফায়ারের কথা সাগর-রুনি হত্যায় জিয়াউল ও রোকেয়া প্রাচীর সম্পৃক্ততার আভাস, মিলল বাড়তি সময় বকেয়া বেতনের দাবিতে উত্তাল চালডালের যশোর অফিস মাদুশাঙ্কার দুর্দান্ত বোলিংয়ে ত্রিদেশীয় সিরিজের ফাইনালে শ্রীলঙ্কা আইজিপির বক্তব্য সরকারকে বিব্রত করবে: রুহুল কবির রিজভী নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা দেশে ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ জনের মৃত্যু, মোট প্রাণহানি ৪০০ আইজিপির বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী: জাহেদ উর রহমান রাজবাড়ীতে প্রকাশ্যে গুলিবিদ্ধ ব্যবসায়ী নেতা, হামলাকারী শনাক্ত ছাত্রদল নেতা শাকিল হত্যায় এমপির ছেলেকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ

নিয়মিত বাগান করলে কমে মৃত্যুঝুঁকি, বলছে নতুন গবেষণা

Reporter Name / ৪ Time View
Update : মঙ্গলবার, ২৭ অক্টোবর, ২০২৬

গাছের যত্ন নেওয়া, মাটি খুঁড়ে চারা রোপণ কিংবা শুকনো পাতা ছাঁটার মতো কাজগুলো কেবল শখের বিষয় নয়, এগুলো শারীরিক ও মানসিকভাবে সুস্থ থাকার একটি সহজ উপায়। সম্প্রতি বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, বাগান করার সঙ্গে ভালো ঘুম, স্মৃতিশক্তি ও দীর্ঘ জীবনের ইতিবাচক সম্পর্কের যোগসূত্র রয়েছে। ৫ বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ, বিতর্কের কারণেই আলোচনায় বেশি। ডেঙ্গুতে একদিনে সর্বোচ্চ ১১ মৃত্যু, মোট ৪০০। ৫ ঘণ্টায় ৫৩ বছরের রেকর্ড ভাঙলেন ইসরায়েলি ভোটাররা। একটি ছোট্ট বীজ থেকে চারা গজাচ্ছে, গাছে ফুটছে নতুন ফুল; এ দৃশ্য মন ভালো করে দেয়। ন্যাশনাল জিওগ্রাফিকের প্রতিবেদনে বলা হয়, গাছ লাগানো, মাটি খোঁড়া, টব সরানো কিংবা শুকনো ডাল ছাঁটার সময় শরীরের নানা পেশি কাজ করে। এতে শরীরের স্বাভাবিক পুনরুদ্ধারপ্রক্রিয়া ব্যাহত হয়। কিন্তু বাগান করলে কারো কারো এই সমস্যার সমাধান হয়।

যুক্তরাষ্ট্রের চিকিৎসক ও কোয়েন মেডিক্যালের সহপ্রতিষ্ঠাতা হিউ কোয়েন জানান, বাগান করার সময় দীর্ঘক্ষণ ধরে হালকা শারীরিক পরিশ্রম হয়, যা হৃদযন্ত্রের সুরক্ষায় কাজ করে। এছাড়া একই কাজ বারবার করার মাধ্যমে মানসিক চাপ ও উদ্বেগ কমে। গাছের যত্ন ও নতুন ফুল ফুটতে দেখার আনন্দ বিষণ্ণতা মোকাবিলায় সহায়ক হয় বলে তিনি মনে করেন। মাও সেতুংকে নিয়ে মন্তব্যের জেরে ক্ষমা চাইলেন এমবাপে, দুঃখ প্রকাশ লা লিগার।

স্নায়ুবিজ্ঞানী ও প্ল্যান্ট উইজডম প্রজেক্টের প্রতিষ্ঠাতা মেরিয়ন ওবারহুবার বলেন, প্রকৃতির সান্নিধ্য শরীরের বিশ্রাম ও পুনরুদ্ধারের সঙ্গে যুক্ত স্নায়ুতন্ত্রকে সক্রিয় করে তোলে। বাগান করার সময় গাছের রং দেখা, মাটির গন্ধ নেওয়া এবং পাতার স্পর্শ—এসবের মাধ্যমে একাধিক ইন্দ্রিয় একসঙ্গে সক্রিয় হয়ে ওঠে, যা মনকে শান্ত রাখে।

বয়স্কদের ওপর বাগানভিত্তিক থেরাপির প্রভাব নিয়ে ২০২৫ সালে ‘বায়োইনফরমেশন’ সাময়িকীতে একটি গবেষণা প্রকাশিত হয়। গুজরাটের ৫০ জন বয়স্ক ব্যক্তিকে নিয়ে চালানো এই ছয় সপ্তাহের পরীক্ষায় দেখা গেছে, বাগান করার ফলে তাদের ঘুমের মানে উল্লেখযোগ্য উন্নতি ঘটেছে। স্নায়ুবিজ্ঞান গবেষক মিয়া সোভিয়েরো জানান, দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপের কারণে শরীরে কর্টিসল হরমোনের মাত্রা বেড়ে গেলে ঘুমের ব্যাঘাত ঘটে, যা বাগান করার মাধ্যমে অনেকের ক্ষেত্রে দূর হতে পারে।

স্মৃতিশক্তি ও মানসিক স্বাস্থ্য রক্ষায় বাগানের ভূমিকা নিয়ে ২০২৪ সালে ‘পাবলিক হেলথ’ সাময়িকীতে একটি বড় গবেষণা প্রকাশিত হয়। চীনের ৮ হাজার ৬৭৬ জন বয়স্ক মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করে গবেষকরা দেখেছেন, যারা নিয়মিত বাগানের কাজ করেন, তাদের মধ্যে ডিমেনশিয়ার ঝুঁকি যারা বাগান করেন না তাদের তুলনায় ২৮ শতাংশ কম। ডিমেনশিয়ায় মানুষের স্মৃতি ও চিন্তাশক্তি ধীরে ধীরে হ্রাস পায়।

একই বছরে প্রকাশিত আরও ৪০টি গবেষণার পর্যালোচনায় উঠে এসেছে যে, বাগান করা ও বাগানভিত্তিক থেরাপি জীবনযাপনের মান উন্নত করতে এবং মানসিক প্রশান্তি বজায় রাখতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। বিশ্লেষণ / ইসরায়েলের নির্বাচনকে ‘সবার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ’ বলা হচ্ছে কেন।

এছাড়া মাটির কিছু অণুজীব শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা ও প্রদাহ নিয়ন্ত্রণে প্রভাব ফেলে বলে ধারণা করা হচ্ছে। একটি ছোট পরীক্ষায় দেখা গেছে, মাটি স্পর্শ করার পর রক্তে সেরোটোনিনের মাত্রা বাড়ে, যা মেজাজ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। তবে সাধারণ বাগানের মাটি থেকে সরাসরি মস্তিষ্কে এই প্রভাব পড়ে কিনা, তা নিয়ে আরও গবেষণা প্রয়োজন। গাছ ও মাটির সংস্পর্শে আসার সম্ভাব্য উপকার নিয়েও গবেষণা চলছে। সেরোটোনিন মেজাজ নিয়ন্ত্রণের সঙ্গে সম্পর্কিত একটি রাসায়নিক।

দীর্ঘমেয়াদী এক গবেষণায় বাগান করার সাথে দীর্ঘ জীবনের সম্পর্ক নিশ্চিত হয়েছে। ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘জার্নাল অব এনভায়রনমেন্ট সাইকোলজি’ সাময়িকীতে প্রকাশিত গবেষণায় ৪৭৫ জন বয়স্ক মানুষের ২৫ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়েছে। গবেষণায় দেখা যায়, যারা নিয়মিত বাগান করেন, তাদের অকাল মৃত্যুঝুঁকি যারা করেন না তাদের তুলনায় ২২ শতাংশ কম। ২৫ বছরের তথ্যের ভিত্তিতে গবেষকেরা দেখেছেন, যারা নিয়মিত বাগান করতেন তাদের মৃত্যুঝুঁকি ২২ শতাংশ কম ছিল (বাগান খুব কম করেন বা করেন না এমন ব্যক্তিদের তুলনায়)। টানা ৬৯ দিন সূর্য ডোবে না যে দ্বীপে, সেখানে সময়ের হিসাব কতটা জরুরি।

গবেষকরা আরও দেখেছেন, নিয়মিত বাগানকারীদের ক্রোমোজোমের প্রান্তে থাকা সুরক্ষামূলক অংশ বা টেলোমিয়ার তুলনামূলক দীর্ঘ থাকে। বয়স বাড়ার সঙ্গে এই টেলোমিয়ার সাধারণত ছোট হয়ে আসে। অর্থাৎ, গাছের সঙ্গে নিয়মিত সময় কাটানো কেবল মনের আনন্দই নয়, বরং শরীরকে দীর্ঘসময় সচল ও সুরক্ষিত রাখার একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি। তবে গবেষণাগুলোর পদ্ধতি ও ফলাফলে পার্থক্য ছিল।


আপনার মতামত লিখুন :

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

More News Of This Category

ফেসবুকে আমরা