ইসরাইলের সাধারণ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শেষে গণনা কার্যক্রম চলছে। এখন পর্যন্ত ৪১ শতাংশ ভোট গণনা সম্পন্ন হয়েছে, যেখানে ক্ষমতাসীন প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে রয়েছে। নির্বাচন পরবর্তী সময়ে লিকুদ পার্টির কার্যালয়ে উপস্থিত সমর্থকদের উদ্দেশ্যে বক্তব্য দেন তিনি। নেতানিয়াহু দাবি করেন, তাদের দল নির্বাচনে একক বৃহত্তম শক্তি হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে এবং সাধারণ ইহুদি জনগণের রায়ে ডানপন্থি জোট সুস্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা লাভ করেছে। এই সাফল্যের ওপর ভিত্তি করে দেশে একটি শক্তিশালী জাতীয়তাবাদী ডানপন্থি প্রশাসন গঠনের জোর দাবি জানান তিনি।
বক্তব্যকালে আরব দলগুলোর কঠোর সমালোচনা করে নেতানিয়াহু বলেন, যেসব রাজনৈতিক দল ইসরাইলি রাষ্ট্রের অস্তিত্ব স্বীকার করে না এবং প্রতিরক্ষা বাহিনীকে যুদ্ধাপরাধী হিসেবে আখ্যা দেয়, সরকার গঠনে তাদের সহায়তার ওপর নির্ভর করা সম্পূর্ণ অনুচিত। এমন পদক্ষেপ দেশের নিরাপত্তার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি। নেতানিয়াহুর মতে, কেবল ইহুদি ও জায়নবাদী রাজনৈতিক ধারার ঐক্যই ইসরাইলের ভবিষ্যৎ নিরাপদ রাখতে সক্ষম। আরব দলগুলোকে নিয়ে কোনোভাবেই সরকার গঠন করা যাবে না।
সামরিক তৎপরতার প্রসঙ্গ টেনে ইসরাইলি প্রধানমন্ত্রী জানান, তার দেশের পদক্ষেপে মধ্যপ্রাচ্যের ভৌগোলিক ও রাজনৈতিক চিত্র বদলে গেছে। দেইফ, হানিয়া, সিনওয়ার, নাসরুল্লাহ এবং খামেনির মতো ব্যক্তিত্বদের প্রসঙ্গ উল্লেখ করে তিনি দাবি করেন, গাজা, লেবানন ও সিরিয়া অঞ্চলে নতুন নিরাপত্তা বলয় গড়ে তুলে দেশকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করা সম্ভব হয়েছে। তবে তেহরানের বর্তমান শাসনব্যবস্থা ক্ষমতায় থাকা পর্যন্ত ইসরাইলকে বিনাশ করার চক্রান্ত অব্যাহত থাকবে বলে তিনি উল্লেখ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্পের সহযোগিতায় ইরানের এই অস্তিত্বগত হুমকি স্থায়ীভাবে নিরাসনের জন্য এটিই উপযুক্ত ও ঐতিহাসিক মুহূর্ত বলে মন্তব্য করেন নেতানিয়াহু। বক্তব্য শেষে ভোটার, সামরিক সদস্য এবং পরিবারের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান তিনি। তিনি বলেন, ইসরাইল সাহসিকতার সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চেহারা বদলে দিয়েছে।